Film Piracy Scam: দেশের বিনোদন জগতকে ধ্বংস করছে সিনেমার পাইরেসি, প্রকাশ্যে ২২,৪০০ কোটির কেলেঙ্কারি

Film Piracy Scam: দেশের বিনোদন জগতকে ধ্বংস করছে সিনেমার পাইরেসি, প্রকাশ্যে ২২,৪০০ কোটির কেলেঙ্কারি

 

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গোটা দুনিয়ার বিনোদন শিল্পের অন্যতম শত্রু পাইরেসি। শুনলে অবাক হবেন ভিডিয়ো পাইরেসিতে সবার উপরে রয়েছে ভারত। আমাদের দেশের পাইরেটেড ফিল্ম দেখেন কমপক্ষে ৯০.৩ মিলিয়ন গ্রাহক। এর পরেই রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। সেখানে পাইরেসির সঙ্গে জড়িত ৪৭.৫ মিলিয়ন গ্রাহক। তৃতীয় স্থানে ফিলিপিন্স। সেখানে পাইরেটেড সিনেমা দেখেন ৩১.১ মিলিন গ্রাহক। এমনই এক সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে একটি সর্বভারতীয় দৈনিক।

এনিয়ে সরব হয়েছেন জি মিডিয়ায় চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র। এক্স হ্যান্ডেলে করা এক পোস্ট তিনি লিখেছেন, সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্ক শুধুমাত্র একটি মতাদর্শের উপরে টিকে থাকে না। তাদের টিকে থাকার জন্য টাকার প্রয়োজন হয়। পাইরেটেড কনটেন্ট তাদের আয়ের একটা উত্স।

ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি পাইরেসির কবলে। থিয়েটারে মুক্তির আগেই তা চলে যাচ্ছে পাইরেটদের হাতে এবং তা গ্রাহকদের কাছে চলে যাচ্ছে। রেড ২, সিকান্দার, জাট-এর মত ছবি রিলিজের আগেই বিভিন্ন পাইরেট সাইটের হাতে চলে যায়।

মহারাষ্ট্রের এক শীর্ষ পুলিস কর্তা সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেন, বলিউডের কোনও ছবি রিলিজের আগেই তা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন সাইটে। বিভিন্ন হিন্দি ও তামিল ছবি রিলিজের আগের দিনই চলে যাচ্ছে পাইরোটদের হাতে। এর পেছনে ভেতরের কেউ জড়িত থাকতে পারে।

ট্রেড অ্যানালিস্ট গিরিশ ওয়াংখাড়ের বক্তব্য, সিনেমা যে রিলিজের আগেই লিক হয়ে যাচ্ছে তার পেছনে রয়েছে ভেতরের কেউ। রিলিজের আগের দিনই ছবি লিক হয়ে যাওয়ার অর্থ তা ভেতরের কারও কাজ। তা সে পোস্ট প্রোডাকশন ইউনিট থেকে হতে পারে, কনটেন্ট ডেলিভারি এজেন্সির কাজ হতে পারে কিংবা তা একজিবিশন কোম্পানির কাজ হতে পারে।

একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ভারতের ৫১ শতাংশ গ্রাহকই পাইরেটেড কনটেন্ট দেখেন। ওইসব গ্রাহক কনটেন্ট পেতে পারেন বেআইনি স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম, মোবাইল অ্যাপ, সোশ্যাল মিডিয়া, টরেন্ট-সহ আরও অন্য অনেক জায়গা থেকে পেয়ে থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল টেলিগ্রামের মাধ্যমে বড় কোনও কনটেন্ট আদানপ্রদান করা যায়। এর মাধ্যমেও পাইরেসি বাড়ছে।

পাইরেসির এই বাড়বাড়ন্ত নিয়ে জি ও এসেল মিডিয়ায় এমিরেটাস চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র বলেন, পাইরেসিই এখন বিনোদন জগতের প্রধান সোর্স হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসবাদীরা শুধুমাত্র কোনও আদর্শের উপরেই টিকে থাকে না বরং তাদের অর্থের প্রয়োজন হয়। সেই অর্থ যোগান দেয় এই পাইরেটেড কনটেন্ট।  

২০২৩ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে পাইরেসির ফলে সিনেমা হলগুলির ক্ষতি হয়েছে ১৩,৭০০ কোটি টাকা এবং ওটিটি-র ক্ষতি হয়েছে ৮,৭০০ কোটি টাকা। পাইরেসি বেশি ক্ষতি করছে মাঝারি ও ছোট বাজেটের ছবির। বড় বাজেটের ছবিগুলি বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে পারে। এভাবে তারা কিছুটা পাইরেসির ধাক্কা সামলাতে পারে।

বহু ছবির প্রযোজক বলছেন ছবি মুক্তি আগে প্রচারের সময়ে তারা পাইরেটদের শিকার। তাদের ছবি অনলাইনে বেরিয়ে যাচ্ছে। এসব রুখতে বিভিন্ন রকম ব্য়বস্থা নিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। গিরিশ ওয়াংখেড়ের বক্তব্য়, ছবি নির্মাতারা তাদের ছবিকে তিন ভাগে ভাগ করছেন। এবং তা এনক্রিপটেড ফর্মে। ওইসব পার্ট দেখতে গেলে পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকতে হবে। তবে এই প্রযুক্তি এখন তৈরি হচ্ছে। এটা করা সম্ভব হলে চুরি অনেকটাই রোখা যাবে।

(Feed Source: zeenews.com)