
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিশ্ব জুড়ে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে যে গুরুতর সঙ্কট চলছে, তাকে চিরতরে পাল্টে দিতে পারে এই যুগান্তকারী আবিষ্কার। বিজ্ঞানীরা টাইপ-এ রক্ত-গ্রুপের একটি কিডনিকে এমনভাবে বদলে ফেলেছেন, যা কিনা এখন ‘ইউনিভার্সাল ডোনার কিডনি’ অর্থাৎ টাইপ-ও কিডনির মতোই কাজ করবে! এই উদ্ভাবন আমেরিকায় আরও দ্রুত ও আরও বেশি সংখ্যক কিডনি প্রতিস্থাপনের দরজা খুলে দিয়েছে।
বর্তমানে অঙ্গ প্রতিস্থাপনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো রক্তের গ্রুপ মেলানো । এর অভাবে হাজার হাজার রোগী বছরের পর বছর ধরে একটি উপযুক্ত কিডনির জন্য অপেক্ষা করেন। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে যদি একটি ‘ইউনিভার্সাল ডোনার কিডনি’ তৈরি করা যায়, তাহলে অপেক্ষার প্রহর কমবে, বাঁচবে বহু প্রাণ এবং বদলে যাবে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ভবিষ্যৎ।
বিজ্ঞানীরা একটি টাইপ-এ ডোনার কিডনি নিয়ে বিশেষ এনজাইম ব্যবহার করে টাইপ-ও কিডনিতে রূপান্তরিত করেছেন। কিডনিটিকে এমন কিছু এনজাইম দিয়ে ট্রিটমেন্ট করা হয় যা টাইপ-এ রক্তের জন্য দায়ী অ্যান্টিজেনগুলিকে কেটে বাদ দিয়ে দেয়। এই প্রক্রিয়ায় কিডনিটিকে এমনভাবে ‘ধুয়ে’ দেওয়া হলো যে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কাছে সেটিকে টাইপ-ও বলেই মনে হবে। পরীক্ষার জন্য এই রূপান্তরিত কিডনিটিকে পরে একজন ব্রেন-ডেড রোগীর দেহে (পরিবারের অনুমতি সাপেক্ষে) প্রতিস্থাপন করে দেখা হয়।
কতটা সফল এই পরীক্ষা?
প্রথম দু’দিন ‘ইউনিভার্সাল ডোনার কিডনি’ স্বাভাবিকভাবেই কাজ করেছিল এবং কোনো প্রত্যাখ্যান ঘটেনি। কিন্তু তৃতীয় দিনের মাথায় কিছু অ্যান্টিজেন আবার ফিরে আসে এবং রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অঙ্গটিকে আক্রমণ করা শুরু করে। অর্থাৎ, এই কৌশলটি সাময়িকভাবে সফল হলেও এখনও স্থায়ী রূপ পায়নি।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন,”আমরা প্রমাণ করেছি যে এই এনজাইম-পরিবর্তিত ‘ও’ কিডনি তৈরি করা সম্ভব এবং প্রতিস্থাপনের সময় কোনো তাৎক্ষণিক প্রত্যাখ্যান ঘটেনি।”
অন্যান্য অঙ্গের ক্ষেত্রেও কি এটা সম্ভব?
বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে একই এনজাইম-ভিত্তিক পদ্ধতি ভবিষ্যতে হৃৎপিণ্ড, যকৃৎ এবং ফুসফুসের মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা যেতে পারে। ইতিমধ্যেই ল্যাবরেটরিতে ফুসফুসের ওপর এর প্রাথমিক পরীক্ষা করা হয়েছে।
এই যুগান্তকারী গবেষণা দেখাচ্ছে যে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এনজাইম ব্যবহার করে একটি ‘ইউনিভার্সাল ডোনার কিডনি’ তৈরি করা সম্ভব। যদিও আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন, তবুও এটি আমেরিকার চিকিৎসার ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার হতে পারে, যা হাজার হাজার জীবন বাঁচাতে এবং টাইপ-ও রোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি ঘটাতে সক্ষম।
(Feed Source: zeenews.com)
