Maharashtra Crime Case: মর্মান্তিক! একরত্তি ছেলে চিকেন খেতে চেয়েছিল, রাগে রুটি-বেলনচাকি দিয়ে মেরে…

Maharashtra Crime Case: মর্মান্তিক! একরত্তি ছেলে চিকেন খেতে চেয়েছিল, রাগে রুটি-বেলনচাকি দিয়ে মেরে…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের পালঘরের ঘোরিলা কমপ্লেক্সে একটি মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। ধানসার গ্রামের ঘোড়িলা কমপ্লেক্সে এক মা রাগের মাথায় নিজের ৭ বছরের ছেলেকে বেলন দিয়ে পিটিয়েছেন। ছেলেটির ‘দোষ’ ছিল কেবল এটুকুই—সে রাতে খাবারের জন্য চিকেন চেয়েছিল। একটি সামান্য কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে মা নিজের সন্তানকে এত নির্মমভাবে মারধর করেন যে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনাটি এলাকায় আলোচনার এবং চাঞ্চল্যের প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। ক্ষুব্ধ মা তাঁর ৭ বছরের ছেলেকে রুটি বেলার বেলুন দিয়ে পিটিয়ে খুন করেছেন। পুলিস জানিয়েছে, ৭ বছরের শিশুটি রাতের খাবারে মুরগির মাংস খেতে চেয়েছিল। যা শুনে রেগে যান মা। অভিযুক্ত মহিলা রাগে তাঁর রুটি বেলার বেলুন দিয়ে মারতে শুরু করেন। শিশুটির মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে, যার ফলে তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয়। আশ্চর্যজনকভাবে, গুরুতর আঘাত সত্ত্বেও সন্তানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাননি মা। গভীর রাতে বাড়িতেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

সত্যিই কি “চিকেন চাওয়া” মৃত্যুর কারণ ছিল?

পুলিসের প্রাথমিক তদন্ত অনুসারে, শিশুটি রাতের খাবারের জন্য চিকেন চাইছিল। এই কথাতেই মা ভীষণভাবে রেগে যান এবং রাগের বশে রুটি বেলার বেলন দিয়ে ছেলেকে মারতে শুরু করেন। মাথা এবং শরীরে গুরুতর আঘাত লাগার ফলে শিশুটির অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। আরও ভয়াবহ বিষয় হলো—মা শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কোনো চেষ্টাই করেননি। সে বাড়িতেই কষ্ট পেতে থাকে এবং গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।

পুলিসের তদন্তে কী জানা গেল?

স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় তাঁরা পুলিসকে খবর দেন। পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযুক্ত মহিলাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করে। ঘটনায় ব্যবহৃত বেলনটিও পুলিস প্রমাণ হিসেবে জব্দ করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মহিলা নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছেন। তবে, পুলিসের বক্তব্য হলো, মৃত্যুর আসল কারণ পোস্টমর্টেম রিপোর্ট থেকেই জানা যাবে।


পারিবারিক বিবাদের ছায়া?

তদন্তে জানা গেছে যে মহিলা স্বামীর থেকে আলাদা থাকতেন এবং নিজের দুই সন্তান ও বোনদের সঙ্গে বাস করতেন। মৃত শিশুটির ১০ বছরের বোনকে পুলিস ভীত ও সন্ত্রস্ত অবস্থায় খুঁজে পায়। পুলিস তাকে সুরক্ষার জন্য একটি আশ্রমে পাঠিয়েছে। স্থানীয়দের ধারণা, এই ঘটনার পিছনে কেবল “চিকেন চাওয়ার” বিষয়টিই থাকতে পারে না, বরং এর আড়ালে পারিবারিক টানাপোড়েন এবং মানসিক চাপের মতো বড় কারণও লুকিয়ে থাকতে পারে। এখন সকলের দৃষ্টি পুলিসের তদন্ত এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্টের দিকে, যার মাধ্যমে এই মর্মান্তিক ঘটনার আসল কারণ উন্মোচিত হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হলে এবং পুলিসকে খবর দিলে ঘটনাটি প্রকাশ পায়। পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করে। বেলুনটিও প্রমাণ হিসেবে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে যে অভিযুক্ত মহিলা তাঁর স্বামীর থেকে আলাদা থাকতেন। দুই সন্তান এবং দুই বোনকে নিয়ে ঘোরিলা কমপ্লেক্সে থাকতেন। মৃত শিশুর ১০ বছরের বোনকে অত্যন্ত ভীত ও আতঙ্কিত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ মেয়েটিকে হোমে পাঠিয়েছে।

মহিলা তাঁর অপরাধ স্বীকার করেছেন। ছেলের মৃত্যুর দায় স্বীকার করেছেন। তবে, স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন এই ঘটনার পিছনে অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং বিস্তারিত পুলিসি তদন্তের পরেই এই ঘটনার আসল সত্যতা প্রকাশ পাবে।

(Feed Source: zeenews.com)