
Human Body Parts: ফেসবুকের মার্কেটপ্লেস (Facebook Marketplace) অনেকেই ব্যবহার করেন, বিভিন্ন জিনিস কেনা এবং বিক্রির জন্য। কিন্তু সম্প্রতি এমন জিনিস বিক্রি হতে দেখা গিয়েছে ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে, যা দেখেশুনে আঁতকে উঠেছেন সকলে। মানুষের দেহাবশেষ কেনাবেচা চলছে ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে ! শুনে শিউরে উঠলেও, এটাই বাস্তব। কোনও ওয়েব সিরিজের প্লট নয়। এর জেরে এক মহিলাকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। আর সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, গ্রেফতারির পর ওই মহিলা জানিয়েছেন, তিনি নাকি জানতেন না যে এমন কাজ করা সম্পূর্ণ বেআইনি!
এই ঘটনা ঘটেছে সুদূর ফ্লোরিডায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার ৫২- র এক মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে নিজের দোকানে মৃত মানুষের দেহের বিভিন্ন অংশ বিক্রি করছিলেন তিনি। মানুষের মাথার খুলি থেকে শুরু করে আরও অনেক কিছুই রয়েছে তালিকায়। scapula, clavicle বা কণ্ঠা, খুলির একটা অংশ, রিব বা পাঁজরের হাড়, ভার্ট্রিবা- সবই বিক্রি করতেন ওই মহিলা। সবের রয়েছে আলাদা আলাদা দামও। এমন ভয়ানক ঘটনা এর আগে কেউ শুনেছেন কিনা বলা মুশকিল।
জানা গিয়েছে, ধৃত মহিলার নাম Kymberlee Anne Schopper এবং তার দোকানের নাম Wicked Wonderland, এখান থেকেই মানুষের হাড়, শরীরে অন্যান্য অংশ বিক্রি করতেন তিনি। মানুষের শরীরের টিস্যু নিয়ে কারবার করায় জেলে যেতে হয়েছে এই মহিলাকে। সেখান থেকে ছাড়াও পেয়ে গিয়েছেন ৭৫০০ মার্কিন ডলারের বন্ডের পরিবর্তে। পুলিশ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে তারা প্রথম জানতে পেরেছিল ফেসবুকের মার্কেটপ্লেসে মানুষের হাড় বিক্রি করছে এক দোকানদার। জানা গিয়েছে, Orange City পুলিশ গ্রেফতার করেছে এই মহিলাকে। Wicked Wonderland নামে ফেসবুকে যে পেজ রয়েছে সেখানে রীতিমতো ফলাও করে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ বিক্রির জন্য। দুটো মানুষের খুলির দাম ৯০ মার্কিন ডলার, human clavicle and scapula- ও পাওয়া যাবে ৯০ মার্কিন ডোলারে, মানুষের পাঁজরের দাম ৩৫ ডলার, ভার্টিব্রার দাম ৩৫ ডলার এবং মানুষের খুলির একটা অংশে দাম ৬০০ মার্কিন ডলার। অরেঞ্জ সিটি পুলিশের কাছে ফেসবুকের এই পেজ থেকে ছবি পাঠানো হয়েছিল বলে সূত্রের খবর। অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়েছে মূল অভিযুক্ত মহিলা।
গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশকে ওই মহিলা জানিয়েছেন যে, তিনি বিশ্বাস করেন যদি ফ্লোরিডায় ‘এডুকেশনাল মডেল’ থাকত তাহলে মানুষের হাড়ের বিক্রি বৈধ হত সেখানে। মানুষের শরীরের যে সমস্ত অংশ ওই মহিলা বিক্রি করছিলেন, পুলিশি জেরায় সেগুলিকে সত্যিকারের মানুষের দেহাবশেষ বলে জানিয়েছে। এছাড়াও তিনি বলেছেন, ওই জিনিসগুলি অত্যন্ত সূক্ষ্ম জিনিস। কোথা থেকে মানুষের দেহের এইসব অংশ তিনি পেলেন, সেই প্রসঙ্গেও মহিলাকে জিজ্ঞাসা করেছে পুলিশ। এর উত্তরে মহিলা জানিয়েছেন, এই হাড়গুলি বছরের পর বছর ধরে ব্যক্তিগত সংগ্রাহকদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু সেইসব সংগ্রহের কোনও নথি তিনি দেখাতে পারেননি।
পুলিশের জেরায় মহিলা জানিয়েছেন দোকানে মানুষের হাড়ের প্রচুর টুকরো ছিল। তবে এগুলি বিক্রি করা যে ফ্লোরিডায় নিষিদ্ধ তা নাই তিনি জানতেন না। ফরেন্সিক পরীক্ষায় জানা গিয়েছে, বেশ কয়েকটি বহু পুরনো। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু হাড় প্রায় ৫০০ বছর পুরনো। কীভাবে এইসব জিনিস ওই মহিলার কাছে এল আর তা নিয়ে কীভাবেই বা ব্যবসা ফেঁদে বসলেন তিনি, সেটাই ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের। জোরকদমে চলছে তদন্ত।
(Feed Source: abplive.com)
