এই ড্রোন ঝাঁক বেঁধে কাজ করে৷ বেশ কয়েকটি ড্রোন একসাথে আক্রমণ চালায়। শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতেও সোয়ার্ম প্রযুক্তি কার্যকর। এই ড্রোনগুলি একই সাথে একাধিক কোণ থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করতে পারে, যার ফলে তারা র্যাডার অ্যান্টেনা, অস্ত্র ব্যবস্থা বা কম্যন্ড সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে।
নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও হামলার প্রতিশোধ! মঙ্গলবার মাঝরাতে ২৫ মিনিটের অপারেশন৷ পাকিস্তানের পঞ্জাব প্রদেশ এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মোট ৯টি জায়গায় এয়ার টু সারফেস মিসাইল হামলা চালিয়েছে ভারত৷ ভারতীয় আকাশসীমার মধ্যে থেকেই৷ জানা গিয়েছে, অপারেশন সিঁদুর পরিচালনার জন্য একটি এলএমএস ড্রোন ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে ভারতের তরফে। এই ড্রোনকে আত্মঘাতী বা কামিকাজে ড্রোনও বলা হয়ে থাকে৷ এই ড্রোন গোপনে তার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে পারে। আসুন জেনে নিই LMS ড্রোন কী?
এলএমএস ড্রোন মানে কম দামের মিনিয়েচার সোয়ার্ম ড্রোন বা লয়টারিং মিউনিশন সিস্টেম। এটি এক ধরনের সশস্ত্র ড্রোন। জঙ্গিদের আস্তানা ধ্বংস করার জন্য ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ভারত এটি ব্যবহার করেছিল বলে দাবি করা হচ্ছে সূত্রের তরফে।
এলএমএস ড্রোনকে ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ও বলা হয়ে থাকে। কিন্তু কেন? এলএমএস ড্রোনগুলি দীর্ঘক্ষণ ধরে বাতাসে উড়তে পারে। এই ড্রোনগুলি তাদের লক্ষ্যবস্তু খুঁজতে পারে নিজে নিজেই এবং একবার লক্ষ্যবস্তু খুঁজে পেলে, সেখানে বিস্ফোরক সহ আঘাত করে। এজন্যই এটিকে ‘আত্মঘাতী ড্রোন’ও বলা হয়। এই ড্রোন জঙ্গিদের আস্তানা, অস্ত্রের ডিপো, র্যাডার সিস্টেম বা অন্যান্য লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম।
এই ড্রোন কীভাবে কাজ করে?
এই ড্রোন ঝাঁক বেঁধে কাজ করে৷ বেশ কয়েকটি ড্রোন একসাথে আক্রমণ চালায়। শত্রুর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতেও সোয়ার্ম প্রযুক্তি কার্যকর। এই ড্রোনগুলি একই সাথে একাধিক কোণ থেকে লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করতে পারে, যার ফলে তারা র্যাডার অ্যান্টেনা, অস্ত্র ব্যবস্থা বা কম্যন্ড সেন্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে পারে।
এই ড্রোনটি ভারত ডিআরডিও, নিউস্পেস রিসার্চ অ্যান্ড টেকনোলজিসের মতো বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় তৈরি করেছে। প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় এগুলোর দাম অনেক কম (যেমন হারপুন ক্ষেপণাস্ত্র, যার ওয়ারহেড ৪৮৮ পাউন্ড ওজনের)। এই ড্রোনগুলিতে উচ্চ-রেজোলিউশন ক্যামেরা, থার্মাল ইমেজিং এবং জিপিএস-ভিত্তিক নেভিগেশন সিস্টেম রয়েছে। কিছু মডেল AI এবং মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে, যা সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। এই ড্রোনগুলি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, লক্ষ্যবস্তু ট্র্যাক করতে এবং নির্ভুল হামলা চালাতে সক্ষম। অপারেশন সিন্দুরে, এনটিআরও (ন্যাশনাল টেকনিক্যাল রিসার্চ অর্গানাইজেশন) জঙ্গিদের ট্র্যাক করার জন্য এই ড্রোনগুলিকে তথ্য সরবরাহ করেছিল। কিছু ড্রোনের গতি ঘণ্টায় ৫০ মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
এই ড্রোনগুলি আকারে ছোট। এলএমএস বা আত্মঘাতী ড্রোন প্রথম ১৯৮০-এর দশকে বিস্ফোরক বহনের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল। এগুলি শত্রু বিমান প্রতিরক্ষা (SEAD) দমনকারক হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিল। ১৯৯০-এর দশকে, অনেক সেনাবাহিনী এই আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার শুরু করে। ২০০০ সালের গোড়ার দিকে এই আত্মঘাতী ড্রোনের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এখন এই ড্রোনগুলি দূরপাল্লার আক্রমণেও ব্যবহৃত হচ্ছে। এই ড্রোনগুলির আকার এত ছোট যে এগুলি সহজেই যেকোনো জায়গায় স্থাপন করা যেতে পারে।
(Feed Source: news18.com)