Yoga Day: পতঞ্জলির সহায়তায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস কীভাবে বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল?

Yoga Day: পতঞ্জলির সহায়তায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবস কীভাবে বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: যোগ এখন আর শুধু শরীরচর্চা নয়, বরং মনকে শান্ত রাখার ও নিজের ভেতরের চেতনা জাগানোর এক পূর্ণ পদ্ধতি হয়ে উঠেছে। আজকের এই দৌড়ঝাঁপ ও টেনশনে ভরা জীবনে, মানুষ যখন মানসিক শান্তি ও ভারসাম্য খুঁজছে, তখন যোগ একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে। আগে যেটি শুধুই একটি প্রাচীন ভারতীয় অনুশীলন ছিল, এখন তা হয়ে উঠেছে এক বিশ্বজনীন স্বাস্থ্য আন্দোলন, যা লাখ লাখ মানুষকে উপকার দিচ্ছে।

এই বড় পরিবর্তনের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন বাবা রামদেব এবং তার প্রতিষ্ঠান পতঞ্জলি। আয়ুর্বেদিক পণ্য ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা ছাড়াও, পতঞ্জলি যোগকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে বিশাল ভূমিকা রেখেছে।

এই কারণেই আজ আন্তর্জাতিক যোগ দিবস একটি বিশ্বব্যাপী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যেখানে পতঞ্জলির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। চলুন দেখে নেওয়া যাক কীভাবে পতঞ্জলির সহায়তায় এটি সম্ভব হলো।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ইতিহাস

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের ভাবনা শুরু হয় ২০১৪ সালে, যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জাতিসংঘে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, যোগ হলো একটি প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্য, যা শরীর, মন ও আত্মার মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। তিনি প্রস্তাব দেন যে ২১ জুন – যা উত্তর গোলার্ধে বছরের সবচেয়ে বড় দিন – সেই দিনটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে পালন করা হোক।

জাতিসংঘ এই প্রস্তাবটি ১১ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে গ্রহণ করে এবং ১৭৭টি দেশ এতে সমর্থন জানায়। প্রথম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয় ২১ জুন ২০১৫, যেখানে নিউ ইয়র্ক, প্যারিস, বেইজিং-এর মতো বড় শহরগুলোতে যোগ অনুষ্ঠান হয়।

পতঞ্জলির অবদান

বাবা রামদেব, যিনি পতঞ্জলির মুখ, তিনি যোগকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছেন। তার টেলিভিশনের যোগ শো, বিশেষ করে আস্থা চ্যানেলে, যোগকে প্রতিটি ঘরে জনপ্রিয় করে তোলে। তিনি এমনভাবে যোগ শেখাতেন, যা সহজে বোঝা যেত এবং যে কেউ অনুসরণ করতে পারত।

পতঞ্জলি শুধু ভারতে নয়, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য-এর মতো দেশেও বড় বড় যোগ শিবির আয়োজন করে। হাজার হাজার মানুষ এসব শিবিরে অংশ নিয়েছিল।

পতঞ্জলি শুধু যোগ শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং তাদের আয়ুর্বেদিক পণ্য ও ট্রাস্টের মাধ্যমে যোগের প্রচার করেছে। তাদের পণ্য মানুষকে বুঝিয়েছে যে সুস্বাস্থ্য এবং যোগ একসঙ্গে চলে।

বাবা রামদেব যোগকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা বিদেশি মানুষকেও আকৃষ্ট করেছে।

২০১৫ সালে ভারতের রাজধানী দিল্লির রাজপথে ৩৫,৯৮৫ জন একসাথে যোগ করেন, যা দুইটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তৈরি করে –

সবচেয়ে বড় যোগ সেশন এবং সবচেয়ে বেশি সংখ্যক দেশ (৮৪টি) এক যোগ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ।

এই ঘটনাগুলো প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেয়েছে।উপসংহার

পতঞ্জলির ধারাবাহিক প্রচার ও সহায়তার মাধ্যমে যোগ আজ একটি বিশ্বজয়ী আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এটি কোটি কোটি মানুষকে সুস্থ জীবনযাপন করতে উৎসাহ দিচ্ছে এবং দৈনন্দিন জীবনে যোগের উপকারিতা গ্রহণ করতে সাহায্য করছে।
[এই প্রতিবেদনটি IndiaDotCom Pvt Lt-এর কনজিউমার কানেক্টেড একটি উদ্যোগ। জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল সম্পাদকীয় বিভাগ প্রতিবেদনের বক্তব্যের জন্য দায়বদ্ধ না।]

(Feed Source: zeenews.com)