সামনে এসেই যাচ্ছে সত্য, লস্কর জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাপ্রধান মুনিরের ছবিতে ছয়লাপ পাকিস্তান

সামনে এসেই যাচ্ছে সত্য, লস্কর জঙ্গিদের সঙ্গে সেনাপ্রধান মুনিরের ছবিতে ছয়লাপ পাকিস্তান

করাচি : পাকিস্তান যে জঙ্গিদের ‘স্বর্গরাজ্য’ আরও একবার তা প্রমাণ হয়ে গেল। লস্কর-ই-তৈবার কমান্ডার এবং পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ছবি-সহ পোস্টার সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ল। ১৯৯৮ সালের ২৮ মে বালুচিস্তানে পাঁচটি ভূগর্ভস্থ পরমাণু পরীক্ষার ঘটনাকে স্মরণ করে ‘ইয়ুম-ই-তকবীর’ বা ‘মহানতার দিন’-এর ২৭তম বার্ষিকী পালন হচ্ছে পাকিস্তানে। সেই উপলক্ষে করাচি থেকে লাহোর, দেশের বিস্তীর্ণ অংশে এরকম বহু পোস্টার ও ডিজিটাল সাইনবোর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে একসঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে লস্কর ই তৈবা ও পাকিস্তান সেনার শীর্ষ জেনারেলরা। বিভিন্ন জায়গায় বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে। সংবাদ সংস্থা IANS সূত্রের খবর। এমন একটা সময় বিষয়টা সামনে এসেছে যখন গোটা বিশ্ব ইসলামাবাদকে বারবার তার নিয়ন্ত্রণাধীন সমস্ত জায়গা থেকে পরিচালিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বিশ্বাসযোগ্য পদক্ষেপ নিতে বলছে।

গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরীহের প্রাণ চলে যায়। যে ঘটনার দায় স্বীকার করে The Resistance Front (TRF)। এটি রাষ্ট্রসংঘের জঙ্গি তকমাপ্রাপ্ত সংগঠন তথা পাকিস্তানের লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন। যদিও বিবৃতি দিয়ে পাকিস্তান তাদের সামরিক বাহিনী এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলির মধ্যে গভীর সম্পর্কের কথা বরাবরের মতো এবারও অস্বীকার করে এসেছে। অথচ পাকিস্তানের এই সংগঠনগুলির সন্ত্রাস চালানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তা সত্ত্বেও পাকিস্তান বারবার মূল বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু, সন্ত্রাসবাদের মদত দেওয়া এবং সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যে কোনো সম্পর্ক থেকে নিজেকে মুক্ত করার পাকিস্তানের কুৎসিত প্রচেষ্টা কার্যত প্রতিদিনই সামনে চলে আসছে, শুধু ‘ইয়ুম-ই-তকবীর’-এই নয়।

এর আগে পাকিস্তান প্রশাসনের জঙ্গি-ঘনিষ্ঠতার পর্দাফাঁস করেছে ভারত। ৭ মে অপারেশন সিঁদুরে নিহত লস্কর জঙ্গি হাফিজ আব্দুল রউফের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন পাক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তারা। রউফ আমেরিকার খাতায় নাম থাকা কুখ্য়াত আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী। ছবি প্রকাশ করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, মুরিদকেতে নিহত জঙ্গিদের শেষকৃত্য হয়। জঙ্গিদের শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন লাহোরের ফোর্থ কর্পস কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল ফায়াজ হুসেন শাহ, মেজর জেনারেল রাও ইমরান সরতাজ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্রিগেডিয়ার মহম্মদ ফুরকান শাব্বির , পাকিস্তানের পাঞ্জাব পুলিশের ইনস্পেক্টর জেনারেল উসমান আনোয়ার এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের বিধায়ক মালিক সোহেব আহমেদ।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানায়, অপারেশন সিঁদুরে পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ২১টি জঙ্গি ঘাঁটি শনাক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত।

(Feed Source: abplive.com)