সুইচে গন্ডগোলের জেরে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান? Boeing, Honewell-এর বিরুদ্ধে মামলা আমেরিকায়

সুইচে গন্ডগোলের জেরে ভেঙে পড়ে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান? Boeing, Honewell-এর বিরুদ্ধে মামলা আমেরিকায়

নয়াদিল্লি: আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার ভয়াবহতা কাটেনি এখনও। দুর্ঘটনার আসল কারণ ঘিরেও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। সেই আবহেই বিমান নির্মাণকারী সংস্থা Boeing এবং সুইচ নির্মাণকারী সংস্থা Honeywell-এর বিরুদ্ধে মামলা করলেন নিহত যাত্রীদের পরিবার-পরিজনরা। তাঁদের দাবি, দুই সংস্থার গাফিলতির জেরেই বিমানটি ভেঙে পড়ে। মামলাকারীরা হয় ভারত, অথবা ব্রিটেনের নাগরিক বলে জানা যাচ্ছে। (Boeing-Honeywell Sued)

গত ১২ জুন গুজরাতের আমদাবাদে ভেঙে পড়ে লন্ডনগামী বিমান Air India 171. পাইলট, বিমানকর্মী-সহ ২২৯ জন যাত্রী মারা যান দুর্ঘটনায়। লোকালয়ে ভেঙে পড়ায় মারা যান সাধারণ মানুষও। বিমানে বিদেশি যাত্রীরাও সওয়ার ছিলেন। সবমিলিয়ে ২৬০ জন মারা যান। সেই নিয়ে আমেরিকার ডেলাওয়ার সুপিরিয়র কোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত চার যাত্রীর পরিবার Boeing এবং Honewell-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। (Air India Plane Crash)

মামলাকারীদের দাবি, বিমান নির্মাণকারী সংস্থা Boeing-এর গাফিলতি ছিলই। Boeing 787-8 Dreamliner বিমানে যে সুইচ লাগানো ছিল, সমস্যা ছিল তাতেও। হয় অসাবধনতাবশত লক হয়ে যায় সুইচ, অথবা ছিলই না, যার দরুণ জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মাটি ছেড়ে ওড়ার মতো শক্তি পাওয়া যায়নি। Boeing এবং Honeywell এই ঝুঁকির কথা জানত। ২০১৮ সালে আমেরিকার ফেজারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনও Boeing-এর বিমানের লকিং মেকানিজম নিয়ে সতর্ক করেছিল। 

নিহতদের পরিবারের দাবি, থ্রাস্ট লিভারের একেবারে পিছনে সুইচ বসানো ছিল। এর ফলে  ককপিটে কোনও অসাবধানতাবশত কিছু ঘটে থাকলে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। মামলাকারীদের প্রশ্ন, “এই বিপর্যয় ঘটারই ছিল। কিন্তু তা এড়াতে Boeing এবং Honeywell কী করেছে? কিচ্ছুটি না।”

আমেরিকার ভার্জিনিয়ার আর্লিংটনে Boeing-এর সদর দফতর। Honewell-এর নর্থ ক্যারোলাইনায়। এখনও পর্যন্ততাদের প্রতিক্রিয়া মেলেনি। আমদাবাদ বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এই প্রথম আমেরিকায় কোনও মামলা দায়ের হল। বিমানে দুর্ঘটনায় নিহত কান্তাবেন দীরুভাই পাঘাদল, নব্যা চিরাগ পাঘাদল, কুবেরভাই পটেল এবং বাবিবেন পটেলের পরিবার মামলা করেছেন।

আমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার কারণ এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। ভারতের পাশাপাশি, ব্রিটেন এবং আমেরিকার তদন্তকারীরাও কারণ জানার চেষ্টা করছেন। তবে ভারতের এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো জুলাই মাসে যে প্রাথমিক রিপোর্ট দেয়, তাতে ককপিটে বিভ্রান্তি ছড়ায় বলে জানানো হয়। যিদিও আমেরিকার FAA-র অ্যাডমিনিস্ট্রেটর ব্রায়ান বেডফোর্ডের দাবি, যান্ত্রিক গোলযোগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী নয়। 

(Feed Source: abplive.com)