
Stomach Cancer: পেটের ক্যানসারের প্রথম পর্যায়ে উপসর্গ অনেক সময় বোঝা যায় না। তবে হজমে সমস্যা, খিদে কমে যাওয়া, হঠাৎ ওজন কমা, ও খাবার পর বমিভাব—এই লক্ষণগুলো দীর্ঘদিন থাকলে তা উপেক্ষা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বিস্তারিত জানুন…
পেটের ক্যানসার প্রথম লক্ষণ: খারাপ জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস অনেক সময় পেটের ক্যানসারের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এটি একটি গুরুতর এবং প্রাণঘাতী অসুখ। তবে প্রথম স্টেজে এর উপসর্গ সাধারণত ধরা পড়ে না। তাই সময়মতো শনাক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম স্তরের লক্ষণ বোঝা কঠিন: পেটের ক্যানসার এমন একটি রোগ যা সাধারণত অনেক দেরিতে ধরা পড়ে। বেশিরভাগ সময় এটি শেষ পর্যায়ে বোঝা যায়, ফলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যায়। তবে কিছু সূক্ষ্ম উপসর্গ শুরুতেই দেখা দেয়, যা উপেক্ষা করলে বিপদ ডেকে আনতে পারে।
পেটে জ্বালাপোড়া ও হজমে সমস্যা: পেটের ক্যানসারের শুরুর দিকে হালকা পেট ব্যথা, জ্বালাপোড়া বা হজমের সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় আমরা এসব সমস্যাকে সাধারণ গ্যাস-অম্বলের সমস্যা বলে ধরে নিই। কিন্তু এই উপসর্গ যদি দীর্ঘদিন থাকে, তাহলে এটি পেটের ক্যানসারের ইঙ্গিত হতে পারে।
খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাওয়া ও তাড়াতাড়ি পেট ভরে যাওয়া: যদি অল্প খেয়ে পেট ভর্তি লাগছে বা খেতে ইচ্ছা না করে, তাহলে তা স্বাভাবিক নয়। এটি পেটের ভিতরের দেয়ালে টিউমার গঠনের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে খাবারে আগ্রহ কমে যায় এবং মানুষ দ্রুত পেটভর্তি অনুভব করে।
অবাঞ্ছিত ওজন হ্রাস: যদি কোনও ডায়েট বা এক্সারসাইজ ছাড়াই ওজন হঠাৎ কমে যায়, তাহলে সেটা পেটের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। ক্যানসার কোষের বৃদ্ধির কারণে শরীরের মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, যার ফলে ১-২ মাসে অনেকটা ওজন কমে যেতে পারে।
বমিভাব ও বমি: পেটের ক্যানসারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা প্রায়ই বমিভাব বা খাবার খাওয়ার পরে বমি অনুভব করেন। এটি পেটের দেওয়ালে হওয়া অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে হয়। বিশেষত খাবার খাওয়ার পরে এই সমস্যাগুলো বেশি দেখা যায়।
রক্তশূন্যতা ও দুর্বলতা: প্রথম স্টেজে মাঝে মাঝে হালকা রক্তশূন্যতা ও দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। ক্যানসার কোষ শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টি শোষণ করতে বাধা দেয়, ফলে রোগী ক্রমাগত ক্লান্ত অনুভব করতে পারেন।
বদহজম ও ঢেকুর: বদহজম, গ্যাস জমা এবং অস্বাভাবিক ঢেকুর ওঠা, এগুলিও প্রথম পর্যায়ের লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় খাবার হজম হতে দেরি হয় এবং পেটে ভারী অনুভব হয়।
সময়মতো চিকিৎসা জরুরি: এই উপসর্গগুলি যদি একসঙ্গে বা ধারাবাহিকভাবে দেখা যায়, তবে অবহেলা না করে দ্রুত একজন গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট বা ক্যানসার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ প্রাথমিক স্তরে চিকিৎসা শুরু হলে এই প্রাণঘাতী রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
দিল্লি AIIMS-এর গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডঃ নীলেশ গুপ্তা বলেছেন, “প্রথম দিকে পেটের ক্যানসারের উপসর্গ বোঝা যায় না বলেই বিপদ বাড়ে। হজমে সমস্যা বা খিদে কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দীর্ঘদিন থাকলে অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞের কাছে যান৷”
Disclaimer: এই খবরের মধ্যে দেওয়া ওষুধ/স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রাপ্ত। এটি সাধারণ তথ্য এবং ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনও কিছু ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিউজ18 বাংলা কোনও ব্যবহারে ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে না।
(Feed Source: news18.com)
