
কলকাতা: মহাকুম্ভ আয়োজনে অব্যবস্থার অভিযোগে সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলনেত্রীর উল্টো সুর দলেরই সদস্য সুজাতা মণ্ডলের। ‘কোনও অব্যবস্থার সম্মুখীন হইনি। ৭০ কোটি মানুষের মধ্যে কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে। পূণ্য অর্জন করতে গিয়ে মানুষের মৃত্যু দুঃখজনক। আমার দলের কর্মী থেকে নেতৃত্ব পর্যন্ত প্রচুর মানুষও গিয়েছেন। মহাকুম্ভতে যেতে দলের থেকে তো বারণ করা হয়নি। তারপরও যারা লুকোচ্ছেন তা তাঁদের ব্যক্তিগত বিষয়’, মন্তব্য তৃণমূল নেতা সুজাতা মণ্ডলের।
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মৃত্যুকুম্ভ মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় জাতীয় রাজনীতিতে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা জবাব দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন,’ মহাকুম্ভ আমি নাই বা বললাম। ওটা এখন মৃত্যুকুম্ভ হয়ে গেছে।’ মহাকুম্ভে বিপর্যয় এবং পুণ্য়ার্থীদের মৃত্য়ু নিয়ে, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মন্তব্য় রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলেছে! যা নিয়ে একযোগে আক্রমণে নেমেছেন যোগী আদিত্য়নাথ থেকে শিবরাজ সিং চৌহানের মতো নেতারা! মঙ্গলবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে, কুম্ভে অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে সুর চড়ান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্য়মন্ত্রী বলেছিলেন,’আমি মহাকুম্ভকে সম্মান করি। আমি শ্রদ্ধা জানাই। কিন্তু পরিকল্পনা না করে, এত হাইপ তুলে, এত লোকের মৃত্য়ু! বললেন ৩০ জন। কথাটা কি সঠিক? কত মৃতদেহ ভাসিয়ে দিয়েছেন নদীতে? কত? হাজার-হাজার। আটবার আগুন লেগেছে। মৃতদেহের ওপর দিয়ে যাঁরা এই হাইপ তুলছেন, আর টাকা কামানোর জন্য় ধর্মকে বিক্রি করছেন, তাঁদের আমি মন থেকে মেনে নিতে পারি না।’
এরপরেই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের তীব্র সমালোচনায় সরব হন যোগী আদিত্যনাথ। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মন্তব্যকে সমর্থন করলেন অখিলেশ যাদব। এই বাগযুদ্ধের আবহে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করলেন জ্য়োতির্পীঠের শঙ্করাচার্যও। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলনেত্রীকে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন যোগী আদিত্যনাথ। ANI সংবাদ সংস্থা সূত্রে খবর, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, সনাতনের আয়োজনকে ওদের ফালতু মনে হয়। আর এদের এক সহযোগী এর চেয়ে আরও ২ পা এগিয়ে বলেন যে মহামকুম্ভ মৃত্যুকুম্ভে পরিণত হয়েছে। এটা কী! এই ধরণের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস, আরজেডি ও তৃণমূলের নেতারা সনাতন ধর্মের সবচেয়ে বড় আয়োজন নিয়ে করছেন। আস্থাকে সম্মান দিয়ে আয়োজন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কি অপরাধ? যদি সেটা অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের সরকার সেই অপরাধ করছে এবং ভবিষ্যতেও করবে।’
(Feed Source: abplive.com)
