
জুবিন-ই বদলেছিল বাংলার এই সংগীতশিল্পীর জীবন, দীপেন্দ্রর মধ্যেই যেন বাজবে “মায়াবিনী”!
প্রিয় সংগীত শিল্পীর সঙ্গে
উত্তর ২৪ পরগনা, রুদ্র নারায়ণ রায়: তার মৃত্যু নিয়ে রহস্য তৈরি হলেও, অনুরাগীদের মধ্যে যেন এভাবেই বেঁচে থাকবেন “ইয়া আলী” বা “মায়াবিনী” খ্যাত সঙ্গীত শিল্পী জুবিন গর্গ। আসামের জনপ্রিয় সংগীত শিল্পী জুবিন গর্গের মৃত্যুর পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বাংলার তরুণ শিল্পী দীপেন্দ্র লাহিড়ী। জুবিনই বদলে দিয়েছিলেন তাঁর জীবন, এনে দিয়েছিলেন নতুন দিশা।
সংগীত জীবনের প্রতিটি বাঁকে জুবিন গর্গ ছিলেন দীপেন্দ্রর অনুপ্রেরণা, পথপ্রদর্শক। প্রয়াত শিল্পীর পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম শেষে দমদমের নিজের বাসভবনে ফিরে চোখের জল যেন এখনও শোকাচ্ছে না দীপেন্দ্রর। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাংলায় থাকাকালীন প্রায়শই জুবিন গর্গের সঙ্গে মঞ্চে গান গাইতেন দীপেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের নানা অনুষ্ঠানে তাঁদের যুগলবন্দি ছিল দর্শক-শ্রোতাদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ। দীপেন্দ্রর কথায়, “জুবিনদা শুধু একজন শিল্পী নন, তিনি আমার জীবন বদলে দিয়েছেন। কঠিন সময়ে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, নতুন করে বাঁচার সাহস দিয়েছিলেন।”
ছোটবেলা থেকেই সংগীতের পরিবেশে বেড়ে ওঠা দীপেন্দ্রর গানের প্রতি গভীর টান। মা দীপালি বাগচী একজন গানের শিক্ষিকা, বাবা শান্তনু লাহিড়ী গত হয়েছেন। ঘরের মধ্যেই গানের প্রতি ভালবাসা তৈরি হয়েছিল তাঁর। কৈশোরেই জুবিন গর্গের গান তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। বাড়ির দেওয়ালে টাঙানো জুবিনের ছবি, আর তাঁর সুরেই দীপেন্দ্র খুঁজে পেয়েছেন জীবনের মানে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে দীপেন্দ্র নিজের ইউটিউব চ্যানেলে প্রথম ভিডিও হিসেবে আপলোড করেন জুবিন গর্গের জনপ্রিয় গান ‘মায়াবিনী’-এর বাংলা ও অসমীয়া ভার্সন।
গানটি দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, বিশেষত আসামে। এরপর সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সেই ভিডিও পৌঁছে যায় জুবিন গর্গের কাছে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, স্বয়ং জুবিন ফোন করে দীপেন্দ্রর প্রশংসা করেন এবং পরবর্তী গানের কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সেই সূত্রেই জুবিন কলকাতায় এসে হাইল্যান্ড পার্কে এক অনুষ্ঠানে দীপেন্দ্রকে নিয়ে মঞ্চে একসঙ্গে ‘মায়াবিনী’ গানটি পরিবেশন করেন। আজও সেই দিনটিকেই দীপেন্দ্র জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্ত বলে মনে করেন। তারপর থেকে একের পর এক মঞ্চে বাংলায় জুবিনের সহ-সঙ্গীত শিল্পী হিসেবে দেখা যেত দীপেন্দ্র কে। বহুবার কলকাতার বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও রেকর্ডিংয়ে জুবিনের সঙ্গী ছিলেন এই দীপেন্দ্র।
জুবিনের মৃত্যুসংবাদ পেতেই ভেঙে পড়েন তিনি। এখনও যেন ঠিক বিশ্বাস করতে পারছেন না এই দুর্ঘটনার কথা। শুধু মঞ্চেই নয়, বহুবার জুবিন গার্গ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় দীপেন্দ্রর গান শেয়ার করেছেন, নতুনদের উৎসাহিত করেছেন। দীপেন্দ্র বলেন, জুবিনদা সবসময় নতুনদের অনুভূতি বুঝতেন, উৎসাহ দিতেন, সুযোগ করে দিতেন। প্রিয় জুবিনদাকে উৎসর্গ করে গান লিখছেন দীপেন্দ্র। এভাবেই প্রিয় সংগীত শিল্পী যেন বেঁচে থাকবেন অসংখ্য অনুরাগীর হৃদয়ে। ভক্তদের কাছে তিনি যুগশ্রেষ্ঠ, তিনি জীবন, তিনিই জুবিন।
