
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো:অমানবিকতা ও নিষ্ঠুরতার চরমতম উদাহরণ যদি কিছু হয়, তাহলে এই ঘটনা আপনাদের স্তব্ধ করে দেবে। ভারত-সহ অন্যান্য দেশে পোষ্য প্রেম বা পশু প্রেমের ছবি স্পষ্ট। পোষ্য বাড়িতে অনেক দিন থাকলে, সে পরিবারের একজন সদস্য হয়ে যায়। তাকে কোনও ভাবে আঘাত করা দূরের কথা, পোষ্যর মালিকেরা তাদের সন্তানবৎ ভালোবাসেন।
কিন্তু এই ঘটনার ঠিক উলটো চিত্র দেখা গেল আমেরিকার ফ্লোরিডায়। পোষ্য সাদা পুডল কুকুর তার জীবনে হয়ে উঠেছিল পথের কাঁটা। তাই তাকে মারতে, সে একবারও ভাবেনি। পশু নির্যাতনের এমন অমানবিক চিত্র, সাম্প্রতিককালে চোখে পড়েনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ৫৭ বছর বয়সী অ্যালিসন আগাথা লরেন্স,গত বছরের ডিসেম্বরে অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা করছিলেন। কিন্তু তাকে ফ্লাইটে পোষ্য নিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি কারণ তার কুকুর নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিল না। বিকল্প কোনও ব্যবস্থা না করে, সে বিমানবন্দরের শৌচাগারে পোষ্য কুকুরটিকে ডুবিয়ে হত্যা করে এবং দেহাবশেষ একটি আবর্জনার বাক্সে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ। বিমানবন্দর কর্মীরা নিরাপত্তা তল্লাশির সময় শৌচাগারে মৃত কুকুরটিকে দেখতে পান।
তদন্তের পর, কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রমাণের ভিত্তিতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ওই মহিলার বিরুদ্ধে। প্রায় তিন মাস পরে, ১৮ মার্চ, লরেন্সকে গুরুতর পশু নির্যাতনের অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়। জানা যায় যে তাকে ৫,০০০ ডলার বন্ডে মুক্তিও দেওয়া হয়েছে।
ফ্লোরিডার অ্যানিম্যাল রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রাণী অধিকার কর্মী ব্রায়ান উইলসন এই ঘটনার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কোনও জলের বোতল বা শ্যাম্পুর বড় বোতলের মতো যখন-তখন ফেলে দেওয়া যায় না কোন গৃহপালিত প্রাণীকে।
এই ঘটনার পর পশু নিষ্ঠুরতার সম্পর্কিত বিল এনেছে রাজ্য সেনেটর। যারা নিরীহ প্রাণীদের ক্ষতি করে, অত্যাচার বা প্রাণে মারে, তাদের জন্য ফৌজদারি শাস্তি জোরদার করা করার জন্যই এই বিল।
(Feed Source: zeenews.com)
