
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ঘাসের আগায় শিশিরের বদলে ফ্রাঙ্কফুর্টের আকাশে সাদা তুলোর মতো মেঘ আর চারদিকে ফুটেছে কাশ ফুলের মতো ‘প্যাম্পাসগ্রাস’। আর এই পেঁজা তুলোর মেঘের ঢেউয়েই এবার জার্মানির বুকে বাঙালির মন মেতে উঠেছে দুর্গাপুজার আনন্দে। কলকাতা থেকে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার দুরে ফ্রাঙ্কফুর্টের কাছে ছোট্ট শহর রসবাখে, চার বছর ধরে পালিত হচ্ছে ‘চক্রবর্তী বাড়ির পুজো’, যা প্রবাসের বুকে নিয়ে এসেছে এক টুকরো কলকাতা।
ছোটবেলার সেই বনেদি বাড়ির পুজোর ইচ্ছেপূরণ হয়েছে শতাব্দী চক্রবর্তীর। ব্যস্ত প্রবাস জীবনে দুর্গাপুজা যেন এক শীতল, মিষ্টি হাওয়া। তিন মাস আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি। বাড়ির কর্তা, সপ্তর্ষি চক্রবর্তী নিজে হাতেই সামলান পুরোহিতের দায়িত্ব। পাঁচ দিন ধরে তিথি ও নির্ঘণ্ট মেনে চলে পুজোর সাবেকি নিয়ম-কানুন। ধুনুচি নাচ, কলা বউ স্নান, সন্ধিপুজো, নবমীতে কুমারী পুজো, এমনকি কুমড়ো বলিও হয়। প্রতিদিন চলে চণ্ডীপাঠ। দশমীর শেষে অপরাজিতা ফুল ও পাতে মটন দিয়ে শেষ হয় উৎসব।
এই পুজো দেখতে প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, স্পেন এবং জার্মানির বিভিন্ন শহর থেকে ভিড় জমান বাঙালিরা। একবেলায় প্রায় ১৫০ জনের বেশি মানুষের সমাগম ঘটে। এই পুজোর জন্য বাড়ির ছোট-বড় সবাই কোমর বেঁধে নেমে পড়েন কাজে।

শতাব্দী চক্রবর্তী জানান, “পঞ্চমী থেকে নবমী পর্যন্ত আমরা সবাই মিলে পুজো উপভোগ করব।” এই বছরের বিশেষ আকর্ষণ পঞ্চমীর শ্রুতিনাটক, আগমনী গান ও শাস্ত্রীয় নৃত্যের অনুষ্ঠান। পেটপুজোর কথা বলতেই তিনি জানালেন, বাড়ির মহিলারা নিজেরাই ভোগ রান্না করেন। মেনুতে থাকে বাসন্তী পোলাও, খিচুড়ি, ছানার ডালনা, পাঁচ রকমের ভাজা ও পায়েস।
এই পুজোর আন্তরিকতা ভুলিয়ে দেয় কলকাতায় না থাকার দুঃখ। শুধু বাঙালি নয়, জার্মান ও আফ্রিকানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ এই পুজোয় অংশ নেন। দূরত্বের সীমা ঘুচিয়ে দিয়ে রসবাখের এই পুজো যেন কলকাতার শোভাবাজার রাজবাড়ীর আরত ও পাড়ার আড্ডার এক মিশ্র রূপ। প্রবাসের মাটিতে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় কলকাতা ও রসবাখের দুর্গাপুজো।
(Feed Source: zeenews.com)
