Mainul Ahsan Nobel: ড্রাগের নেশায় বুঁদ হয়ে নাগাড়ে ধর্ষণ, জেলবন্দি নোবেল ঈদে এখন কাঁদছে…

Mainul Ahsan Nobel: ড্রাগের নেশায় বুঁদ হয়ে নাগাড়ে ধর্ষণ, জেলবন্দি নোবেল ঈদে এখন কাঁদছে…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে হঠাৎ আলোর ঝলকানির মতো যে নামটি উজ্জ্বল আলোয় উদিত হয়েছিল, সেটি এখন বহুল অংশেই বিতর্ক আর সমালোচনার আবর্তনে ঢাকা। সারেগামাপা থেকে উঠে আসা গায়ক মাঈনুল আহসান নোবেলের কথা। বাংলাদেশের সংগীতমঞ্চে রাজকীয় আবির্ভাব ঘটিয়ে তিনি দ্রুতই নজর কেড়েছিলেন, তবে একের পর এক বিতর্কিত ঘটনায় সেই স্থান ধূলোয় মিশিয়ে যায়। সর্বশেষ, নারী নির্যাতনের এক মামলায় তাঁকে যেতে হয়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে। ৪টি বিয়ে, আর প্রত্যেক বিয়েতেই ওর বিরুদ্ধে উঠেছে গার্হস্থ্য হিংসা, যৌন অত্যাচার এবং মাদকে ডুবে থাকার অভিযোগ।

কারাগারে নোবেলের গান: 

যাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণ, নারী-নির্যাতনের মতো অভিযোগ, তাঁরই কণ্ঠে সপ্তসুর! শনিবার বকরি ঈদে তাঁর গান শুনে এমন প্রশ্ন ভেসে বেড়িয়েছে লৌহকপাটের অন্দরে। বাংলাদেশের খ্যাতনামী গায়ক মাঈনুল আহসান নোবেলের এ বছরের ঈদ যাপন ঢাকা কেন্দ্রীয় সংশোধনাগারে। এ দিন তিনি গান শোনান সেখানকার অন্য আবাসিকদের। কখনও কণ্ঠে তাঁর প্রিয় গায়ক জেমসের ‘ভিগি ভিগি’। কখনও নিজের গান ‘অভিনয়’। মঞ্চে নোবেল গাইছেন আইয়ুব বাচ্চুর ‘সেই তুমি কেন এত অচেনা হলে’। গানের কথা যেন শ্রোতাদের মনের কথা। তাঁরা তো এই গায়ককেই চিনতেন। তাঁর গান ভালবাসতেন। কী করে সেই মানুষ এত বদলে গেলেন?

২০২৫-এর এই ঈদ ঢাকার সংশোধনাগারের ইতিহাসেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে অনেকের দাবি। নোবেলের গান থামতেই আবেগাপ্লুত কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক। তিনি বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সমস্ত বড় সংশোধনাগারেই এই ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অংশ নেন সংশোধনাগারের আবাসিকেরা। তাঁদের নতুন ভূমিকায় দেখে খুশি তাঁদের পরিবার-পরিজনেরাও।

কারা কর্তৃপক্ষের অভিনব উদ্যোগ

ঈদের বিকেল সাড়ে তিনটায় কারা কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে বন্দিশালার মাঠে শুরু হয় এই সাংস্কৃতিক আয়োজন। সেখানে অংশ নিয়ে নোবেল শুধু গানই শোনাননি, বরং বন্দিদের মধ্যে আনন্দ ও উৎসবের আবহও সৃষ্টি করেন। কারাগারের ঈদ অনুষ্ঠান যেন ভিন্নমাত্রা পায় তাঁর পরিবেশনায়। অনেকেই মনে করছেন, এই পরিবেশনা হয়তো নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে নোবেলের ভক্তদের কাছে। হয়তো তাঁরা চান, নোবেল নিজেকে সংশোধন করে আবার ফিরুক রাজার বেশে তার মূল পরিচয়ে।

নোবেলর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

যদিও সংগীতের এই রঙিন মঞ্চের আড়ালে তার বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অভিযোগের ছায়া। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নোবেলের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে তাঁকে মারধরের দৃশ্য দেখা যায়।

নিজের ছাত্রীকে সাত মাস ধরে একটি বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগ গায়কের বিরুদ্ধে। তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে সংশোধনাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও নোবেলের আইনজীবী অভিযোগকারিণীকে নোবেলের স্ত্রী বলে দাবি করেছেন। কিন্তু আদালতে বিয়ের কোনও প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি নোবেল। ১৯ মে থেকে কেন্দ্রীয় স‌ংশোধনাগারে দিন কাটছে গায়কের।

সমালোচিত ও বিতর্কিত অবস্থান সত্ত্বেও ঈদের দিন জেলের অন্দরে সংগীত পরিবেশন করে নোবেল যে অন্য এক মুখ দেখিয়েছেন, তা বলাই যায়। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ গানের মঞ্চে ফিরবে কিনা, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

(Feed Source: zeenews.com)