‘৭১-এর বাংলাদেশ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে বালুচিস্তান’, ভারতের সাহায্য প্রয়োজন? সংগ্রামী নেতা বললেন…

‘৭১-এর বাংলাদেশ হওয়ার দিকে এগোচ্ছে বালুচিস্তান’, ভারতের সাহায্য প্রয়োজন? সংগ্রামী নেতা বললেন…

নয়াদিল্লি: ভারতের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যেই পাকিস্তানের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বালুচিস্তান। বালুচিস্তানের নাগরিকদের একাংশ ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের হাত থেকে স্বাধীনতাপ্রাপ্তির ঘোষণা করে দিয়েছেন। বালুচিস্তানের নিয়ন্ত্রণ যে পাকিস্তানের হাত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জোগাড়, এবার ঘোষণা করলেন Baloch American Congress-এর সচিব রজ্জাক বালোচ। জানালেন, পাকিস্তানের হাত থেকে বালুচিস্তানের সিংহভাগ অংশের নিয়ন্ত্রণ চলে গিয়েছে। অন্ধকার হওয়ার পর পাক সেনা টহল দিতে পর্যন্ত ভয় পাচ্ছে। (Balochistan Freedom Struggle)

কানাডার TAF TV-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছেন রজ্জাক। তিনি বলেন, “অন্ধকার হওয়ার পর পাকিস্তানের সেনা কোয়েট্টা ছেড়ে বেরোতে পারে না। বিকেল ৫টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত রাস্তাঘাট সব শুনশান থাকে। কারণ সেনাই ভয়ে বেরোতে পারে না।” বালুচিস্তানে পাকিস্তান সরকারের আইন-কানুন যে আর কার্যকর নয়, পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলেন রজ্জাক। (Razzak Baloch)

রজ্জাক জানিয়েছেন, বালুচিস্তানের ৮০ শতাংশ সমৃদ্ধশালী এলাকার উপর আর নিয়ন্ত্রণ নেই পাকিস্তান সরকারের। ১৯৭১ সালে ঠিক যেমন পরিস্থিতি ছিল, এখন ইসলামাবাদের পরিস্থিতি ঠিক তেমন। তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তান (অধুনা বাংলাদেশ) যেমন পাকিস্তানি সেনার নৃশংস অত্যাচারের শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে এসেছিল, বালুচিস্তানও সেদিকে এগোচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন রজ্জাক। 

পাকিস্তানের নকশা পাল্টে যাওয়ার উপক্রম বলে গত কয়েক মাস ধরেই লাগাতার খবর সামনে আসছে। একের পর এক নেতা-নেত্রীদের গ্রেফতার করা হলেও, বালুচিস্তানে বিচ্ছিন্নতাকামী আন্দোলন তীব্রতা পেয়েছে যেমন, তেমনই পাক সেনার বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে বালুচিস্তানের স্বাধীনতাকামী কিছু সংগঠন। বালুচিস্তানের রাস্তায় টহল দিতে সেনাও যে ভয় পাচ্ছে, বালুচিস্তান যে পাকিস্তানের মুঠো থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, সম্প্রতি সেই নিয়ে সতর্ক করেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শাহিদ খাকান আব্বাসিও। 

এই মুহূর্তে যা পরিস্থিতি, তাতে পাকিস্তান ভালয় ভালয় সরে না গেলে, তাদের জন্য পরিস্থিতি সুবিধের হবে না বলে জানিয়েছেন রজ্জাক। তাঁর বক্তব্য, “এখনই সম্মানের সঙ্গে পাকিস্তান সেনার নিজে থেকে সরে যাওয়া উচিত। নইলে বাংলাদেশ থেকে যেমন চটি-জুতে ফেলে রেখে দৌড় দিতে হয়েছিল, তেমন অবস্থা হবে।” বালুচিস্তানের স্বাধীনতা সংগ্রামকে স্বীকৃতি দিয়ে অবিলম্বে মানুষের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের এগিয়ে আসে প্রয়োজন বলে মত রজ্জাকের। গণতান্ত্রিক দেশগুলিকে বিশেষ করে পাশে দাঁড়ানোর আর্জি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে ইউক্রেনের মতো দেশকে যেমন পশ্চিমি দেশগুলি অস্ত্রশস্ত্র জুগিয়ে সাহায্য করছে, তাঁদেরকেও সেভাবে সাহায্য় করার আবেদন জানিয়েছেন রজ্জাক।

বালুচিস্তানের মানুষ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালেও, বিদেশি সাহায্য় ছাড়া পূর্ণ স্বাধীনতাপ্রাপ্তি সহজ হবে না বলেও মেনে নিয়েছেন রজ্জাক। কোয়েট্টা, চউনির মতো শহর থেকে পাকিস্তানি সেনাকে সরানো সবার আগে প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তিনি। এব্যাপারে ভারতের সাহায্য় চান কি না, নির্বাচনে থাকা স্বাধীন বালুচিস্তান সরকারের প্রতি ভারতের সমর্থন প্রয়োজন কি না জানতে চাইলে রজ্জাক বলেন, “আমরা ভিক্ষা চাই না। আমরা নিজের বলে বলীয়ান হয়েই কথা বলি। ভারত যদি বালুচিস্তানের স্বাধীনতাকে সমর্থন করে, সেক্ষেত্রে ভারতের জন্য বালুচিস্তানের দরজা খোলা থাকবে।”  বালুচিস্তানের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দিতে দেরি করলে, পাকিস্তানের নৃশংস সেনা যা ইচ্ছে তাই করবে এবং তাতে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার উপর প্রভাব পড়বে বলে মত রজ্জাকের। তাঁর সাফ বক্তব্য, “এটা শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার সময়। শোষণের রাজত্ব শেষ করতে হবে, শুধুমাত্র বালুচিস্তান বলে নয়, পাকিস্তানের সর্বত্রই একথা প্রযোজ্য।”

(Feed Source: abplive.com)