
কথাতেই আছে ষোলো আনা আয় হলে, তার চার আনা অন্তত সঞ্চয় করতে হয়। তবে বর্তমানে অনলাইন নানা ফুড অ্যাপ, শপিং অ্যাপ থেকে শুরু করে ক্রেডিট কার্ড সবটা মিলিয়ে মানুষের জীবন সঞ্চয় বা বিনিয়োগের পরিমাণ কমছে। আবার অনেকে সঞ্চয় করলেও জানেন না তার সঠিক উপায়। তবে এই সব কিছুর মুশকিল আসান করতে স্টার জলসার পর্দায় ৩০ জুলাই অর্থাৎ বুধবার থেকে আসছে নতুন মেগা ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’।শুক্রবার হয়ে গেল মেগার গ্র্যান্ড লঞ্চ। ধারাবাহিকের নায়ক-নায়িকা, পরিচালক, প্রযোজক ও লেখকরা উপস্থিত ছিলেন এদিনের বিশেষ অনুষ্ঠানে। আর এই অনুষ্ঠানেই পৌঁছে গিয়েছিল হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা, মেগা শুরুর আগেই ‘ঝাঁপি’র সঙ্গে দর্শকদের পরিচয় করাতে।
সেট জুড়ে বিরাট ব্যস্ততা। কারণ আর কিছুদিনের মধ্যেই আসছে মেগা। তাঁর আগে যতটা সম্ভব ব্যাকিং করে রাখতে হবে। আর ব্যাকিংয়ের ভাবনা আসবে না-ই কেন? কারণ এই মেগার মূল বার্তাই তো লুকিয়ে আছে সঞ্জয়ে। তাই মেগার নির্মাতারাও সঞ্চয়েই বিশ্বাসী। তবে এই বিরাট ব্যস্ততার মাঝেও তাঁরা মেগা নিয়ে নানা কথা ভাগ করে নিলেন। শুধু তাই নয় সকলের হাতে তুলে দিলেন ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’।
ধারাবাহিকের নায়িকা ‘হরগৌরী পাইস হোটেল’ খ্যাত শুভস্মিতা মুখোপাধ্যায় এই মেগায় ‘ঝাঁপি’। তবে নায়িকার যেমন হয়, অর্থাৎ শান্ত, নম্র, মিষ্টি বাস্তব জীবনে শুভস্মিতাও একেবারে যেন তাই। আর সেই কারণেই নিজের মেগা বা মেগায় তাঁর চরিত্র নিয়ে কথা বলার আগে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য সাংবাদিক বন্ধুদের ধন্যবাদ জানান নায়িকা। পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার প্রথম কাজ থেকে আপনারা আমার পাশে আছেন। আশা করি যতদিন কাজ করব তত দিন পাশে থাকবেন।’ তারপরই দ্বিতীয় বার তাঁকে সুযোগ দেওয়ার জন্য চ্যানেল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান নায়িকা। এরপর সঞ্চয়ের বিষয় নানা কথা ভাগ করে নেন অভিনেত্রী, ভাগ করে নেন তাঁর জীবনের একটি বিশেষ দিনের কথা।
তিনি বলেন, ‘সঞ্চয় করে তারপর সেই টাকাটা দিয়ে কী করা উচিত সেটাও জানাটা প্রয়োজন। সঞ্চয় তো সকলেই করেন অল্প বিস্তর, কিন্তু সেটা কী তিনি ঠিক ভাবে করছেন? সেটা জানাটাও খুব প্রয়োজন। আর তাই আমাদের সিরিয়াল ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’ দেখতে হবে স্টার জলসায়। আর আমি যদি আমার ব্যক্তিগত কথা বলতে চাই, তাহলে একটা কথা না বললেই নয়। আমি আমার কিছু টাকা সঞ্চয় করে আমার মায়ের জন্য একটা ব্যবসা খুলে দিয়েছি। আমার মনে হয়েছে সেটা থেকে আমার জমানো টাকার একটা ভালো রিটার্ন হয়তো পেতে পারি।’

অন্যদিকে, ধারাবাহিকের নায়ক সৌরভ চক্রবর্তীও বৃষ্টির মধ্যে সাংবাদিকরা আসার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তারপর সৌরভ নির্মাতাদের কথা উল্লেখ্য করে বলেন, ‘অসাধারণ একটা টিম আমি পেয়েছি। মেগায় কাজ করতে গেলে একটা ক্লান্তির কথা বার বার উঠে আসে কিন্তু এখনও পর্যন্ত সেটা ফিল করিনি। খুব মজায় কাটছে দিনগুলো। সঞ্চয় তো খুবই প্রয়োজনীয় তাতে কোনও সন্দেহ নেই। জীবনের ঝড় ঝাপটার দিনগুলো এলে আমারা বুঝতে পারি সেটা কত প্রয়োজনীয়। সেটা কোনও মারণরোগ হতে পারে বা কোনও প্রাকৃতিক বিপর্যয় হতে পারে। আমারা বর্তমানে যে দিনগুলো মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি সেখানে, পরের লোক খরচ করা শেখায়, আর ঘরের লোক সঞ্চয় করা শেখায়। তো খরচ করার নানা উপাদান, আর ক্ষেত্র যেহেতু বেড়ে গিয়েছে, তাই আমরা অনেক সময় বয়ে যাই। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনা যে, কোথায় সঞ্চয় করা প্রয়োজন। বিপদের দিনে আমিও আমার অনেক চেনা মানুষকে সর্বশান্ত হয়ে যেতে দেখেছি। তাঁদের যদি সঞ্চয় থাকত, তাহলে সেই দিন দেখতে হত না। তাই ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’ বাংলা সমস্ত মানুষকে ছোট্ট ছোট্ট করেও যে সঞ্চয় করা যায় সেই সূত্রই শেখাবে। তবে আমি যে কথাগুলো বললাম, মেগায় আমার চরিত্রটা সেই কথাগুলো বোধ হয় খুব একটা বিশ্বাস করে না। ‘দীপ’ লোন দেওয়া আর লোনের সুদের হার বৃদ্ধিতে বেশি বিশ্বাস করে। কারণ সে ব্যবসার দিক দিয়ে ভাবে। অন্যদিকে, ‘ঝাঁপি’ বিশ্বাস করে এই মানবিক দিকটায়। ফলে দু’জনের মধ্য কোথাও একটা মত পার্থক্য তো রয়েছে। কিন্তু তারপরও তাঁরা একসঙ্গে কীভাবে মানুষের হয়ে কাজ করবে সেটা দেখতে হলে চোখ রাখতে হবে ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’তে।
(Feed Source: hindustantimes.com)
