
নয়াদিল্লি : ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুরে’ কালঘাম ছুটে গিয়েছিল পাকিস্তানের। কিন্তু, ভারতের প্রত্যাঘাতের মুখে দাঁড়াতে পারেনি তারা। সংঘর্ষবিরতিতে আসতে বাধ্য হয়েছিল। যদিও পাল্টা সুযোগ খোঁজার চেষ্টায় কোনও খামতি রাখছে না শাহবাজ শরিফের প্রশাসন। তাই গত জুন মাস থেকেই ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসের উপর নানা বিধি-নিষেধ আরোপ করে নিজেদের গায়ের জ্বালা মেটানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান। অন্তত তাদের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ দেখে এমনই মত প্রকাশ করছে ওয়াকিবহাল মহল। ভারতীয় দূতাবাসে খবরের কাগজ সরবরাহ রুখে দিয়েছে পাকিস্তান প্রশাসন। খবরের কাগজের স্থানীয় ভেন্ডর ও ডিস্ট্রিবিউটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভারতীয় মিশনে যেন কোনও খবরের কাগজ বা প্রকাশিত জিনিস না সরবরাহ করা হয়। অর্থাৎ, পাকিস্তানের প্রিন্ট মিডিয়ায় কী ধরনের খবর প্রকাশিত হচ্ছে তা যেন জানতে না পারেন ভারতীয় কূটনীতিকরা। স্থানীয় খবর ও ঘটনাবলী থেকে তাঁদের বিরত রাখার চেষ্টা করছে পাক প্রশাসন।
খবরের কাগজ নিষেধ করার পাশাপাশি, ইসলামাবাদে অবস্থিত ভারতীয় কূটনীতিক ও তাঁদের পরিবারে রান্নার গ্যাস ও পরিষ্কার পানীয় জল সরবরাহও আটকে দিয়েছে পাক প্রশাসন। হাই কমিশন চত্বরে গ্যাস পাইপলাইন থাকা সত্ত্বেও, জোর করে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভেন্ডররা যাঁরা এর আগে গ্যাস সিলিন্ডার ও পানীয় জল সরবরাহ করতেন, তাঁদের ভারতীয় স্টাফদের আর তা না সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যার ফলে প্রচণ্ড সমস্যায় পড়েছেন দূতাবাসের কর্মী-আধিকারিকরা। তাঁরা খোলা বাজারে প্রচুর দামে তা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা করেছে ভারত। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিকরা পাকিস্তানের এই পদক্ষেপকে “ইচ্ছাকৃত, পূর্বপরিকল্পিত এবং কূটনৈতিক সম্পর্কে ভিয়েনা কনভেনশন লঙ্ঘন করছে” বলে ব্যাখ্যা করেছেন। প্রসঙ্গত, ভিয়েনা কনভেনশন বিশ্বজুড়ে সসম্মানে কূটনৈতিক মিশনের গ্যারান্টি দেয়। গঠনমূলক আলোচনায় না যোগ দিয়ে ভারতীয় কূটনীতিকদের উপর চাপ সৃষ্টির অ-কূটনৈতিক চেষ্টা করছে পাকিস্তান, বিষয়টিকে এমন ভাবেই বর্ণনা করছে বিদেশ মন্ত্রক।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে হামলা চালায় জঙ্গিরা। ২৬ জন নিরীহ মানুষকে বেছে বেছে খুন করা হয়। সেই ঘটনার পর ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের উড়ানের আকাশপথ বন্ধ ঘোষণা করে। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবে ভারত পাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয়। ৭ মে ভারত অপারেশন সিঁদুর চালিয়ে এই আঘাত হানে। তার পরবর্তী চারদিনে দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি হয়। কার্যত জোরদার যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেই আবহে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত রেখেছিল ভারত। যা নিয়ে পাকিস্তানের রাগের শেষ নেই।
(Feed Source: abplive.com)
