
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেটে ইরফান পাঠানের (Irfan Pathan) উত্থান ছিল কড়া রোদের সঙ্গেই টাটকা বাতাস। বরোদার ৬ ফুটের বাসিন্দা বাঁ-হাতে জোরে বল করতেন, রাখতেন সুইং করানোর দুর্দান্ত ক্ষমতা। কার্যকর ব্যাটার হিসেবেও খেলার রং বদলে দিতেন পাঠান। প্রায় ১০ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে ২৯টি টেস্ট, ১২০টি ওডিআই এবং ২৪টি টি-টোয়েন্ট খেলেছেন। আর পাঠানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল দেখার মতো…
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাঠান
২০০৬ সালে করাচিতে পাঠানের সেই টেস্ট হ্যাটট্রিক হোক বা ২০০৭ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পারফরম্যান্স, কেউ ভুলতে পারবে না। ১৬ রানে তিন উইকেট নিয়ে ধোনির ভারতকে জিতিয়ে ছিলেন কুড়ি ওভারের সংস্করণের প্রথম বিশ্বকাপ। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মধ্যে, পাঠানের সঙ্গে শাহিদ আফ্রিদির বেশ তিক্ত প্রতিযোগিতা ছিল। কারণ পাঠান ১১ বার পাকিস্তানের প্রাক্তন অধিনায়কের উইকেট তুলে নিয়েছিলেন। অফ্রিদির মাঠে এবং মাঠের বাইরের আচরণই পাঠানকে তাতিয়ে দিত…
পাঠান যা বললেন
পাঠান এক সর্বভারতীয় মিডিয়ার শোয়ে এসেছিলেন অতিথি হয়ে। আর সেখানেই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলেন। পাঠান বললেন, ‘ ২০০৬ সালে পাকিস্তান সফরের কথা। আমরা করাচি থেকে তখন লাহোর যাচ্ছিলাম। ভারত-পাকিস্তান একসঙ্গেই ভ্রমণ করছিল। শাহিদ আফ্রিদি এসে, আমার মাথায় হাত রেখে চুল এলোমেলো করে দিয়ে, জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘হাউ আর ইউ কিড?’ আমি শুনে ভাবলাম, কবে ও আমার বাবা হল? উল্টে ও শিশুর মতো আচরণ করছিল।
আমি আফ্রিদির সঙ্গে কোনও কথাই বলিনি।
এরপর আফ্রিদি আমাকে অনেক খারাপ কথা বলেছিল। আফ্রিদির আর আমার কাছাকাছিই সিট ছিল। তবে পাক অলরাউন্ডার আব্দুল রাজ্জাক বসে ছিলেন আমার সঙ্গে। আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম, পাকিস্তানে কী ধরনের মাংস পাওয়া যায়? রাজ্জাক বলেছিল, বিভিন্ন প্রাণীর মাংসই পাওয়া যায়। এরপর, আমি ওকে জিজ্ঞাসা করলাম, আচ্ছা, কুকুরের মাংস পাওয়া যায়?
আমার কথা শুনে রাজ্জাক অবাক হয়ে বলেছিল, আরে ইরফান, তুমি কেন এমন বলছো! আমি তখন রাজ্জাককে বলি, আসলে আফ্রিদি কুকুরের মাংস খেয়েছে। তাই অনেকক্ষণ ধরে ঘেউ ঘেউ করছে। এরপর আফ্রিদি আর কিছু বলেনি। ও যদি কিছু বলত, তাহলে আমি বলতাম, আবার ঘেউ ঘেউ করছে…এই ঘটনার পরেই আফ্রিদি বুঝেছিল যে, আমার সঙ্গে মৌখিক লড়াইয়ে ও পারবে না। আর এই কারণেই ও আর কখনও আমাকে কিছু বলেনি।’
আফ্রিদিকে মোক্ষম শিক্ষা এভাবেই দিয়েছিলেন পাঠান…
(Feed Source: zeenews.com)
