Zealandia: ৫০ লক্ষ বর্গ কিমি আয়তন, ৪৩০০ কিমি দীর্ঘ! ১০ কোটি বছর আগের ভয়ংকর এক ম্যাগমা-তাণ্ডবে মহাসমুদ্রের নীচে…

Zealandia: ৫০ লক্ষ বর্গ কিমি আয়তন, ৪৩০০ কিমি দীর্ঘ! ১০ কোটি বছর আগের ভয়ংকর এক ম্যাগমা-তাণ্ডবে মহাসমুদ্রের নীচে…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ‘তে রিউ-আ-মাউই’ (Te Riu-a-Māui)! একটি মহাদেশের নাম। নতুন মহাদেশ। অষ্টম মহাদেশ বলা যেতে পারে একে। বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরেই এই মহাদেশে নিয়ে গবেষণা করে চলেছেন। তবে সম্প্রতি অষ্টম মহাদেশে (Earth’s hidden eighth continent)-র খবরটি আবার শিরোনামে উঠে এসেছে। নাম তার ‘জিল্যান্ডিয়া’ (Zealandia)।

‘জিল্যান্ডিয়া’

নতুন কী হয়েছে এই ‘জিল্যান্ডিয়া’ নিয়ে? নতুন কী ঘটল? আসলে ‘জিল্যান্ডিয়া’ আবিষ্কার সংক্রান্ত কাজে বহুদিন ধরেই ব্যস্ত রয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর এই লুকনো মহাদেশ– অষ্টম মহাদেশ– জিল্যান্ডিয়ার সম্পূর্ণ ভূতাত্ত্বিক মানচিত্র উন্মোচন করতে পেরেছেন। সমুদ্রতলের নমুনা বিশ্লেষণে একটি বিশাল আগ্নেয়গিরি-অঞ্চল প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। এই আগ্নেয়গিরি-অঞ্চলই গন্ডোয়ানা সুপারকন্টিনেন্ট গঠন ও চার হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ এই গ্রানাইট কাঠামোর বিচ্ছন্ন হওয়ার ক্ষেত্রে দায়ী বলে মনে করছেন তাঁরা। মোটামুটি ১০ থেকে ৬ কোটি বছর আগে গন্ডোয়ানা থেকে বিচ্ছিন্ন হয় জিল্যান্ডিয়া।

লুকনো মহাদেশ

১৯৯৫ সালে প্রথম জিল্যান্ডিয়া মহাদেশের খবর প্রকাশ্যে আসে। ২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ডের জিওলজিক্যাল ও নিউক্লিয়ার সায়েন্স ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা এই মহাদেশের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেন। মাউরি ভাষায় এই মহাদেশের নাম রাখা হয়েছে ‘তে রিউ-আ-মাউই’। জিল্যান্ডিয়াকে পৃথিবীর লুকনো অষ্টম মহাদেশ হিসেবে ঘোষণা করেন তাঁরা। বৈচিত্র্যময় ভূত্বক ও বিশাল আকারের এই হারানো মহাদেশ অস্ট্রেলিয়া থেকে ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন। প্রশান্ত মহাসাগরের নিউ ক্যালেডোনিয়ার কাছে সমুদ্রতলের পাথরের নমুনা সংগ্রহ করার জন্য ২০১৭ সালে অভিযান করা হয়। তখনই এই মহাদেশের অস্তিত্ব খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা।

 ৯৫ শতাংশই জলের তলায়

‘তে রিউ-আ-মাউই’ তথা পৃথিবীর অষ্টম মহাদেশ, তথা বিশ্বের লুকনো এই মহাদেশ এক আশ্চর্য জগৎ। মোটামুটি ৫০ লক্ষ বর্গ কিমি আয়তন এর, ৪৩০০ কিমি দীর্ঘ– ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে এ এক আশ্চর্য ভূখণ্ড এই অঞ্চল! বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই মহাদেশের ৯৫ শতাংশই এখনও জলের তলায়। মাত্র ৫ শতাংশই দেখা গিয়েছে! সেডিমেন্টারি জোন, আগ্নেয়গিরি-অঞ্চলে ঘেরা এটিই সম্ভবত পৃথিবীর শেষ মহাদেশ।

ম্যাগমা-তত্ত্ব

এই গবেষণাদলের প্রধান লেখক নিক মর্টিমার জিল্যান্ডিয়া প্রসঙ্গে ম্যাগমা উদগীরণের প্রসঙ্গ আলোচনা করেছেন। তাঁর কো-অথর ওয়ান্ডা স্ট্র্যাটফোর্ডও ম্যাগমা নিয়ে কিছু ব্যাখ্যা হাজির করেন। তিনি বলেছেন, আগের গবেষণাগুলিতে এই ম্যাগমা-তত্ত্বকে তার যথাযোগ্য মর্যাদা দেওয়া হয়নি। জানা গিয়েছে এই আগ্নেগিরি অঞ্চলটি প্রায় ২৫০০০০ বর্গ কিমি জুড়ে বিস্তৃত।

(Feed Source: zeenews.com)