
KK: আরাধ্য শিল্পীকে স্বচক্ষে দেখতে না পারলেও পরবর্তীতে সেই মঞ্চের সামনে গিয়ে গান এবং রাস্তাঘাটে বিভিন্ন জায়গাতে সাধারণ মানুষকে কে কে র গান শুনিয়ে মনোরঞ্জন করে চলেছেন তিনি।
কে কের মূর্তির সামনে গান গাইছে শুভঙ্কর
নদিয়া: বেড়ার ঘরে ভাঙা টিনের চাল! তারই মধ্যে সযত্নে রাখা রয়েছে গিটার, হারমোনিয়াম, তবলা। ভাঙা বেড়া ফুটো টিন ভেদ করে বেরয় সুর-তাল-ছন্দ। সংসারে উপার্জন নেই। চরম দারিদ্রতা থাকলেও গানের প্রতি ভালবাসার কারণে এখন রাস্তায় রাস্তায় গান গেয়ে বেড়াচ্ছেন নদিয়ার হবিবপুর দেবীপুর এলাকার যুবক শুভঙ্কর রায়। বাবা দীনবন্ধু রায় বছর কয়েক আগে পক্ষাঘাতে গুরুতর অসুস্থ পেশায় হকারি করেও বিভিন্ন জায়গায় গানের চর্চা করতেন। তবে এত অভাবের মধ্যেও সুরের চর্চা ছাড়েন না শুভঙ্কর। একটি টোটো চালায় দুই ভাই। দাদাও সঙ্গীতের চর্চা করেন।
বেশ কিছু বছর আগে কর্মসূত্রে ভিন রাজ্যে গেলেও গানের চর্চা থেকে দূরে সরে যাওয়ার কারণে আবারও বাড়িতে ফিরে এসে নতুন করে গান নিয়ে চর্চা শুরু করেছেন তিনি। তবে প্রখ্যাত গায়ক প্রয়াত কৃষ্ণকুমার কুন্নথ (কে কে)-র ফ্যান। এর আগে কলকাতায় যখন সঙ্গীত শিল্পী এসেছিলেন, তখন তাঁর কনসার্টে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল শুভঙ্করের। কিন্তু বিশেষ কারণবশত যেতে না পারায় এবং পরবর্তীতে সেই মঞ্চেই অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর শিল্পীর মৃত্যু হওয়ার পরেই রীতিমতো ভেঙে পড়েন শুভঙ্কর। তাঁর আরাধ্য শিল্পীকে স্বচক্ষে দেখতে না পারলেও পরবর্তীতে সেই মঞ্চের সামনে গিয়ে গান এবং রাস্তাঘাটে বিভিন্ন জায়গাতে সাধারণ মানুষকে কে কে র গান শুনিয়ে মনোরঞ্জন করে চলেছেন তিনি।
পরিবারের লোকজন সেভাবে কাজ করতে না পারলেও গান গেয়ে যদি রাস্তায় এবং বিভিন্ন জায়গায় কিছু অর্থ উপার্জন হয়, সেটা দিয়েই পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন শুভঙ্কর। শিল্পী জানান অর্থ রোজগারের আশায় তিনি গান করেন না, সকলের মাঝে প্রিয় শিল্পীকে বাঁচিয়ে রাখতে তাঁর এই প্রয়াস। বিভিন্ন অডিশনে গেলেও এখনও বড় কোনও প্ল্যাটফর্ম পাননি তিনি, একজন শিল্পী হিসাবে সেই ইচ্ছাই রয়েছে মনের অন্তরালে।
মৈণাক দেবনাথ
