ট্রেনে ব্ল্যাঙ্কেট আর বেডশিট বিলি করছিল কোচ অ্যাটেন্ডেন্ট, আচমকাই হানা দিল GRP ! আইডি দেখতে চাইতেই কামরা জুড়ে হুলুস্থুলু কাণ্ড

ট্রেনে ব্ল্যাঙ্কেট আর বেডশিট বিলি করছিল কোচ অ্যাটেন্ডেন্ট, আচমকাই হানা দিল GRP ! আইডি দেখতে চাইতেই কামরা জুড়ে হুলুস্থুলু কাণ্ড

Indian Railways News: ট্রেনের ভিতর বেডশিট এবং ব্ল্যাঙ্কেট বিতরণ করছিলেন কোচ অ্যাটেন্ডেন্ট। ইতিমধ্যেই আচমকা হানা দিল জিআরপি। আর তাদের ওভাবে হুড়মুড়িয়ে আসতে দেখে রীতিমতো হকচকিয়ে গিয়েছিলেন যাত্রীরাও।

ট্রেনে ব্ল্যাঙ্কেট আর বেডশিট বিলি করছিল কোচ অ্যাটেন্ডেন্ট, আচমকাই হানা দিল GRP !

লখনউ: অমৃতসর থেকে জয়নগরের উদ্দেশ্যে ছুটছিল অমৃতসর-জয়নগর এক্সপ্রেস। পথে পেরোচ্ছিল উত্তপ্রদেশের হরদোই স্টেশন। এদিকে ট্রেনের ভিতর বেডশিট এবং ব্ল্যাঙ্কেট বিতরণ করছিলেন কোচ অ্যাটেন্ডেন্ট। ইতিমধ্যেই আচমকা হানা দিল জিআরপি। আর তাদের ওভাবে হুড়মুড়িয়ে আসতে দেখে রীতিমতো হকচকিয়ে গিয়েছিলেন যাত্রীরাও। কামরায় এসেই সটান ওই অ্যাটেন্ডেন্টের কাছে চলে আসেন জিআরপি জওয়ানরা। তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। এমনকী, অ্যাটেন্ডেন্টের কাছে আইডি কার্ডও দেখতে চান। আর তার নাম দেখেই ট্রেনের কামরা জুড়ে শুরু হয়ে যায় দৌড়াদৌড়ি। এরপর কোচ থেকে নামিয়ে আনা হয় ওই অ্যাটেন্ডেন্টকে।

লখনউয়ের সুপারিন্টেন্ডেস্ট অফ রেলওয়ে পুলিশ প্রশান্ত কুমার বলেন যে, ট্রেনে চুরি-চামারি রুখতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালায় জিআরপি। আর সেই অভিযানেই ধরা পড়ে অপরাধীরা। আর এতে তুমুল সাফল্য পেয়েছে জিআরপি। যেসব অপরাধীরা ট্রেনে চুরি করে, তারাও জিআরপি-র জালে পড়ে। শুধু তা-ই নয়, এই অভিযানে মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয় এবং তা মালিকের হাতেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

এক ইনফর্মারের থেকে তথ্য পেয়েছিল জিআরপি। তারা জানতে পেরেছিল যে, ১৪৬৭৩ অমৃতসর জয়নগর এক্সপ্রেস থেকে মোবাইল চুরি যাচ্ছে। আর এই তথ্য পেয়েই ২ মার্চ তদন্ত শুরু করে জিআরপি টিম। আর অভিযানে নেমেই অভিযুক্ত সঞ্জীব কুমার গাঙ্গওয়ারকে পাকড়াও করা হয়। পিলিভীটের বিশালপুর জেলার চাঁদপুরা থানা এলাকার বাসিন্দা সুরেশচন্দ্র গাঙ্গওয়ারের পুত্র সে। অভিযুক্তের বয়স ২১ বছরের পাশাপাশি। তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫ (বি)/ ৩১৭ (২) ধারায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানিয়েছে যে, “রেলে আমি কোচ অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করি। আর আমি বেডশিট এবং ব্ল্যাঙ্কেট দেওয়ার সময় কাকে নিজের শিকার বানাব, সেটা চিহ্নিত করে রাখতাম। আর তারপর যাত্রীদের কাছ থেকে মালপত্র, নগদ টাকা এবং মোবাইল ফোন চুরি করতাম। আর আমি যেহেতু অ্যাটেন্ডেন্ট ছিলাম, তাই যাত্রীরা আমায় সন্দেহ করত না।”

জিজ্ঞাসাবাদের সময় সে এ-ও জানায় যে, দীর্ঘ সময় ধরেই এই কাজ করছে সে। আর খুব কম দামেই চুরি করা মোবাইল অন্যান্যদের কাছে বিক্রি করে দিত সে। আর সেই টাকা দিয়ে নিজের ইচ্ছা পূরণ করত। আপাতত জিআরপি গ্রেফতার করেছে তাকে।