
যুগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ওখানে ভোকেশনাল বা প্রযুক্তিবিদ্যার শাখা গড়ে তোলার ইচ্ছে রয়েছে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের। সেই সঙ্গে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন কর্তৃপক্ষ।
মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল
পশ্চিম মেদিনীপুর: শহরের ঐতিহ্য কলেজিয়েট স্কুল। এবার সেই স্কুলেই গড়ে উঠবে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস। স্কুলের আবেদনে সাড়া দিয়েছে প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্কুল পেয়েছে জায়গা।হবে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস, গড়ে উঠবে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল। স্বাভাবিকভাবে খুশির হাওয়া জেলাজুড়ে। জেলার উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন দিশা পাবে বলে মনে করছেন শিক্ষামহল। এই স্কুল ছিল এককালের বিপ্লবের আঁতুড়ঘর। বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসু, বিমল দাশগুপ্ত থেকে সাহিত্যিক বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিধন্য মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুল। এবার আরও নতুন পালক সংযোজিত হল স্কুলের মুকুটে। প্রশাসনের দেওয়া দু একর জায়গায় গড়ে উঠবে নতুন স্কুল।
প্রসঙ্গত, ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দের ১৪ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এই স্কুল। এই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের পদ অলংকৃত করেছেন ঋষি রাজনারায়ণ বসু। এক সময় স্বাধীনতা সংগ্রামের ‘আঁতুড়ঘর’ বলা হত এই স্কুলকে। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ এপ্রিল অত্যাচারী জেলাশাসক পেডিকে এই স্কুলেই নিধন করেছিলেন বিপ্লবী বিমল দাশগুপ্ত ও জ্যোতিজীবন ঘোষ। বিমল দাশগুপ্ত এই স্কুলেরই ছাত্র ছিলেন। ঐতিহাসিক সেই মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলকেই দ্বিতীয় ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য ২ একর জায়গা প্রদান করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। মেদিনীপুর শহরের উপকণ্ঠে খাসজঙ্গল এলাকায় জেলা প্রশাসনের তরফে ওই জায়গা তুলে দেওয়া হয়েছে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলকে। বছর তিনেক আগে জায়গার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন কলেজিয়েট স্কুল কর্তৃপক্ষ। এই বিষয়ে তৎপরতা দেখিয়েছিলেন তৎকালীন জেলাশাসক রশ্মি কমল। পরবর্তী সময়ে জেলাশাসক আয়েশা রানী এ এবং বর্তমান জেলাশাসক খুরশিদ আলী কাদেরীও এই বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন। অবশেষে সেই আবেদন পূরণ হতে চলেছে।
চলতি মাসেই মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের হাতে পাকাপাকিভাবে এই জায়গা তুলে দেওয়া হয় জেলা প্রশাসনের তরফে। বিদ্যালয় সূত্রে খবর, দ্বিতীয় ক্যাম্পাস গড়ে তোলার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জায়গা চেয়ে আবেদন জানিয়েছিল স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঐতিহাসিক মেদিনীপুর কলেজের আবেদনে সাড়া দিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন। ওই জমি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে।যুগের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ওখানে ভোকেশনাল বা প্রযুক্তিবিদ্যার শাখা গড়ে তোলার ইচ্ছে রয়েছে মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের। সেই সঙ্গে পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন কর্তৃপক্ষ।
বর্তমান ক্যাম্পাসে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বিজ্ঞান শাখা ইংরেজি মাধ্যমেও পড়ানো হয়। তাই, দ্বিতীয় ক্যাম্পাসটি বড় করে গড়ে তোলার ইচ্ছে রয়েছে স্কুলের। সেই সঙ্গে ওখানে একটি মিনি ইনডোর স্টেডিয়ামও গড়ে তোলার তোলা হবে। স্বাভাবিকভাবে দু-একর জায়গা গড়ে উঠবে পড়াশোনার মনোরম এক পরিবেশে। খুশি মেদিনীপুরের মানুষ।
রঞ্জন চন্দ
(Feed Source: hindustantimes.com)
