
West Bengal news: দুর্মূল্যের বাজারে আজও মাত্র ১০ টাকায় চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে রোগীদের সুস্থ করে তোলেন গরিবের এই ডাক্তার। রোগের লক্ষণ দেখে প্রয়োজন মতো ওষুধও দেন চিকিৎসক ডাঃ সুকৃতি কুমার রায়।
গরিবের ডাক্তার
আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া গরীব মানুষ অসুস্থ বা বার্ধক্যজনিত কারণে মারা গেলে তিনি ফ্রি তেই দেন মৃত্যু’র সনদপত্র। এই ভাবে দেগঙ্গার প্রত্যন্ত এলাকায় ৫২ বছর ধরে সুনামের সঙ্গে মানুষদের চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে চলেছেন গরীবের মসিহা ডাঃ সুকৃতি কুমার রায়। ১৯৭৩ সালে বাবার ইচ্ছাতেই এশিয়ার বৃহত্তম কলকাতা হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ থেকে ডিএমএস পাশ করে দেগঙ্গার প্রত্যন্ত গ্রাম কালিতলা এলাকায় প্র্যাকটিস শুরু করেন তিনি।
প্রথমে ২ টাকা ভিজিট দিয়ে শুরু করলেও, পরে ৫ টাকা এবং বর্তমানে মাত্র ১০ টাকা ফি নেন এই চিকিৎসক। ইচ্ছে ছিল আইন নিয়ে পড়াশোনা করার, সামান্য সমস্যায় আইন নিয়ে পড়তে না পারায় চিকিৎসক বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে পাশ করে গ্রামের মানুষকে পরিষেবা দিতে থাকেন। ডাক্তার সুকৃতি কুমার রায় জানান, গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না থাকায় অনেক মানুষ ভালো চিকিৎসা পান না, গরীব মানুষ যাতে চিকিৎসা পরিষেবা পান তার জন্য বাবার ইচ্ছা অনুযায়ী তিনি দীর্ঘ ৫২ বছর পরিষেবা দিয়ে আসছেন এই ভাবেই। এই পরিষেবার জন্যই এলাকায় তিনি কারুর কাছে গরীবের চিকিৎসক, গরীবের মসিহা বা গরীবের ভগবান বলে পরিচিত আজ।
রোগীরাও যেন শারীরিক ও মানসিকভাবে অনেকটাই সুস্থ বোধ করেন এই ডাক্তারবাবুর কাছে আসলেই। তবে অতিরিক্ত জটিল কোন রোগ দেখলে হাসপাতালে যাওয়ারই পরামর্শ দেন প্রত্যন্ত এলাকার এই চিকিৎসক। বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে তাই চিকিৎসকের এমন পরিসেবাকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন সকলেই।
রুদ্র নারায়ণ রায়
