
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পৃথিবীতে আরশোলার (cockroach) আবির্ভাব ৩২ কোটি বছর আগে। রাশিয়ার উত্তরে সুমেরু সাগর এলাকায় একধরনের আরশোলা পাওয়া যায়, যারা হিমাঙ্কের ১২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস নীচেও দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে। আশ্চর্য প্রাণী এরা। তাদের সঙ্গে নাম জুড়ল হেলসিং -এর। প্রতিরক্ষায় হেলসিং এখন একটা নাম। জার্মানির হেলসিং (Helsing)। এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা গুন্ডবার্ট শের্ফ (Gundbert Scherf)-এর জন্য রাশিয়ার ইউক্রেন -আক্রমণ বদলে দিয়েছে। হেলসিং ইউরোপের সবচেয়ে মূল্যবান প্রতিরক্ষা স্টার্ট-আপ। শের্ফ চার বছর আগে যখন তাঁর কোম্পানি শুরু করেন, তখন তাকে বিনিয়োগ টানার জন্য কঠোর লড়াই করতে হয়েছিল। এই কোম্পানিটি সামরিক ড্রোন এবং যুদ্ধক্ষেত্রের জন্য এআই (AI) প্রযুক্তি তৈরি করে সাড়া ফেলে দিয়েছে।
গুপ্তচর আরশোলা!
গুপ্তচর আরশোলা! শত্রুর হাঁড়ির খবর জোগাড় করতে কৃত্রিম মেধা বা এআই (আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স) সরঞ্জাম পিঠে নিয়ে এ বার নামছে এই তেলাপোকার দল। প্রাক্তন সেনাকর্তাদের দাবি, গোটা প্রক্রিয়াটা সফল হলে বদলে যাবে গুপ্তচরবৃত্তির সংজ্ঞাই। আরও ভয়াবহ আকার নেবে যুদ্ধ।
মাদাগাস্কারের হিসিং আরশোলা
সম্প্রতি আরশোলাদের গুপ্তচরবাহিনী তৈরিতে উঠেপড়ে লেগেছে জার্মানি। সেখানকার সোয়ার্ম বায়োট্যাকটিক্স নামের এক সংস্থা তৈরি করেছে এই বিশেষ ধরনের ব্যাকপ্যাক। এটি বাঁধা হবে আরশোলার পিঠে। এর পর শত্রু দেশে কায়দা করে ওই এদের ছেড়়ে দিতে পারলেই হল। কেল্লাফতে! ওই ব্যাকপ্যাকে থাকছে সেন্সর, ক্যামেরা, নিউরাল স্টিমুলেটর। রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে বহু দূর থেকে এগুলি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। না, তবে যে কোনও ধরনের আরশোলাকেই জার্মানিরা এই গুপ্তচরবৃত্তিতে নামাচ্ছে না। পূর্ব আফ্রিকার মাদাগাস্কার থেকে হিসিং প্রজাতির বিশেষ আরশোলা আমদানি করছে তারা।
রিয়্যাল টাইম ডেটা সংগ্রহ থেকে জঙ্গিদমন
যে কোনও ধ্বংসস্তূপ, দেওয়াল বা সঙ্কীর্ণ জায়গায় চলাফেরা করতে পারে আরশোলা। দুর্গম ভূখণ্ডে চলাচল করার ক্ষমতা রয়েছে এই পতঙ্গের। চরম পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকে এরা। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক হল– মাথা কেটে ফেলার পরেও অন্তত এক সপ্তাহ জীবিত থাকতে পারে এই পতঙ্গ। কারণ, তাদের খাদ্যাভ্যাস এবং হৃদ্যন্ত্র মাথা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়। ফলে পতঙ্গটিকে ব্যবহার করে রিয়্যাল টাইম ডেটা সংগ্রহ সম্ভব। যুদ্ধক্ষেত্রে যেখানে ড্রোন-নজরদারি করা সম্ভব নয়, সেখানে তথ্য পাচারের কাজ করবে এই আরশোলা গুপ্তচরবাহিনী। শত্রুর গোপন আস্তানা খুঁজে বার করা বা বন্দিদের উদ্ধার করা ইত্যাদি নানা কাজ দুর্দান্ত ভাবে করবে এরা। জঙ্গিদমন অভিযানেও কাজে লাগানো যাবে আরশোলাদের।
আরশোলা-মডেলের সাফল্য
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের দাবি, গুপ্তচরবৃত্তি বা সামরিক অভিযানের জন্য শুধু প্রাণী বা রোবট নয়, এবার হাইব্রিড মডেলের দিকেও ঝুঁকছে বিশ্ব। তারই ফলশ্রুতি আরশোলা-মডেল। আরশোলা নিয়ে জার্মান বিজ্ঞানীদের এই পরীক্ষা কতটা সফল হয়, সেটা জানতে অবশ্য অপেক্ষা করতে হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
