
Heart Attack in Young Adults: কোভিড-পরবর্তী সময়ে তরুণদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাসজনিত প্রদাহ, মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাপন এর প্রধান কারণ। সময় থাকতেই সচেতনতা ও হার্ট চেকআপ জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
গত কয়েক বছরে তরুণদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে—বিশেষ করে কোভিড-পরবর্তী সময়ে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একসময় বয়স্কদের রোগ বলে ধরা হলেও, এখন এই সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণরাও। এর পেছনে রয়েছে ভাইরাসের সরাসরি প্রভাব, জীবনের ছন্দে পরিবর্তন এবং অনেক অজানা স্বাস্থ্য ঝুঁকি।
কোভিড-১৯ মূলত শ্বাসযন্ত্রের অসুখ হিসেবে পরিচিত হলেও, গবেষণায় দেখা গেছে এটি হৃদযন্ত্রের উপরেও দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। এই ভাইরাস রক্তনালিতে প্রদাহ সৃষ্টি করে, রক্তের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তচাপ বাড়াতে পারে—যা মিলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা, হাই ব্লাড প্রেসার বা ডায়াবেটিস রয়েছে, কিন্তু তারা হয়তো তা জানেনই না।
আপোলো হাসপাতালের সিনিয়র ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডাঃ সরিতা রাও জানিয়েছেন, “হার্ট অ্যাটাকের পেছনে কোভিডের সুপ্ত প্রভাব ক্রমেই বেড়ে চলেছে এবং তা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি হতে চলেছে।”
একটি বিস্তৃত গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড আক্রান্ত ১.৫ লক্ষাধিক ব্যক্তিদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেলিউর, অ্যারিদমিয়া এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেক বেশি ছিল—এমনকি যদি আগেই কোনও হৃদরোগ না থাকে তাহলেও। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হেলথ (NIH)-এর একটি গবেষণায় দেখা যায়, কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার সমস্যা ২ থেকে ৪ গুণ পর্যন্ত বাড়তে পারে, এবং এই ঝুঁকি তিন বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
যদিও হালকা কোভিডে সরাসরি হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কম, কিন্তু লকডাউন, ওয়ার্ক ফ্রম হোম, মানসিক চাপ, কম এক্সারসাইজ এবং অনিয়মিত ঘুম তরুণদের হৃদযন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, যারা টিকা নিয়েছেন তাদের মধ্যে হৃদরোগের আশঙ্কা অনেক কম। কারণ ভ্যাকসিনের ফলে রোগের তীব্রতা কমে এবং রক্তে লিপিড প্রোফাইল ভালো থাকে। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া ও যুক্তরাজ্যের গবেষণায় একই তথ্য মিলেছে।
এই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি শুধুমাত্র কোভিডের জন্য নয়—বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ভুল অভ্যাসের প্রতিফলন। জিনগত ঝুঁকি, অনিয়মিত জীবনযাপন, ভেজাল খাবার, পরিবেশগত দূষণ এবং ক্রনিক স্ট্রেস সব মিলে তরুণদের হৃদপিণ্ড দুর্বল করে দিচ্ছে।
এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রয়োজন এক সর্বাঙ্গীন দৃষ্টিভঙ্গি—প্রথম থেকে হার্ট চেকআপ, প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা, সুস্থ অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো। তরুণ প্রজন্মের হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে এই বিষয়গুলিকে এখনই গুরুত্ব দিতে হবে।
Disclaimer: এই খবরের মধ্যে দেওয়া ওষুধ/স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রাপ্ত। এটি সাধারণ তথ্য এবং ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনও কিছু ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিউজ18 বাংলা কোনও ব্যবহারে ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে না।
(Feed Source: news18.com)
