What Is BCCI’s Bronco Test: বিশ্রামহীন ১২০০ মিটার দৌড়! রাগবির ধাঁচে ভারতীয় দলে এল ‘ব্রঙ্কো’, কী এই ফিটনেস টেস্ট?

What Is BCCI’s Bronco Test: বিশ্রামহীন ১২০০ মিটার দৌড়! রাগবির ধাঁচে ভারতীয় দলে এল ‘ব্রঙ্কো’, কী এই ফিটনেস টেস্ট?

২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় দলে ফিটনেসের মান বাড়াতে এবার কড়া পরীক্ষা!হেড কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ও স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ আদ্রিয়ান লে রক্স (Adrian le Roux) নিয়ে এসেছেন ব্রঙ্কো টেস্ট (Bronco Test)। যা ফিটনেসের নয়া মানদণ্ড হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ইয়ো-ইয়ো টেস্ট (Yo-Yo Test) এবং ২-কিলোমিটার টাইম ট্রায়ালের পাশাপাশি ঢুকেছে ব্রঙ্কো পরীক্ষা। রাগবির ধাঁচে তৈরি ব্রঙ্কো পরীক্ষা অ্যারোবিক সহনশীলতার পরিমাপক এবং কার্ডিওভাসকুলার সীমা অতিক্রম করে। নতুন নিয়মের প্রবর্তন ভারতীয় ক্রিকেটে এনডিওরেন্স-ফোকাসড ফিটনেস মেট্রিক্স পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়, বিশেষ করে ফাস্ট বোলিংয়ের মতো শারীরিক পরিশ্রমের ক্ষেত্রে যা প্রয়োজন।

ব্রঙ্কো টেস্ট কী?

ব্রঙ্কো টেস্ট হল হাই-ইনটেনসিটি অ্যারোবিক দৌড়ের ড্রিল যা একজন খেলোয়াড়ের স্ট্যামিনা, গতি এবং কার্ডিওভাসকুলার কন্ডিশনিং পরিমাপ করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে ২০, ৪০ এবং ৬০ মিটার শাটল রান থাকে। এক সেটে এই তিনটি দূরত্বই অতিক্রম করতে হয় এবং খেলোয়াড়দের বিশ্রাম ছাড়াই একটানা পাঁচ সেট মিলিয়ে ১২০০ মিটার দৌড়তে হয়। ছ’মিনিটের মধ্যে পরীক্ষাটি শেষ করতে হয়। এক সর্বভারতীয় মিডিয়ার মতে বেশ কয়েকজন ভারতীয় খেলোয়াড় ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরুতে বিসিসিআইয়ের সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে এই পরীক্ষায় বসেছিল।

আদ্রিয়ান লে রক্স

আদ্রিয়ান লে রক্স সুপারিশে চালু হয়েছে ব্রঙ্কো টেস্ট। চলতি বছর জুনে স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ হিসাবে ভারতীয় দলে ফের যোগদান করেছেন তিনি। অতীতে ২০০২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০৩ সালের মে পর্যন্ত এই ভূমিকা পালন করেছিলেন স্পোর্ট সায়েন্টিস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় দলের সঙ্গেই কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং পঞ্জাব কিংসের মতো আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিতে কাজ করেছেন আদ্রিয়ান। বিশেষ করে ভারতের পেসাররা জিমে বেশি সময় ব্যয় করছেন এবং দৌড়-ভিত্তিক এন্ডিওরেন্সে টেস্টে সময়ই দিচ্ছেন না। বেড়ে চলা এই উদ্বেগের মাঝেই আদ্রিয়ান নিয়ে এলেন ব্রঙ্কো টেস্ট।

পরীক্ষা চলছে

এক সূত্র জানিয়েছে, ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে ব্রঙ্কো টেস্ট চালু হয়েছে। ভারতের কিছু চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটার বেঙ্গালুরুতে এসে পরীক্ষা দিয়েছেন। ফিটনেসের মান নিশ্চিত করতেই ব্রঙ্কো টেস্ট চালু হয়েছে। লক্ষ্য করা গিয়েছে যে, ভারতীয় ক্রিকেটাররা, বিশেষ করে পেসাররা যথেষ্ট দৌড়াচ্ছেন না এবং জিমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করছেন। খেলোয়াড়দের বলা হয়েছে যে তাদের আরও দৌড়াতে হবে।’

ইয়ো-ইয়ো টেস্ট থেকে এটি কীভাবে আলাদা?

ইয়ো-ইয়ো টেস্ট ২০১৭ সাল থেকে ভারতের ফিটনেস ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলির নেতৃত্বে প্রাক্তন  স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ শঙ্কর বাসু  শুরু করেছিলেন। এই পরীক্ষায় ২০ মিটার দূরে স্থাপন করা দুটি কোণের মধ্যে দৌড়াতে হয়। প্রতিটি স্তরে গতি বৃদ্ধি পায়। খেলোয়াড়দের প্রতি ৪০ মিটার দৌড়ের পরে ১০ সেকেন্ডের রিকভারি পিরিয়ড দেওয়া হয়। ১৭.১ স্কোর না করলে পাশ করা যায় না। ইয়ো-ইয়ো টেস্টটি রিকভারি এবং ক্ষীপ্রতার উপর ফোকাস করে, ব্রঙ্কো টেস্টটি ক্রমাগত অ্যারোবিক সহনশীলতা মূল্যায়নের জন্য ডিজাইনড। একসঙ্গে দুটি পরীক্ষা একজন খেলোয়াড়ের সামগ্রিক ফিটনেসের আরও ব্যাপক মূল্যায়ন প্রদান করবে এবার।

২-কিমি টাইম ট্রায়াল

বিসিসিআই ২-কিমি টাইম ট্রায়ালও করছে, যেখানে বিভিন্ন ভূমিকার জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ফাস্ট বোলারদের  ৮ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় শেষ করতে হবে। ব্যাটার-উইকেকিপার-স্পিনারদের ৮ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় শেষ করতে হবে। এই পরীক্ষাটি সময়োপযোগী পরিস্থিতিতে এনডিওরেন্সের কথাই বলে।

আরও ব্যাপক ফিটনেস মডেল

এশিয়া কাপের জন্য ইতিমধ্যেই দল ঘোষণা করা হয়েছে। আসন্ন অ্যাসাইনমেন্টের আগে ফিটনেসের মান ঠিক করা মূল লক্ষ্য। ব্রঙ্কো টেস্টের সংযোজন এনডিওরেন্স এবং ম্যাচের মতো কন্ডিশনিংয়ের উপর নতুন করে জোর দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ব্রঙ্কো টেস্ট, ইয়ো-ইয়ো টেস্ট এবং ২-কিলোমিটার ট্রায়াল একত্রিত করে, বিসিসিআই একটি ব্যাপক ফিটনেস মডেল এনেছে। আধুনিক খেলার ক্রমবর্ধমান শারীরিক চাহিদাকেই যা প্রতিফলিত করে।

(Feed Source: zeenews.com)