Health Tips: এখনই বন্ধ করতে হবে! তামাকের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব শরীরের কী কী সর্বনাশ করছে! সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

Health Tips: এখনই বন্ধ করতে হবে! তামাকের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব শরীরের কী কী সর্বনাশ করছে! সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

Health Tips: তামাক মুখের ক্যানসার বা ওরাল ক্যানসারের আশঙ্কা ৬ গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সেই সঙ্গে তা ত্বকেরও যথেষ্ট ক্ষতি করে।

News18Health Tips: এখনই বন্ধ করতে হবে! তামাকের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব শরীরের কী কী সর্বনাশ করছে! সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা

তামাক-বিরোধী দিবসে তামাক ব্যবহারের গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির বিষয়ে সতর্কতা জারি করছেন বিশেষজ্ঞরা। আসলে তামাক মুখের ক্যানসার বা ওরাল ক্যানসারের আশঙ্কা ৬ গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সেই সঙ্গে তা ত্বকেরও যথেষ্ট ক্ষতি করে। যেমন – তামাক সেবনের কারণে মুখে বার্ধক্যের ছাপ দ্রুত পড়তে থাকে এমনকী ত্বকের ক্যানসারের আশঙ্কাও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তাই মানুষের কাছে বিশেষজ্ঞদের আবেদন, এখনও এ নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। তাঁদের আর্জি, নিজের হাসি, নিজের ত্বক এবং নিজের জীবনের সৌন্দর্যটাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে তামাককে বাদ দিতে হবে। অভ্যাসের উর্ধ্বে উঠে স্বাস্থ্যকেই বেছে নিতে হবে।

আমাদের দেশে মুখের স্বাস্থ্যের উপর তামাকের গুরুতর প্রভাবের বিষয়টাকে তুলে ধরলেন এএম মেডিক্যাল সেন্টারের প্রস্থোডন্টিস্ট ডা. মুন চট্টরাজ। তাঁর কথায়, মুখের ক্যানসারের অন্যতম বড় কারণ হল – তামাকের ব্যবহার। সারা বিশ্বে ভারতেই সবথেকে বেশি দেখা যায় এই রোগ। তিনি ব্যাখ্যা করে আরও বলেন যে, মুখের ভিতরের মিউকাস মেমব্রেনের ক্ষয় করে তামাক। যার জেরে কেরাটোসিসের মতো পরিবর্তন দেখা যায়। যা ক্যানসারের জন্য দায়ী। আর হরমোনজনিত পার্থক্য এবং কম ইমিউনিটি থাকার জন্য মহিলারা বিপদের মুখে থাকেন। এর পাশাপাশি তামাক সেবন করলে হার্টেরও যথেষ্ট ক্ষতি হয়। কারণ হার্টে রক্ত সঞ্চালন কমে, টিস্যুর ক্ষতি হয় এবং সেই সঙ্গে হাড় ও দাঁতের ক্ষয়ও হতে থাকে। নিকোটিনের কারণে ব্যাকটেরিয়া জমা হয়। ফলে মুখ থেকে দুর্গন্ধ বার হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে একটি দৃশ্যমান সাদাটে আস্তরণ এবং ক্ষতস্থান তৈরি হতে পারে। যা ক্যানসারের প্রাথমিক উপসর্গ হতে পারে। যদি দ্রুত এই অভ্যাস বন্ধ করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বেছে নেওয়া যায়, তাহলে মুখের স্বাস্থ্য ভাল রাখা সম্ভব।

চিকিৎসক মুন চট্টরাজ
চিকিৎসক মুন চট্টরাজ

ডা. হ্যাররজ ওয়েলনেসের আন্তর্জাতিক এস্থেটিক বিশেষজ্ঞ নৃপেন্দ্র গুহর কথাতেও শোনা গেল একই সুর। তামাকের কারণে আণবিক এবং কসমেটিক ক্ষতির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, তামাক ব্যবহারের ফলে মুখ এবং গলা একাধিক কার্সিনোজেনের সংস্পর্শে আসে। যা উল্লেখযোগ্য ভাবে মুখের ক্যানসারের আশঙ্কা অনেকাংশে বাড়িয়ে দিতে পারে। এই ক্ষতিকর রাসায়নিক ডিএনএ-র ক্ষতি করে দিতে পারে। অনিয়ন্ত্রিত কোষ বৃদ্ধি এবং ক্যানসারজনিত টিউমারের আশঙ্কা বেড়ে যায়। এখানেই শেষ নয়, ওরাল টিস্যুর উপর জেনোটক্সিক এবং প্রদাহজনিত প্রভাবের মাধ্যমে মুখের ক্যানসারের জন্য দায়ী ধোঁয়াহীন তামাক।

চিকিৎসক নৃপেন্দ্র গুহ
চিকিৎসক নৃপেন্দ্র গুহ

তামাক সেবনের দৃশ্যমান প্রভাব সম্পর্কে তিনি আরও বলেন যে, ত্বক এবং চুলের উপর তামাক সেবনের একাধিক দৃশ্যমান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। রক্ত সঞ্চালন কমে যাওয়ার কারণে কোলাজেন এবং ইলাস্টিনের ক্ষতি হয়। এর প্রভাবে সময়ের আগেই বার্ধক্যের ছাপ পড়ে, ত্বক কুঁচকে যায়, গায়ের রঙ ফ্যাকাসে হতে থাকে, চুল ঝরে যায় এবং চুল অকালে পেকে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সোরিয়াসিস, একজিমা, অ্যাকনে, ভাস্কুলাইটিস, পালমার টেলান্জিয়েকটেসিস, লুপাস, স্কিন টিউবারকিউলোসিস, অ্যালোপেশিয়া, পলিমরফিক লাইট ইরাপশন এবং পালমোপ্ল্যান্টার ইউসটুলোসিস হতে পারে। এগুলি কিন্তু গুরুতর। আর তা সারানোও সম্ভব নয়।

অনেকেই ওষুধ কিংবা থেরাপির উপর ভরসা করেন। কিন্তু এই প্রসঙ্গে নৃপেন্দ্র গুহ জানান যে, ধূমপান ত্যাগ করার একমাত্র বিকল্প হল ইচ্ছাশক্তি। কোনও ওষুধ, রিহ্যাব কেন্দ্র, কিংবা চিকিৎসক এই বিষয়ে কিন্তু সাহায্য করতে পারবেন না। বরং নিজের ইচ্ছাশক্তির জোরেই এটা কাটানো সম্ভব। তাই তামাক-বিরোধী দিবসে সমস্ত বিশেষজ্ঞের আর্জি, প্রথম পদক্ষেপটা এখন থেকেই গ্রহণ করতে হবে। আর সেটা হল – ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ। সেটা কঠিন হলেও এর ভাল প্রভাবের কথা ভেবে তা করার চেষ্টা করতে হবে।