
পুণের মর্মান্তিক ঘটনা। একজন মহিলা তাঁর স্বামীকে কিডনি দান করার পর প্রতিস্থাপনের জটিলতায় দুজনেই মারা যান। এই ঘটনাটি চিকিৎসা জগতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।
ঘটনার বিবরণ: পুণের বাসিন্দা একজন মহিলা তার গুরুতর অসুস্থ স্বামীকে কিডনি দান করার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ রোগভোগের পর তাঁর স্বামীর কিডনি প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন ছিল। চিকিৎসার সবরকম চেষ্টা সত্ত্বেও, প্রতিস্থাপনের পর দুজনেরই শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
অস্ত্রোপচারের জটিলতা: জানা গেছে, প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার সফল হলেও, দুজনের শরীরেই অপ্রত্যাশিত জটিলতা দেখা দেয়। প্রথমে স্বামীর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হয় এবং এর কিছুদিনের মধ্যেই স্ত্রীও মারা যান। চিকিৎসকরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাদের বাঁচাতে পারেননি।
এই ঘটনায় মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য বিভাগ পুণের একটি বেসরকারি হাসপাতালকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে।
স্বাস্থ্য দফতরের বক্তব্য:
রবিবার স্বাস্থ্য পরিষেবার ডেপুটি ডিরেক্টর ড. নাগনাথ ইয়েম্পালে জানান, সহ্যাদ্রি হাসপাতালকে সোমবারের মধ্যে প্রতিস্থাপন পদ্ধতির সমস্ত বিবরণ জমা দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমরা হাসপাতালকে নোটিস দিয়েছি এবং গ্রহীতা ও দাতার বিস্তারিত তথ্য, তাদের ভিডিও রেকর্ডিং এবং চিকিৎসার পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছি। হাসপাতালকে সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে সমস্ত তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।’
জানা গেছে, বাপু কমকর নামক রোগী এবং তার স্ত্রী কামিনী ১৫ই আগস্ট হাসপাতালে কিডনি প্রতিস্থাপন করান। বাপু কমকরের স্বাস্থ্য অস্ত্রোপচারের পর থেকেই খারাপ হতে থাকে এবং ১৭ই আগস্ট তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর ২১শে আগস্ট কামিনীর শরীরে সংক্রমণ দেখা দেয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁরও মৃত্যু হয়।
রোগীর পরিবারের বক্তব্য:
পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ এনেছেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের প্রতিক্রিয়া: এই ঘটনাটি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের সফলতা অনেক উন্নত হলেও, এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। চিকিৎসকরা মনে করছেন, রোগীর পূর্ববর্তী শারীরিক অবস্থা এবং অস্ত্রোপচারের পরবর্তী প্রতিক্রিয়া এই ধরনের পরিণতির কারণ হতে পারে।
পরিবারের শোক: এই ঘটনায় পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। তারা তাদের দুজনেরই জীবন বাঁচানোর জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হন। এই ঘটনাটি অঙ্গদান এবং এর সঙ্গে জড়িত ঝুঁকির বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি একদিকে যেমন অঙ্গদানের মহত্ত্ব তুলে ধরেছে, তেমনই এর সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
