
নয়াদিল্লি : ওয়াশিংটনের পক্ষে “খুব খারাপ পরিণতি” হয়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতের উপর অত্যধিক শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্তের এভাবেই সমালোচনা করলেন সে দেশের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন।
তাঁর মতে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের ফলে নয়াদিল্লিকে রাশিয়া ও চিনের থেকে দূরে সরিয়ে রাখার আমেরিকার যে বহুদিনের প্রচেষ্টা তা অনেকটা পিছিয়ে গেল। তাঁর কথায়, “এই পদক্ষেপের ফলাফল বিপরীত হয়েছে, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে, চিনকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।”
ট্রাম্প গত এপ্রিল মাসেই চিনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন। অবশ্য তারপর আর উত্তেজনা এড়িয়ে যান। চুক্তি স্থগিত রাখেন। এই আবহে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এ প্রসঙ্গে সংবাদ মাধ্যম CNN-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোল্টন বলেন, “এটা খুবই বিদ্রূপাত্মক, যে রাশিয়ার ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে সেকেন্ডারি ট্যারিফ তৈরি করা হয়েছিল, তা ভারতকে রাশিয়া ও চিনের আরও কাছে ঠেলে দিতে পারে। সম্ভবত তাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একসঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে পারে। তাঁর কথায়, “চিনা পণ্যের প্রতি ট্রাম্পের নমনীয়তা এবং ভারতের উপর কঠোর শুল্ক আরোপের ফলে ভারতকে রাশিয়া ও চিন থেকে দূরে সরিয়ে আনার কয়েক দশকের আমেরিকান প্রচেষ্টা বিপন্ন হচ্ছে।”
দ্য হিলের জন্য প্রকাশিত এক লেখায় বোল্টন বলেছেন, বেজিংয়ের প্রতি ট্রাম্পের নরম অবস্থানকে মার্কিন কৌশলগত স্বার্থকে বিসর্জন হিসেবে দেখা যেতে পারে। তিনি লিখেছেন, “নয়াদিল্লির উপর আরোপিত শুল্ক হার এবং বেজিংয়ের প্রতি আরও নমনীয় আচরণের দিকে হোয়াইট হাউস এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। যদি তাই হয়, তাহলে এটা বিরাট ভুল হবে।” ট্রাম্পের অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ এখনও পর্যন্ত ভারতকে রাশিয়ান তেল কেনা বন্ধ করাতে ব্যর্থ হয়েছে। পরিবর্তে, ভারত ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তকে “অন্যায্য এবং অযৌক্তিক” বলেছে।
এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া ভারতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটন অবৈধভাবে বাণিজ্যিক চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে মস্কো। এরকম ঘটনা আবার এমন একটা সময় হল যার এক সপ্তাহ পরেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখোমুখি হতে চলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বোল্টনের কথায়, ‘এই বৈঠক পুতিনকে তাঁর এজেন্ডা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং সম্ভবত ভারতের শুল্ককে একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেবে।’
(Feed Source: abplive.com)
