জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: লন্ডনের রিডিং শহরে দুর্গাপুজো মানে এখন আর শুধু বড় বড় ক্লাবের পুজো নয়। ১৩টি বাঙালি পরিবারের আন্তরিক উদ্যোগ আর ভালোবাসায় এ বছর প্রথমবার আয়োজিত হলো ‘আনন্দ উৎসব’-এর দুর্গাপুজো। কোনো বাণিজ্যিক স্পনসরশিপ বা বহিরাগত সাহায্যের ওপর নির্ভর না করে, এই ছোট কিন্তু প্রাণবন্ত গোষ্ঠীটি নিজেদের হাতেই গড়ে তুলেছে এক টুকরো কলকাতা।

নামেই যার পরিচয়, সেই ‘আনন্দ উৎসব’ সত্যিই এক আনন্দময় মিলনমেলা। এটি কোনো বারোয়ারি পুজো নয়, বরং ১৩টি পরিবারের সম্মিলিত প্রয়াস। প্যান্ডেল তৈরি থেকে শুরু করে প্রতিমা স্থাপন, ভোগ রান্না, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান—সবকিছুতেই ছিল নিজেদের হাতের ছোঁয়া। প্রতিটি পরিবারের সদস্যরা নিজেদের সময়, শ্রম ও অর্থ দিয়ে এই উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তুলেছেন। এই পুজো যেন এক বর্ধিত পরিবারের উৎসব, যেখানে বাণিজ্যিক আড়ম্বর নয়, বরং আন্তরিকতাই মূল মন্ত্র।
এই পুজোর বিশেষত্ব হলো এর স্বকীয়তা। অন্য বড় বড় আয়োজনের মতো এখানে কোনো বাইরের পৃষ্ঠপোষকতা নেই। প্রতিটি খুঁটিনাটি কাজ, যেমন মণ্ডপ সজ্জা, ভোগ রান্না এবং পুজোর সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান, সবই এই ১৩টি পরিবারের সদস্যরা মিলেমিশে সম্পন্ন করেছেন। এর মধ্য দিয়ে তারা শুধু ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাই বজায় রাখছেন না, বরং নিজেদের পরবর্তী প্রজন্মকে শেখাচ্ছেন শিকড়ের গুরুত্ব।
‘আনন্দ উৎসব’-এর লক্ষ্য কেবল দুর্গাপুজো উদযাপন নয়, বরং প্রবাসে থেকেও একাত্মতা, ঐতিহ্য এবং ভালোবাসার বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা। তাদের এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে, দেশ থেকে বহু দূরে থেকেও বাঙালি তার সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। এই সূচনা কেবল একটি নতুন অধ্যায়ের প্রথম ধাপ। ‘আনন্দ উৎসব’ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেই মূল্যবোধগুলির প্রতি, যা তাদের একত্রিত করেছে—ঐতিহ্য, ঐক্য এবং আনন্দ।
(Feed Source: zeenews.com)
