Jamdani Saree: জমিন জুড়ে থোকা ফুলের বাহারি রূপ, ঐতিহ্যবাহী জামদানির সঙ্গে আধুনিকতার যুগলবন্দি আজ নতুন সাজ সংজ্ঞা

Jamdani Saree: জমিন জুড়ে থোকা ফুলের বাহারি রূপ, ঐতিহ্যবাহী জামদানির সঙ্গে আধুনিকতার যুগলবন্দি আজ নতুন সাজ সংজ্ঞা

Jamdani Saree: জামদানিকে নতুনভাবে সাজিয়ে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে কোমর বেঁধে নেমেছেন ফ্যাশন ডিজাইনিং এর একঝাঁক তরুণ তরুণী।

তাঁতিদের সঙ্গে পড়ুয়ারা 

বনোয়ারীলাল চৌধুরী, কালনা: “জামদানি” শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে সূক্ষ্ম নকশা, শিল্পের ছোঁয়া, আর বাংলার ঐতিহ্যের গর্ব। কিন্তু সেই ঐতিহ্য এখন হারিয়ে যাওয়ার মুখে। তবে আশার আলো জ্বলেছে পূর্ব বর্ধমানের কালনায়। জামদানিকে নতুনভাবে সাজিয়ে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে কোমর বেঁধে নেমেছেন ফ্যাশন ডিজাইনিং এর একঝাঁক ফ্যাশন জিজাইনের পড়ুয়া। কালনার এক শান্ত গ্রাম দত্ত দ্বারিয়াটন। জামদানির ইতিহাস বয়ে চলা এই গ্রামে হঠাৎ ভিড় জমিয়েছিলেন এই ছাত্রছাত্রীরা। কলকাতার সল্টলেকের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজির পড়ুয়া তাঁরা। বইয়ের পাতায় নয়, সকলেই হাতে কলমে শিখতে এসেছিলেন বাংলার গর্ব জামদানি কীভাবে তৈরি হয়। তবে শুধু শিখতেই নয়, এসেছিলেন জামদানিকে নতুনভাবে সাজিয়ে ফের জনপ্রিয় করে তোলার স্বপ্ন নিয়ে।

পড়ুয়া সাগ্নিক মুখোপাধ্যায় বলেন, “এই জামদানি শাড়িকে কী করে আরও আধুনিক করা যায় সেই চেষ্টা করব আমরা। এটা দিয়ে আরও অন্য কিছু তৈরি করা যায় কিনা সেটাও দেখব। এর উপরে কাজ করে সকলের কাছে তুলে ধরাই আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা প্রথম সামনে থেকে সব কাজ দেখলাম”। শিক্ষক হিসেবে ছিলেন কালনার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী জ্যোতিষ দেবনাথ। তিনি আজও একাগ্র মনোযোগে চালিয়ে যাচ্ছেন পুরানো তাঁত। যখন অনেকেই কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় পাড়ি দিয়েছেন, কিন্তু জ্যোতিষবাবু রয়ে গেছেন নিজের শিকড় আঁকড়ে। তাঁর তৈরি শাড়ি বিদেশেও পাড়ি দেয়। জ্যোতিষ বাবু বলেন, “জামদানি শিল্পকে যাতে নতুন করে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় সেই কারণেই পড়ুয়ারা এখানে এসেছে। জামদানি শিল্পকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছানোই আসল উদ্দেশ্য।”

এই শিল্পকে আধুনিক রূপ দিতে পড়ুয়ারা কাজ করছেন নতুন ডিজাইন নিয়ে। কেমন হলে জামদানি আরও বেশি আকর্ষণীয় হবে নতুন প্রজন্মের কাছে? কীভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলে ধরা যায় এই শিল্পকে? এই সবকিছু নিয়ে গবেষণা করছেন পড়ুয়ারা। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ফ্যাশন টেকনোলজির ফ্যাশন ডিজাইন বিভাগের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর অনামিকা দেবনাথ বলেন, “বই থেকে সবকিছু শেখ যায় না। হাতেকলমে শেখানোর জন্যই পড়ুয়াদের নিয়ে এখানে আসা হয়। আর ছাত্র ছাত্রীরা এই জামদানি নিয়ে কাজ করছে এবং আগামী দিনেও করবে।”

(Feed Source: news18.com)