ট্রাম্পের সঙ্গে তর্ক করার শাস্তি? ইউক্রেনকে সব সামরিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করছে আমেরিকা

ট্রাম্পের সঙ্গে তর্ক করার শাস্তি? ইউক্রেনকে সব সামরিক সাহায্য দেওয়া বন্ধ করছে আমেরিকা

ওয়াশিংটন ডিসি : হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসের তর্কাতর্কির জের গড়াল বহুদূর। হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার নিলেন বড় সিদ্ধান্ত। ইউক্রেনকে কোণঠাসা করতে  সমস্ত সামরিক সহায়তা বন্ধের নির্দেশ দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ইউক্রেনের রাষ্ট্রপতি ভলোদিমির জেলেনেস্কির সঙ্গে ওভাল অফিসে তর্কাতর্কির কয়েকদিনের মধ্যেই এই আদেশ জারি করল হোয়াইট হাউস, খবর সূত্রের।  হোয়াইট হাউসের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক আধিকারিক সূত্রে খবর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট  স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন,  তিনি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর। তাঁর দৃষ্টি আপাতত সেই দিকেই নিবদ্ধ থাকবে। তাই  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় ইউক্রেনের মানসিকতাও সেটাই হোক।  তাই শান্তি ফেরাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আপাতত ইউক্রেনকে আর সামরিক সাহায্য করবে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিক এই কথা জানিয়েছেন বলে দাবি সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সের।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি , জানিয়েছে রয়টার্স। জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার  পর থেকেই  ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার বিষয়ে পূর্বতন মার্কিন নীতির বিরোধিতা করে আসছেন। গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে জেলেনেস্কির সঙ্গে আলোচনায় ট্রাম্প বারবার যুদ্ধ থামানোর উপর জোর দেন। সেই সঙ্গে জেলেনেস্কিকে সতর্ক করেন, ‘আপনার নীতি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইন্ধন জোগাচ্ছে। ‘ ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে সোজাসুজি বলে দেন, তাদের আমেরিকার  প্রতি আরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। ইউক্রেন প্রেসিডেন্টও স্পষ্ট করে দেন , তারা আমেরিকার প্রতি কৃতজ্ঞ, তবে যুদ্ধ থেকে সরে যাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

হোয়াইট হাউসের সূত্রে খবর,  জেলেনস্কি এবং ইউক্রেন  শান্তি ফেরানোর প্রতি আগ্রহ না দেখানো পর্যন্ত ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছেন যে শান্তি প্রচেষ্টার অগ্রগতি না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনকে কোনও সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে না। এর মধ্যে বিমান, জাহাজ এবং অস্ত্র সরবরাহও অন্তর্ভুক্ত।

তিন বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। পূর্বতন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জমানায় আমেরিকাকে পাশে পেয়েছিল ইউক্রেন। কিন্তু হোয়াইট হাউসে পালাবদলের পর থেকেই সেই সমীকরণ বদলাতে শুরু করে। রুশ-ইউক্রেন ম্যারাথন সংঘাতে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছায়া দেখতে পাচ্ছেন বলে জানান ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সপ্তাহের ওভাল অফিসে আয়োজিত বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে তীব্র বিবাদে জড়ান ট্রাম্প। জেলেনস্কিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প  জেলেনেস্কিকে বলে দেন আর্থিক ও সামরিক সহযোগিতা না থাকলে ইউক্রেন রাশিয়ার সামনে ২ সপ্তাহও টিকতে পারত না ! তার দাবি কতটা সত্যি, তা বোঝাতেই কি এবার সব সামরিক সাহায্য বন্ধ করলেন ট্রাম্প ? এখন আমেরিকা সামরিক সহযোগিতা স্থগিত করে দেওয়ার পর জেলেনস্কি সংঘর্ষ বিরতি চুক্তিতে রাজি হন কিনা সেটাই দেখার।

(Feed Source: abplive.com)