
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল থেকে দেশের উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্য়সভার চেয়ারপার্সন। গত কয়েক বছরে খবরের শিরোনামে বার বার জায়গা করে নিয়েছেন জগদীপ ধনকড়। কড়া সুপ্রিম কোর্টকে পর্যন্ত আক্রমণ করেছেন তিনি।
এবার তাঁর ইস্তফা ঘিরেই সরগরম জাতীয় রাজনীতি। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে সংঘাতের জেরে তিনি পদত্যাগ করলেন, নাকি তাঁকে পদত্যাগে বাধ্য করা হল, উঠছে প্রশ্ন। তবে রাজনৈতিক তরজার অংশ হয়ে ওঠার আগেও খবরে ছিলেন ধনকড়।

আইনের পেশায় নিযুক্ত ছিলেন ধনকড়। রাজস্থান বার কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। নয়ের দশকে রাজস্থান হাইকোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ছিলেন তিনি। ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিযুক্ত হওয়ার আগে পর্যন্ত রাজ্যের অন্যতম সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টে সাংবিধান আইন নিয়ে দীর্ঘ সময় প্র্যাকটিসও করেন ধনকড়। দেশের বিভিন্ন হাইকোর্টে মামলা লড়েন। রাজস্থান হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টও নিযুক্ত হন তিনি।

শতদ্রু নদীর জলবিবাদ নিয়ে হরিয়ানা সরকারের হয়ে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করেন ধনকড়। তবে জীবনের সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল মামলাটি অভিনেতা সলমন খানের হয়ে লড়েন ধনকড়।

আইনজীবী হিসেবে কাজ করার সময়, ১৯৯৮ সালে কৃ্ষ্ণসার হরিণ মামলায় সলমন এবং অন্য অভিযুক্তদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন ধনকড়। সলমনের জামিন পাওয়ার নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ধনকড়ের।

ধনকড়ের তদানীন্তন সহকারী, আইনজীবী প্রবীণ বলওয়ারা জানিয়েছেন, ১৯৯৮ সালে জোধপুর পুলিশ যখন সলমনকে গ্রেফতার করে, সেই সময় অভিনেতার হয়ে আদালতে সর্বপ্রথম ধনকড়ই সওয়াল করেন। সলমন এবং বাকিরা তাঁর দৌলতেই জামিন পেয়ে যান। তবে পরবর্তী কালে আর ওই মামলায় ধনকড় যুক্ত ছিলেন না বলে জানান প্রবীণ।

কৃষ্ণসার হরিণ মামলায় সলমনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করলে ধনকড় তদন্তের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, “সেটে ৩০০ লোক ছিল। কখন ঘটনা ঘটল, কেউ তা কেউ জানতে পারল না কেন?”

গ্রেফতার হওয়ার পর সলমন তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেন বলেও দাবি করেন ধনকড়। তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আদালতে জানিয়েছিলাম, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন সলমন। তাঁকে জামিন দেওয়ার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।”

সলমনের বিরুদ্ধে যে যে বয়ান উঠে এসেছিল, তা নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেন ধনকড়। তিনি বলেন, “গ্রামের লোকজনের দাবি, (কৃষ্ণসার হরিণ) খুনের ঘটনায় শিল্পীরা যুক্ত ছিলেন। তাই যদি হয়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তাড়া করলেন না কেন? সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ না জানিয়ে, তিন সপ্তাহ পরে কেন অভিযোগ জানালেন?”
(Feed Source: abplive.com)
