Pawan Singh’s Wife: ‘জোর করে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়াত, না খেলেই মারধর’, ভয়ংকর অভিযোগ অভিনেতার স্ত্রীর…

Pawan Singh’s Wife: ‘জোর করে গর্ভপাতের ওষুধ খাওয়াত, না খেলেই মারধর’, ভয়ংকর অভিযোগ অভিনেতার স্ত্রীর…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভোজপুরী অভিনেতা পবন সিং এবং তাঁর স্ত্রী জ্যোতি সিংয়ের মধ্যে পারিবারিক বিবাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে এখন। বুধবার এই দম্পতি আলাদাভাবে সাংবাদিক সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন, যা তাঁদের ব্যক্তিগত সমস্যাকে জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে। মুম্বইয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে জ্যোতি সিং তাঁর দাম্পত্য জীবনের একাধিক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বামীর কাছ থেকে তাঁকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি ছিল গর্ভপাতের বিষয়ে। জ্যোতি সিং দাবি করেন যে, পবন সিং প্রকাশ্যে সন্তানের আকাঙ্ক্ষার কথা বললেও, বারবার তাঁকে গর্ভপাতের ওষুধ দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “উনি আমাকে গর্ভপাতের ওষুধ দিতেন। উনি বলেন যে উনি সন্তানের জন্য আকুল, কিন্তু যে সত্যি সন্তান চায়, সে তার স্ত্রীকে ওষুধ দেয় না। প্রতিবারই আমাকে ওষুধ দেওয়া হয়েছে।” জ্যোতি সিং আরও বলেন যে, তিনি আগে অনেক কিছু প্রকাশ করেননি, কিন্তু “পবন জি আজ আমাকে কথা বলতে বাধ্য করেছেন।” এক ভয়ঙ্কর ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি জানান, একবার তিনি আপত্তি জানালে তাঁকে এতটাই নির্যাতন করা হয় যে রাত ২টোর সময় তিনি ২৫টি ঘুমের ওষুধ খেয়েছিলেন। এরপর পবন সিংয়ের ভাই (রানু ভাইয়া) এবং তাঁর টিমের সদস্যরা তাঁকে আন্ধেরির বেলভিউ মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যান।

সন্ধ্যায় পবন সিং সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন এবং জ্যোতির সমস্ত অভিযোগকে ভ্রান্ত এবং অতিরঞ্জিত বলে উড়িয়ে দেন। তিনি জানান, জ্যোতি সিং তাঁকে দেখা করার জন্য লখনউ আসছিলেন বলে ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন। বিষয়টি তিনি আগে থেকেই প্রশাসনকে জানিয়ে রেখেছিলেন। তিনি স্বীকার করেন যে তাঁর ভাইদের (হৃতিক এবং ধনঞ্জয়) উপস্থিতিতে তাঁর ফ্ল্যাটেই তাঁদের দেখা হয়েছিল, যেখানে জ্যোতির সঙ্গে তাঁর ভাই ও দিদি জুহি ছিলেন। পবন বলেন, তাঁদের মধ্যে কেমন ব্যবহার হয়েছে, তা “শুধুমাত্র আমি, সে আর ঈশ্বরই জানেন।”

অভিনেতা দাবি করেন যে, বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জ্যোতি তাঁর বাড়ি ছেড়ে যেতে অস্বীকার করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, নির্বাচনে লড়ার ব্যবস্থা করে দেওয়াই ছিল জ্যোতির একমাত্র দাবি, যা তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পবন সিং নিজের জনপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে বলেন, “আমার কাছে দর্শকই ভগবান। যারা আমাকে এই অবস্থানে আসতে সাহায্য করেছে, আমি কখনোই তাদের অনুভূতিতে আঘাত করব না।” তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন যে পুলিশকে তিনি ডাকেননি, বরং কর্মকর্তারা সকাল থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন পরিস্থিতি তদারকির জন্য। এই বছরের অগাস্টে, জ্যোতি সিং সামাজিক মাধ্যমে একটি আবেগপূর্ণ বার্তা শেয়ার করে স্বামীর কাছ থেকে অবহেলা এবং যোগাযোগের অভাবের অভিযোগ এনেছিলেন।

তিনি লেখেন যে, তিনি কয়েক মাস ধরে পবন সিংয়ের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছেন কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। ছট পূজার সময় তিনি লখনউ এবং দেহরিতে গেলেও পবন সিং দেখা করতে অস্বীকার করেন। জ্যোতি সিং লেখেন, “আমি কী এমন গুরুতর অপরাধ করেছি যে আমাকে এমন শাস্তি দেওয়া হচ্ছে? যদি আমি তোমার যোগ্য না হই, তবে তুমি আমাকে ছেড়ে যেতে পারতে। লোকসভা নির্বাচনের সময় আমাকে মিথ্যা আশা দেওয়ার কোনো দরকার ছিল না। আজ তুমি আমাকে আত্মাহুতি দেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প রাখোনি, কিন্তু আমি সেটাও করতে পারি না, কারণ প্রশ্ন সব সময় আমার এবং আমার বাবা-মায়ের দিকেই উঠবে।” সাত বছরের যুদ্ধের শেষে এটিকে “শেষ আবেদন” উল্লেখ করে জ্যোতি তাঁর স্বামী পবন সিংয়ের কাছে একবারের জন্য তাঁর কষ্টের কথা বোঝার এবং তাঁর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ জানান।

(Feed Source: zeenews.com)