
কলকাতা: বর্তমানে মানুষ সম্পর্কের কথা অনেকটা খোলামেলা ভাবে বলতে শিখেছেন। নিজেদের পছন্দগুলোকে প্রাধান্য দিতে শিখেছেন। আর তার ছায়া পড়েছে বিনোদনেও। এখন সামাজিক গল্পেও সম্পর্কের বিভিন্ন বাঁক আলোচনা করা হচ্ছে সাবলীলভাবেই। যে সম্পর্কের কথা চিরকালই লুকিয়ে এসেছেন মানুষ, তেমন সম্পর্কের গল্পই এখন উঠে আসছে পর্দায়। সম্পর্কের গল্প বলায় যেমন সাহসী হয়েছে সিনেমা, ততটাই বা তার থেকেও বেশি সাহসী হয়েছে ওয়েব সিরিজ। বাংলাও সেই দৌড়ে পিছিয়ে নেই। ‘হইচই’ ওয়েব প্ল্যাটফর্মে মুক্তির অপেক্ষায় এক ত্রিকোণ প্রেমের গল্প, ‘বাতাসে গুনগুন’। অভিনয়ে সুহোত্র মুখোপাধ্যায় (Suhotra Mukhopadhay), মানালি দে (Manali Dey) ও সৃজলা গুহ (Srijla Guha)।
বর্তমানে মানুষ কী সম্পর্কের বিভিন্ন পরতকে পর্দায় বেশি দেখতে চাইছেন? এবিপি লাইভ বাংলাকে সুহোত্র বলছেন, ‘সম্পর্ক মানুষের জীবনে একটা অংশ। ত্রিকোণ প্রেম নতুুন কোনও বিষয় নয়। ইতিহাসেই আমরা এইরকম ঘটনা পেয়ে থাকি। মানুষ তো আসলে সময়ের দাস। ভালবাসাও সময়ের দাস। সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভালবাসার রসায়নগুলো ও কীভাবে পরিবর্তন হতে থাকে সেগুলোই গল্প হয়ে ওঠে। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ‘বাতাসে গুনগুন’ একটা ত্রিকোণ প্রেমের গল্প। আজ থেকে ১৫, ২০, ৩০ বছর আগে মানুষ নিজেদের পছন্দ নিয়ে এতটা খোলামেলা ছিল না। সমাজেরও একটা চাপ ছিল যে আপনি কতটা খোলামেলা হবেন প্রেমের জীবন নিয়ে.. সেটা এখন নেই। এখন আমরা অনেকটাই উদার হয়েছি।’ সুহোত্র নিজে প্রেমের কোন সংজ্ঞায় বিশ্বাসী? একটু হেসে সুহোত্র বললেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, প্রেমের কোনও সংজ্ঞা হয় না। প্রেম গরমকালের কালবৈশাখীর মতো। কখন আসবে কেউ জানে না। যখন আসবে, সেই ঝড়টাকে মেনে নেওয়া ছাড়া আর উপায় নেই।’
মানালি নাকি সৃজলা, সুহোত্রর কার সঙ্গে অনস্ক্রিন রসায়ন ভাল জমল? অভিনেতা বলছেন, ‘মানালির সঙ্গে তো আমি এর আগে অনেকগুলো কাজ করেছি। মানালি এখনও পর্যন্ত যা যা সিরিজ করেছে, প্রত্যেকটাতেই আমার বিপরীতে মানালি। তাই ওর সঙ্গে আমার আগে থেকেই একটা রসায়ন রয়েছে। অভিনয়ের ক্ষেত্রে এটা একটা সুবিধা দেয়। সৃজলার সঙ্গে আমার এই প্রথমবার কাজ হল। সেটা করতে গিয়েও কোনও সমস্যা হয়নি। আমরা খুব ভাল মিশে গিয়েছিলাম। আমাদের দুজনের অনেক দৃশ্য ছিল। ও খুব ভাল সহ অভিনেতা।’
কেন ‘বাতাসে গুনগুন’-এর চরিত্রটা টেনেছিল সুহোত্রকে? অভিনেতা বলছেন, ‘প্রথম কারণ হল এই টিমটা আমার চেনা। আর চিত্রনাট্যটাও ভীষণ ভাল লেগেছিল। এমন চরিত্র আমি আগে করিনি। সব শিল্পীরই একটা ঝোঁক থাকে যে যেমন চরিত্র আগে করিনি তেমন চরিত্র করব। এটা সেই সুযোগ দিয়েছিল আমায়। আর অদিতিদি এই সিরিজের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর। আমার জীবনে প্রথম মুক্তি পাওয়া কাজ অদিতিদির। ‘অন্য় বসন্ত’ বলে একটি ছবি করেছিলাম। ১০ বছর পরে আবার অদিতিদির সঙ্গে কাজ করলাম। সব মিলিয়েই এই সিরিজটার জন্য রাজি হওয়া।’
১০ বছর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুহোত্র। নিজেকে কোন চরিত্রে সবচেয়ে সফল বলে মনে করেন? অভিনেতা বলছেন, ‘আমি এখনও নিজেকে সফল বলে মনে করি না। যখন যে চরিত্রে অভিনয় করি, সেটা আমার কাছে একটা সফর। সেই সফরটা শেষ হলে আবার পরের সফরে যাওয়া। সফল মনে করলে তো আমার যাত্রাটাই শেষ হয়ে যাবে। আর কোথাও যেতে পারব না। সাফল্য বা সফলতা আমাদের কাজের একটা ব্যবসায়ীক দিকও বটে। আমার অনেক কাজেই আমি মানুষের ভালবাসা পেয়েছি। যদি অভিনেতা হিসেবে বলেন, তাহলে আমার মনে হয় না আমি এখনও সফল। চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
১০ বছর কাজের পরেও কোনও স্বপ্ন অপূর্ণ রয়ে গিয়েছে? সুহোত্র হেসে বললেন, ‘প্রচুর..প্রচুর। একজন শিল্পী তো স্বপ্ন দিয়েই তৈরী। টলিউড একটা ছোট ইন্ডাস্ট্রি। তার বাজেট কম। কম দিনে শ্যুটিং করি। বড় স্কেলের কাজ এখানে করা সম্ভব না। কোনও সুপারহিরো চরিত্র আমার ভীষণ ভাল লাগে। তবে সেই ধরণের কাজ এখানে হয় না। আমার অ্যাকশন ফিল্ম ও করার ইচ্ছা রয়েছে। আমি তো মাত্র ১ দশক হল কাজ শুরু করেছি। এখনও নিজেকে খোঁজা বাকি। কেবল বাংলা নয়, সারা পৃথিবী জুড়েই আমি কাজ করতে চাই।’
টলিউডের অভ্যন্তরে একের পর এক সমস্যা, শ্যুটিং বন্ধ.. লেগেই রয়েছে। এতে কি সিনেমা বা সিরিজের ক্ষতি হচ্ছে? সুহোত্র বলছেন, ‘অবশ্যই হচ্ছে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে একটা মানুষের নয়। প্রত্যেকটা মানুষ প্রত্যেকটা মানুষের সঙ্গে যুক্ত। সবাই একসঙ্গে কাজ করলে তবেই কাজটা ভাল হয়। কিন্তু পরিবারের মধ্যেই যদি ঝামেলা শুরু হয়.. যেমন শরিকি মামলায় কোনও বাড়ি আটকে গেলে সেখানে কেউ থাকতে পারে না। অনেক শ্যুটিং শুরু হয়ে ২-৩ দিন পরেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একে কারোর একার ক্ষতি হচ্ছে না। সার্বিক ইন্ডাস্ট্রিরই ক্ষতি হচ্ছে।’
(Feed Source: abplive.com)
