
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পার্টিতে নেশায় চুর মা। অন্যদিকে সোফায় শোয়ানো তাঁর একরত্তি সন্তান। মত্ত মায়ের গাফিলতিতেই সোফাতেই মৃত্যু হয় একরত্তির। প্রসিকিউটরদের দাবি, ৩৭ বছর বয়সী ওই মা শিশুটিকে সঠিকভাবে দেখাশোনা করেননি।
তিনি নেশায় এতটাই চুর ছিলেন যে, তিনি বুঝতেই পারেননি যে শিশুটি মাঝরাতে খাওয়ার জন্য ওঠেইনি। যখন অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল — রিয়ান তখন আর বেঁচে ছিল না।
ঘটনাটি ২০২১ সালে ইংল্যান্ডের স্টোক অন ট্রেন্টের নরমাকট এলাকায়। নিজের জন্মদিনের রাতে বন্ধু নিয়ে পার্টি করছিলেন মা নাতাশা বার্কস। তিনি তাঁর ছোট্ট কন্যা সন্তান পাঁচ বছরের রিয়ানকে সোফায় শুইয়ে রেখে পার্টিতে মেতে ওঠেন। ভদকার বোতলে মেতে ওঠে পার্টির আবহাওয়া।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁচ বছরের রিয়ানের মৃত্যু পিছনে দায়ী তাঁর মা। নিজের সন্তানের প্রতি গাফিলতির দায়ে নাতাশাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এবং ডিসেম্বর মাসে তাঁর শাস্তি ঘোষণা করা হবে।
আদালতে কী বলা হয়েছে?
স্টোক অন ট্রেন্ট ক্রাউন কোর্টে বলা হয়, নাতাশা বার্কস ও তাঁর এক বন্ধু রিয়ানের ঘরের বাইরে বসে প্রচুর পরিমাণে ভদকা পান করেন। সেই সময় নাতাশা কিছুই খাননি, যা অ্যালকোহলের প্রভাব আরও বাড়িয়ে তোলে। এমনকি তিনি বাড়ির বাইরে গিয়েও ধূমপান করেন একাধিকবার।
প্রসিকিউশনের মতে, সারারাত নাতাশা কেবল ডাইনিং রুমের দরজা থেকে একবার ঝুঁকে শিশুটিকে দেখেছিলেন- কিন্তু সঠিকভাবে তার খেয়াল রাখেননি। সাধারণত রিয়ান ভোর ৪:৩০ থেকে ৬:৩০ এর মধ্যে খাওয়ার জন্য জাগত, কিন্তু সেই রাতে জাগেনি- এবং নাতাশা সেটা খেয়ালই করেননি। সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে শিশুটির স্বাস্থ্যের অবনতি হলেও নাতাশা বুঝতে পারেননি।
ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস কী বলেছে?
ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসের প্রতিনিধি এলেইন র্যাডওয়ে বলেন, ‘নাতাশা বার্কস সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি তার পাঁচ মাসের শিশুর দায়িত্বে থেকেও প্রচুর পরিমাণে মদ্যপান করবেন, যখন শিশুটি পুরোপুরি তার ওপর নির্ভরশীল ছিল। যদিও তিনি সরাসরি শিশুটির মৃত্যুর কারণ নন এবং তিনি এমন পরিণতি কল্পনাও করেননি, কিন্তু তার মাতলামির কারণে তিনি রিয়ানকে যত্ন ও নজরদারি দিতে পারেননি।’
আইন অনুযায়ী, বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানের নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য দায়ী। এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, যখন এই দায়িত্বে অবহেলা হয়, তখন তার ফলাফল কতটা ভয়ানক হতে পারে। আমরা এই ঘটনার শিকার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।
(Feed Source: zeenews.com)
