
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মহসিন খানের (Mohsin Khan) স্মৃতিগুলো তরঙ্গের মতো ভেসে ওঠে। পাকিস্তানের প্রাক্তন ওপেনার তাঁর কেরিয়ারের স্মৃতিচারণ করলেন। তাঁর প্রজন্মের সবচেয়ে ভয়ংকর ফাস্ট বোলারদের সঙ্গে ৪৮ টেস্ট (২৭০৯ রান) এবং ৭৫ ওডিআই (১৮৭৭ রান) খেলেছিলেন। মহসিনের নখদর্পণে ছিল মুম্বইয়ের ফিল্ম পাড়া । এক ডজন হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেছেন ইন্ডাস্ট্রির হেভিওয়েটদের সঙ্গেই।
ভারত-পাকিস্তান
ভারত-পাকিস্তান মহারণের প্রসঙ্গে মহসিন বলছেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে দেশে এবং বিদেশে খেলা ভীষণ মজার ছিল। জিমি (মহিন্দর অমরনাথ) ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে উঠেছিল। আমরা আক্রমণাত্মক ছিলাম ঠিকই। কিন্তু কোনও বোকার মতো আচরণ করিনি।’ লর্ডসের ডাবল সেঞ্চুরিও ভোলেননি। হাসি মুখে বলছেন, ‘ওটা খুবই স্পেশ্যাল ছিল, বিশেষ করে লর্ডসে ডাবল টন হাঁকানো প্রথম পাকিস্তানি ব্যাটার হয়েছিলাম’। দু’বছর পর ১৯৮৪ সালে মহসিন অ্যাডিলেড এবং মেলবোর্নে পরপর সেঞ্চুরি করেছিলেন। নিজের ঘরের উঠোনে তাও আবার ডেনিস লিলির বিরুদ্ধে। ‘আমার সময়ের সেরা ফাস্ট বোলারের বিরুদ্ধে এটা করা তৃপ্তিদায়ক ছিল।’
পেস-বাউন্স
মহসিন বিশ্বাস করেন যে, তাঁর ব্যাটিং পেস-বাউন্সের জন্য উপযুক্ত ছিল। মহসিনের সংযোজন,’আমার মনে হয় আমি আমার সমসাময়িক অনেক পাকিস্তানি ব্যাটারদের চেয়ে বাউন্সি পিচে অনেক ভালো খেলেছি।’ তাঁর কেরিয়ার সংজ্ঞায়িত করে এমন স্থিতিস্থাপকতার দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন। লাহোরে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর হৃদয়ের খুব কাছের একটি টেস্ট ছিল। মদন লাল তাঁকে আউট করার আগে প্রথম ইনিংসে ৯৪ রান করেছিলেন এবং তারপরে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৩৫/১ রানে অপরাজিত ১০১ রান করেছিলেন। সর্বনিম্ন সম্পূর্ণ দলীয় সংগ্রহে সেঞ্চুরির বিরল নজির। ‘ওই ম্যাচটি এখনও আমার প্রিয়গুলির মধ্যে একটি’।
বাবর থেকে বিরাট
মহসিনের চোখে পাক মহারথী বাবর আজম বেশ ভালো। মহসিন বলছেন, ‘বাবর খারাপ ব্যাটার নয়। তবে তাঁকে সমর্থন করার জন্য চারপাশে ভালো মানের খেলোয়াড়দেরও একটি দল থাকা দরকার। বিরাট কোহলির দিকে তাকান। টেস্টে তাঁর কাছে চেতেশ্বর পূজারা, অজিঙ্কা রাহানে ও কেএল রাহুল ছিল। ওডিআই-তে ওর ছিল রোহিত শর্মা এবং শিখর ধাওয়ান। একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় যখন অন্যান্য শক্তিশালী খেলোয়াড়দের দ্বারা বেষ্টিত থাকে তখন আরও বড় হয়ে ওঠে। বাবর আজম ও মহম্মদ রিজওয়ান এশিয়া কাপে সুযোগ পাননি। সেই প্রসঙ্গে মহসিন বলেন, ‘যদি আপনার উপর সবসময় চাপ থাকে যে, প্রতিবার মাঠে নেমে সেঞ্চুরি করতে হবে, তাহলে কিছু বলার নেই। তারাও মানুষ। তাই অনেক সময় সেই খেলা খেলতে পারে না যেটা দল চায়। দল সংখ্যার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। আপনার এমন খেলোয়াড়দের একটি দল প্রয়োজন, যারা কমবেশি একই মানের। এই মুহূর্তে, বাবর এবং বাকিদের মধ্যে একটি বড় ব্যবধান রয়েছে।
প্রতিপক্ষ এবং সমসাময়িকদের প্রশংসা
মহসিনকে যখন তাঁর সমসাময়িক ও প্রতিপক্ষকে প্রশংসা করতে বলা হয়েছিল। তখন তিনি দ্বিধা বোধ করেননি। মহসিন বলেন, ‘বোলারদের মধ্যে ইমরান খান, ডেনিস লিলি, রিচার্ড হ্যাডলি, ম্যালকম মার্শাল এবং কপিল দেব ছিলেন আমার প্রিয়। তারা ছিলেন তাদের নৈপুণ্যের মাস্টার, আর ব্যাটারদের মধ্যে আমি সুনীল গাভাসকর, মাজিদ খান, ভিভ রিচার্ডস এবং গ্রেগ চ্যাপেলকে খুব পছন্দ করতাম। তাদের মধ্যে প্রতিভা ছিল।’
বলিউড: দ্বিতীয় ইনিংস
যদিও ক্রিকেট মহসিনের প্রথম প্রেম ছিল, সিনেমা তার অপ্রত্যাশিত ভাবে দ্বিতীয় প্রেম হয়ে ওঠে। আটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে, তিনি করাচির চেয়ে মুম্বইতে বেশি সময় কাটাতেন। তখনই জনপ্রিয় অভিনেত্রী রীনা রায়ের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। মোড়টি প্রায় দুর্ঘটনাক্রমেই এসেছিল। মহসিন বলিউড ডেবিউ এবং সহ-অভিনেতাদের উষ্ণতায় এখনও মোহিত। ১৯৮৯ সালে জেপি দত্তর ‘বাটওয়ারা’ সিনেমা দিয়েই মহসিনের বলিউডে পা রাখা। ধর্মেন্দ্র, বিনোদ খান্না, শাম্মী কাপুর, ডিম্পল কাপাডিয়া, পুনম ধিলোঁ, অমৃতা সিং, আশা পারেখ, কুলভূষণ খারবান্দা এবং অমরেশ পুরী ছিলেন সেই সিনেমায়। মহসিন বলেন, ‘যখন আমাকে ‘বাটওয়ারা’ সিনেমার প্রস্তাব দেওয়া হয়ছিল তখন আমি আমার তৎকালীন স্ত্রী রীনাকে নিয়ে মুম্বই হয়ে লন্ডন যাচ্ছিলাম। ধরমজি খুবই স্নেহশীল ছিলেন এবং বিনোদ ছিলেন বন্ধু।’ ‘বাটওয়ারা’য় একটি দৃশ্য ছিল, যার জন্য গভীর আবেগের প্রয়োজন ছিল, এবং জেপি দত্ত তাঁর ক্রিকেটারের থেকে সেরাটা বার করে আনতে চেয়েছিলেন। জেপি দত্ত বলেছিলেন, ‘মহসিন, ফরজ করো তুমনে সেঞ্চুরি মারা, ফির ভি পাকিস্তান ইন্ডিয়া সে হারা। ক্যাসা মেহসুস হোগা আপকো?’ তিনি এভাবেই ব্যাখ্যা করেছিলেন। এই সিনেমায় অভিনয়ের জন্য মহসিন শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতার জন্য ফিল্মফেয়ারে মনোনীত হয়েছিলেন।
নানা পটেকর এবং অনুপম খেরের মতো খ্যাতিমান অভিনেতাদের সঙ্গেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়েছেন বড় পর্দায়। মহসিন মহেশ ভাটের সঙ্গে ‘সাথী’তে কাজ করেছেন মহসিন। ‘জিন্দেগি কে তালাশ মে হাম, মৌত কে কিতনে পাস আ গায়ে’ গান কাল্ট হয়ে গিয়েছে। মহসিন বলছেন, ‘ভট সাহেব একজন বুদ্ধিজীবী। আপনি তার সঙ্গে বসে জীবনের দর্শন সম্পর্কে জানতে পারবেন। এই গানটি এখনও মানুষ শোনে। কুমার শানু ছিলেন অসাধারণ।’
গোপনে বাবা
১৯৮৩ সালে রীনার সঙ্গে মহসিনের বিয়ে। ১৯৯২ সালে ডিভোর্স। মহসিন বলেন, ‘ মেয়েরা পড়াশোনা শেষ করেছে এবং মুম্বইতে মায়ের সঙ্গে থাকে। আমি তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। ও পাকিস্তানে স্কুলে পড়াশোনা করেছে এবং মুম্বইতে তার উচ্চশিক্ষা শেষ করেছে।’ মহসিন গোপনে মেয়েদের ভালোবাসেন।
(Feed Source: zeenews.com)
