গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে হত্যা চালিয়ে পর্যটক সহ মোট ২৬ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করে জঙ্গিরা৷
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ ছবি- পিটিআই
নয়াদিল্লি: পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার কয়েকদিন পরেই জানা গিয়েছিল, প্রত্যাঘাতের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷ এর পরই পাকিস্তানের মাটিতে আছড়ে পড়ে ভারতের অপারেশন সিঁদুর৷
সংবাদসংস্থা পিটিআই-এর দাবি অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুরের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাকিস্তানের মাটিতে থাকা জঙ্গিদের ঘাঁটিগুলিকে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ বাস্তবেই পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে থাকা একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি মাটিয়ে মিশিয়ে দিয়েছে ভারত৷ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় জঙ্গিদের বড়সড় ৯টি ঘাঁটি৷ যার মধ্যে ছিল জৈশ ই মহম্মদ, লস্কর ই তৈবার মতো জঙ্গি সংগঠনের সদর দফতরও৷ ভারতের এই হামলায় অন্তত ২০০ জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে বলে সর্বদলীয় বৈঠকে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ জঙ্গিদের উপরে এই হামলার পর পাকিস্তানের ক্রমাগত আক্রমণেরও উপযুক্ত জবাব দিয়েছে ভারত৷ বিপদ বুঝে শেষ পর্যন্ত সংঘর্ষবিরতির আর্জি জানায় পাকিস্তান৷ তার পরেও অবশ্য সীমান্তে যথেষ্ট উত্তেজনা রয়েছে৷
শুধু পাকিস্তানে আশ্রয় পাওয়া জঙ্গিরাই নয়, এবার ভারতের সামরিক ক্ষমতার জোর কতটা, তা ভাল মতোই টের পেয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীও৷ রবিবারই ভারতের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে, সীমান্তের ওপার থেকে হামলার যে জবাব ভারত দিয়েছে, তাতে পাকিস্তানের অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে৷
পিটিআই-কে ওই সূত্র জানিয়েছেন, ‘পাকিস্তানের কোনও জায়গাই আর জঙ্গিদের জন্য নিরাপদ নয়৷ কেউ আর পালিয়ে বাঁচতে পারবে না৷ এলইটি-র প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মার্কাজ মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে, বাকিগুলিরও এখই অবস্থা করা হবে৷’
ওই সূত্রের আরও দাবি, ‘অপারেশন সিঁদুরের লক্ষ্য ছিল সামরিক, রাজনৈতিক জবাব দেওয়ার পাশাপাশি জঙ্গিদের মনে ভয় তৈরি করা৷ সেই তিনটি উদ্দেশ্যই সফল হয়েছে৷ এবার আমরা সাপের মাথাকে টার্গেট করেছি, নিচুতলায় যারা লড়াই করে তাদের নয়৷ অপারেশন সিঁদুর জঙ্গিদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে পাকিস্তানর যেখানেই তোমার লুকোও না কেন, আমরা ঠিক নিকেশ করবই৷’
একই সঙ্গে ওই সূত্রে জানিয়েছেন, ‘ভারতের অবস্থান খুব স্পষ্ট, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে জম্মু কাশ্মীর নিয়ে কোনওরকম আলোচনা করব না৷’
(Feed Source: news18.com)