খ্যাতির সঙ্গে ছিল বিতর্কও, প্রয়াত কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভিএস অচ্যুতানন্দন

খ্যাতির সঙ্গে ছিল বিতর্কও, প্রয়াত কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভিএস অচ্যুতানন্দন

৮২ বছর বয়সে পার্টির প্রবীণতম সদস্যের অ্যাখ্যায় ভূষিত হয়েছিলেন ভিএস অচ্যুতানন্দন। সামলেছেন দলের রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব। সম্প্রতি হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর থেকে প্রায় এক মাস ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। ১০২ বছর বয়সে তিরুঅনন্তপুরমের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সোমবার প্রয়াত হলেন কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ২০০৬ সাল থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ছিলেন কেরলের মসনদে। রাজনীতির আঙিনায় এছাড়়াও, তিন দফায় মোট ১৪ বছর ছিলেন বিরোধী দলনেতা। স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে দেশভাগ, সাক্ষী ছিলেন দেশের নানা টালমাটাল সময়ের। সোমবার দুপুরে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করলেন এই প্রবীণ রাজনীতিক।

স্বাধীনতাপূর্ব ভারতে শুরু রাজনীতি

অচ্যুতানন্দনের জন্ম ১৯২৩ সালের ২০ অক্টোবর কেরলের আলেপ্পি জেলায়। ১৯৪৬ সালে ব্রিটিশ সরকারের আমলে কেরলে সংঘটিত হয় পুন্নাপ্রা ভয়েলার ধর্মঘট-আন্দোলন। সেখানে যোগ দিয়ে প্রথম রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তাঁর। ধীরে ধীরে রাজ্য রাজনীতিতে ‘ভিএস’ নামে সুপরিচিত হয়ে ওঠেন অচ্যুতানন্দন।দলের পাশাপাশি পরিষদীয় রাজনীতিতেও ছিলেন তুখোড়

দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি পরিষদীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন অচ্যুতানন্দন। অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতিতে মালয়ালি নেতৃত্ব হিসেবে ভিএস প্রথম সারিতেই ছিলেন। অন্যদিকে বিধায়ক পদ সামলেছেন প্রায় ৩৪ বছর। যা এখনও পর্যন্ত কেরলে রেকর্ড হয়ে আছে।সিপিএম-এর গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রথম থেকেই

প্রথম দিকে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টিতে যেমন তাঁর গুরুত্ব ছিল অপরিসীম, তেমনই পরের দিকে সিপিএম-এও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন ভিএস অচ্যুতানন্দন। ১৯৬৪ সালে বামপন্থী কমিউনিস্ট দল বিভক্ত হয়ে সিপিএম তৈরি হলে তিনি সিপিএম-এ যোগ দেন। নতুন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যও করা হয় তাঁকে।

খ্যাতির পাশাপাশি বিতর্কও

তবে খ্যাতি যেমন ভিএস-কে ঘিরে ছিল, তেমনই ঘিরে ছিল বিতর্কও। দলীয় রাজনীতির করার সময় পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে তাঁর সংঘাতের কথা সকলের কাছেই সুবিদিত ছিল। পলিটব্যুরো থেকে তাঁকে সরে যেতে হয় প্রকাশ্যে বিজয়নের সমালোচনা করার জন্য। অন্যদিকে আবার, মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় তীর্থক্ষেত্র শবরীমালা পদব্রজে দর্শন করতে গিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। সাম্প্রতিককালে ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে সীতারাম ইয়েচুরিকে চিঠি লিখে রাজনীতি থেকে অব্যাহতি চান অচ্যুতানন্দন।

(Feed Source: hindustantimes.com)