
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: হরিয়ানার ইউটিউবার (Haryana Youtuber) পাকিস্তানি গুপ্তচর হয়ে পুলিসের হাতে ধরা পড়েছেন। পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের (ISI) হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে এক ইউটিউবারকে (Youtuber) গ্রেফতার করল পুলিস। হরিয়ানার পালওয়াল জেলা পুলিসের (Haryana Police) হাতে ধৃত ওয়াসিম আক্রম (Wasim Akram) নামে ওই ব্যক্তি। তাঁর ফোনও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেই ফোন থেকে বেশ কিছু মেসেজ ডিলিট করা হয়েছে বলে তদন্তকারীদের সূত্রে খবর। এখন সেই মেসেজই পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিস।

উঠতি এই ইউটিউবারকে পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (ISI) এবং পাকিস্তান হাইকমিশনের (Pak High Commission) জন্য গুপ্তচরবৃত্তির (Sensitive Information) অভিযোগে পালওয়াল পুলিস গ্রেফতার করেছে। তাকে বুধবার, ১ অক্টোবর, গ্রেফতার করা হয়। তার গ্রেফতারের আগে ২৬ সেপ্টেম্বর আলিমেভ গ্রাম থেকে তৌফিক নামে আরেক গুপ্তচরকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, যার সূত্র ধরে আক্রামের নাম উঠে আসে। পুলিস সুপার বরুণ সিঙ্গলা জানিয়েছেন, এই তৌফিক এবং ওয়াসিম দু’জনেরই যোগাযোগ ছিল আইএসআই আধিকারিক এবং পাকিস্তানের হাই কমিশনের সঙ্গে। ইন্টারনেট কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতেন তাঁরা। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে পাকিস্তানি এজেন্ট দানিশের সঙ্গে যোগাযোগ হয় ওয়াসিমের। পাকিস্তানের ভিসার আবেদনও করেছিলেন তিনি। অভিযোগ, তাঁর পরিবার ভিসা পায়নি।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, ওয়াসিম কোট গ্রামের বাসিন্দা। ইউটিউবে মেওয়াটের ইতিহাস নিয়ে বেশ কিছু ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত তিন বছর ধরে পাকিস্তানের গুপ্তচরের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে তাঁর। অভিযোগ, তাঁদের সিমকার্ডও সরবরাহ করেছেন তিনি। তাঁর মোবাইল থেকে বেশ কিছু মেসেজ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
কে এই ওয়াসিম আক্রাম?
ওয়াসিম আক্রাম পালওয়াল জেলার কোট গ্রামের বাসিন্দা। তিনি একজন ইউটিউবার। তিনি মেওয়াতের ইতিহাস নিয়ে ভিডিও পোস্ট করেন।
কিভাবে তিনি ‘সংবেদনশীল’ তথ্য শেয়ার করতেন?
তথ্য অনুসারে, তিনি তিন বছর ধরে পাকিস্তানি গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছেন এবং পাকিস্তানি এজেন্টদের সাথে যোগাযোগ রেখেছেন। অভিযোগ, তিনি তাদের সিম কার্ড এবং সংবেদনশীল তথ্য সরবরাহ করতেন। তারা ইন্টারনেট কলের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত।
আক্রামের ফোন
তদন্তকারীরা আক্রামের ফোন থেকে আপত্তিকর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খুঁজে পেয়েছেন। আক্রাম কিছু চ্যাট মুছে ফেললেও, সাইবার সেল সেই ডেটা পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করছে।
পুলিসকর্তারা জানিয়েছেন যে আক্রাম ২০২১ সালে পাকিস্তানে ভিসার জন্য আবেদন করার সময় দানিশ নামে এক পাকিস্তানি এজেন্টের সংস্পর্শে আসেন।
আক্রামের পরিবার তার প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান সফরের বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তবে পুলিস এখন পর্যন্ত এমন প্রমাণ পেয়েছে যা তার সীমান্তপারের যোগাযোগের দিকে ইঙ্গিত করে।
পুলিস সুপারিনটেনডেন্ট বরুণ সিংগলা বলেন, ‘দুই অভিযুক্তই পাকিস্তান হাইকমিশন এবং আইএসআই-এর সাথে ইন্টারনেট কলের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখত।” তিনি আরও জানান যে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে ক্রাইম ব্রাঞ্চ অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
(Feed Source: zeenews.com)
