
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের (India) উপর বিপুল শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)! রাশিয়া থেকে তেল আর অস্ত্রশস্ত্র কেনার সাজা হিসেবেই তিনি ভারতের ঘাড়ে এই শুল্কবোঝা চাপিয়েছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন। এদিকে এ নিয়ে ভারতেও যেমন, তেমনই সারা বিশ্বেও সাড়া পড়ে গিয়েছে। সাড়া পড়েছে, কারণ, এর নানা দিকে প্রভাব পড়বে বলে অনুমান। যেমন, একটা আশঙ্কা করা হচ্ছে, টোল পড়বে কি আন্তর্জাতিক মদের বাজারে? দাম কি বাড়বে মদের? শোনা যাচ্ছে, ভারতীয় সিংগল মল্টের (Indian single malt) বাজার নাকি একটু ব্যাহত হতে পারে! তাই কি?
সিঙ্গল মল্ট হুইস্কি
প্রসঙ্গত কিছু দিন আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক প্রাক্তন সহায়ক (Former US National Security Advisor) ট্রাম্পের এই শুল্ক-সিদ্ধান্ত নিয়ে বোমা ফাটিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ট্রাম্প বিরাট ভুল করেছেন! তিনি এটাকে বলেছেন এনরমাস মিসটেক! এটা সত্যিই এনরমাস মিসটেক কি না, সেটা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ভাবে সামনে আসছে। যেমন, মদের বাজার। জানা যাচ্ছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় সিঙ্গল মল্ট হুইস্কি রফতানিকারকরা এই উচ্চ শুল্কের কারণে অসুবিধায় পড়তে চলেছেন। এর ফলে তাঁরা স্কটল্যান্ড এবং জাপানের মতো প্রতিযোগী দেশগুলির তুলনায় বাজারে পিছিয়ে পড়তে চলেছেন তাঁরা।
নির্দিষ্ট শুল্ক কাঠামো, বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ
সাধারণত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে হুইস্কি আমদানির ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট শুল্ক কাঠামো রয়েছে। স্কটল্যান্ড বা জাপানের মতো দেশগুলি বিশেষ বাণিজ্যচুক্তির কারণে কম শুল্কের সুবিধা পায়। কিন্তু ভারতের ক্ষেত্রে এই ধরনের কোনো চুক্তি না থাকায়, ভারতীয় হুইস্কির উপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা হয়। আর এর জেরে মার্কিন বাজারে এমনিতেই ভারতীয় হুইস্কির চূড়ান্ত মূল্য অনেকটাই বেড়ে যায়। এটি একদিকে যেমন গ্রাহকদের কাছে পণ্যটিকে কম আকর্ষণীয় করে তোলে, তেমনই ভারতীয় রফতানিকারকদের মুনাফাও কমিয়ে দেয়। এই পরিস্থিতি ভারতীয় সিঙ্গল মল্টের মতো আন্তর্জাতিক মানের পণ্যের প্রসারে বাধা তৈরি হচ্ছে, যা ভারতের জন্য সামগ্রিক ভাবেই একটি বড় বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
আবেদন
ভারতীয় রফতানিকারকরা এই বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, যেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বাণিজ্যচুক্তি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, যাতে ভবিষ্যতে শুল্ক কমানো সম্ভব হয় এবং তাঁরা আন্তর্জাতিক বাজারে সুষ্ঠুভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারেন।
চিন-ভারত-রাশিয়া
তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একরকম সতর্ক করেই বলেছেন যে, এটা কিন্তু দেশের পক্ষে (আমেরিকার পক্ষে) ব্যুমেরাং হয়ে যাবে, সাবধান! একটি ইন্টারভিউতে আমেরিকার প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বলটন বলেন, এবার কিন্তু ভারতের সঙ্গে চিন ও রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভ্যলুমটা বদলাবে। চিন ও রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক গভীর হবে। কেননা, আমেরিকা যেচে ভারতের সঙ্গে দূরত্ব রচনা করল। ট্রাম্প এটা বড় ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছেন। শুধু তাই নয়, চিনের প্রতি আমেরিকার বায়াসড হওয়ার কথাও উল্লেখ করতে ভোলেননি বলটন।
ট্রাম্পীয় ব্যাখ্যা
সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন– ‘মনে রাখতে হবে, ভারত আমাদের বন্ধু হলেও আমাদের দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য খুবই কম। কারণ ওদের শুল্কহার খুব বেশি। তাছাড়াও, ওদের যুদ্ধাস্ত্রের অনেকটাই ওরা রাশিয়া থেকেই কেনে। রুশ শক্তিসম্পদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ভারত এবং চিন। বিশেষ করে সেই সময়ে, যখন কি না সকলে বলছে, রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনে গণহত্যা বন্ধ! যাই হোক, এসবের জন্যই ভারত এবার ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তিও পেতে হবে ভারতকে।’ যদিও পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প। যার জেরে শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ!
ইটের বদলে পাটকেল?
বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করতে আমেরিকার তরফে চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল ১ আগস্ট। তবে নানা জটিলতায় আটকা পড়ে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়ে ওঠেনি ভারতের। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ভারতের উপর শুল্ক চাপানো হবে কি না, জানতে চাওয়া হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরিষ্কার বলে দেন– ‘হ্যাঁ এটা হতেই পারে’! পাশাপাশি ট্রাম্প জানান, ‘ভারত আমাদের বন্ধু দেশ। তবে যে কোনও দেশের চেয়ে ভারত বেশি শুল্ক আরোপ করেছে। এটা চলতে পারে না। তাই ভারতের উপর এবার বেশি পরিমাণ শুল্ক চাপাবে আমেরিকা!’ তবে নিছক এই হুঁশিয়ারিতেই থেমে থাকেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুঁশিয়ারি দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ভাবে ভারতের উপর শুল্কের বোঝাও চাপিয়ে দিলেন তিনি। স্রেফ জানিয়ে দিলেন, রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কেনার সাজা হিসেবেই ভারতকে এই অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হবে! শোনা যাচ্ছিল, বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করতে আগামী ২৫ আগস্ট ভারতে আসছেন মার্কিন প্রতিনিধিরা। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরেও গিয়েছিল দিল্লি। ট্রাম্প বলে দিয়েছেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তিও হয়ে গিয়েছে! এর অর্থ, সেটা প্রায় চূড়ান্ত! তা হলে? এখন কী হবে?
শুল্কচাপের মুখে মোদী
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশ্য ট্রাম্পের এই খেয়ালি আচরণের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি মোটেই বিষয়টা নিয়ে আপস করবেন না। যেখানে কৃষকদের ঝুঁকি রয়েছে, ডেয়ারি ফার্মগুলির বিপদ রয়েছে, মৎস্যজীবীদের সংকটের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে আপস নয়। হয়তো এজন্য ভারতকে অনেক মূল্য চোকাতে হবে, কিন্তু আমি সেজন্য প্রস্তুত আছি।
(Feed Source: zeenews.com)
