বিয়ের সাজে সেজে উঠতে পার্লারে গিয়েছিলেন কনে, তারপরেই ছড়িয়ে পড়ল তাঁর মৃত্যুর খবর; তদন্ত করতে গিয়ে যা বেরিয়ে এল… চমকে গিয়েছেন দুঁদে অফিসাররাও

বিয়ের সাজে সেজে উঠতে পার্লারে গিয়েছিলেন কনে, তারপরেই ছড়িয়ে পড়ল তাঁর মৃত্যুর খবর; তদন্ত করতে গিয়ে যা বেরিয়ে এল… চমকে গিয়েছেন দুঁদে অফিসাররাও

Wedding Called off in UP : আপাতত মুজফ্ফরনগর পুলিশ জেরা করছে ওই পাত্রীকে এবং গোটা ঘটনাটিও খতিয়ে দেখছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুজফ্ফরনগরের নতুন মান্ডি কোতওয়ালি এলাকার নাথ ম্যারেজ লনে এই কাণ্ড ঘটেছে। পাত্রও ওই শহরের বাসিন্দা। পাত্রীর পরিবার সেখানে এসেছিল ঝাঁসি থেকে।

UP News :
বিয়ের সাজে সেজে উঠতে পার্লারে গিয়েছিলেন কনে, তারপরেই ছড়িয়ে পড়ল তাঁর মৃত্যুর খবর; তদন্ত করতে গিয়ে যা বেরিয়ে এল

বিনেশ পাওয়ার, মুজফ্ফরনগর: এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা উত্তর প্রদেশের মুজফ্ফরনগরে। আসলে নিজের বিয়ের দিন হার্ট অ্যাটাকে মারা যাওয়ার ভান করে বন্ধুর সঙ্গে চম্পট দিলেন চিকিৎসক পাত্রী। এরপরে অবশ্য ঝাঁসির কাছে একটি আশ্রম থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আপাতত মুজফ্ফরনগর পুলিশ জেরা করছে ওই পাত্রীকে এবং গোটা ঘটনাটিও খতিয়ে দেখছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মুজফ্ফরনগরের নতুন মান্ডি কোতওয়ালি এলাকার নাথ ম্যারেজ লনে এই কাণ্ড ঘটেছে। পাত্রও ওই শহরের বাসিন্দা। পাত্রীর পরিবার সেখানে এসেছিল ঝাঁসি থেকে।

পুলিশ জানিয়েছে যে, নাই মান্ডি থানা এলাকার শান্তি নগরের বাসিন্দা ডা. ভরত ভূষণের পুত্র বিজয় ভূষণের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার কথা ছিল ঝাঁসির বাসিন্দা সুষমা শর্মার। বিয়ের আসর বসেছিল মুজফ্ফরনগরের নাথ ফার্মে। ছাদনাতলায় যাওয়ার আগে সাজসজ্জার জন্য কনে সুষমা গিয়েছিলেন বিউটি পার্লারে। সেখান থেকেই হার্ট ফেলিওরে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছিল। ফলে বিয়ে উপলক্ষে আনন্দের পরিবেশ বদলে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। কনের মৃত্যুর খবর পেয়েই তাঁর পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করে পুলিশ। এরপর পরিবারের সদস্যরা বারবার বদলাতে থাকেন নিজেদের বয়ান।

এরপর কনের দেহ ময়নাতদন্ত করার কথা বলে পুলিশ। কিন্তু মুখের উপর তা নাকচ করে দেয় কনের পরিবার। এমনকী দেহ দেখাতেও অস্বীকার করা হয়। এতেই পুলিশের সন্দেহ দানা বাঁধে। বিউটি পার্লারের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, এক বান্ধবীর সঙ্গে রয়েছেন চিকিৎসক পাত্রী। এরপরেই তল্লাশি অভিযান শুরু করে পুলিশ। তাতেই ঝাঁসির কাছে একটি আশ্রম থেকে কনে সুষমাকে উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে যে, হার্ট অ্যাটাকের বাহানা দিয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে পালানোর ছক কষেছিল সুষমা। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রে আর কেউ যুক্ত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর চম্পট দেওয়ার পিছনে থাকা কারণও খুঁজে বার করার চেষ্টা চলছে। গোটা শহরে এই ঘটনার রীতিমতো চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। খুব শীঘ্রই এই রহস্যের পর্দা ফাঁস করবে পুলিশ। মুজফ্ফরনগর পুলিশের বক্তব্য, কনের অপহরণ হয়েছে বলে পুলিশে অভিযোগ করেছিল তাঁর পরিবার। এরপরে পুলিশ কনে সুষমাকে উদ্ধার করে।

জিজ্ঞাসাবাদের পর কনে সুষমার বয়ান রেকর্ড করার জন্য তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়। এই প্রসঙ্গে সিও নিউ মান্ডির সিও রূপালি রাও বলেন, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নিউ মান্ডি থানায় এক কনের অপহরণের অভিযোগ আসে। সেই অভিযোগ পেয়েই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তারপরেই তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ খুঁজে বার করেছে কনেকে।