
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি। পাকসেনার বিমান হামলায় বড় ক্ষতি আফগানিস্তানের। ইতোমধ্যেই জানা গিয়েছে, এয়ার স্ট্রাইকের তিন আফগান ক্রিকেটর মারা গিয়েছে। এই নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড জানিয়েছে, নিহতদের নাম কবীর, সিবঘাতুল্লাহ ও হারুন। হামলায় আরও পাঁচজন সাধারণ মানুষ মারা গিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, বাড়ি ফেরার সময় হামলার শিকার হন তিন ক্রিকেটার। এ ঘটনাকে আফগানিস্তান ‘পাকিস্তানের নৃশংস হামলা’ হিসেবে বলেছেন। এর পর আফগানিস্তান পাকিস্তান ও শ্রীলংকার সঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচ থেকে সরে এসেছে। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছে, ‘পক্তিকা প্রদেশের উরগুন জেলার সাহসী ক্রিকেটারদের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করছি, যারা পাকিস্তানি শাসকের এই নৃশংস হামলায় নিহত হয়েছেন।’
— Afghanistan Cricket Board (@ACBofficials) October 17, 2025
ক্রিকেটারদের শোক ও প্রতিবাদ:
আফগানিস্তানের টি-২০ দলের অধিনায়ক রশিদ খান সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এসি বি’র পাকিস্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সিরিজ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের বিমান হামলায় মহিলা, শিশু ও যুব ক্রিকেটারদের মৃত্যু দেখে আমি গভীরভাবে দুঃখিত। তারা জাতির প্রতিনিধিত্ব করার স্বপ্ন দেখত।’ রশিদ খান বলেন, ‘নাগরিক অবকাঠামোকে টার্গেট করা অত্যন্ত অনৈতিক ও বর্বরতা। এমন অবিচার ও অবৈধ কাজ মানবাধিকার লঙ্ঘন, যা নজর এড়ানো চলবে না।’
তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘আমাদের মূল্যবান জীবন হারানোর পরিপ্রেক্ষিতে আমি আসন্ন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। এই কঠিন সময়ে আমি আমাদের মানুষের পাশে আছি, জাতীয় মর্যাদা সবকিছুর উপরে।’
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত সংঘর্ষ:
আফগান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শুক্রবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের পক্তিকা প্রদেশে একাধিক বিমান হামলা চালায়। কাবুল অভিযোগ করেছে, পাকিস্তান এই হামলায় দুই দেশের মধ্যকার ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, এই বিমান হামলা উরগুন ও বর্মাল জেলায় বসতি এলাকায় হয় এবং এতে অনেক নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে। এই মারাত্মক হামলা ঘটে দুই দেশের মধ্যে ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির সময়, যা গতকালের প্রবল সীমান্ত সংঘর্ষের পর হয়েছে।
আগে, পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি আরও বাড়ানোর অনুরোধ করেছিল যতক্ষণ না দোহায় চলমান আলোচনা শেষ হয়। এই আলোচনা সীমান্তে উত্তেজনা কমানো এবং সহিংসতা বন্ধ করার জন্য করা হচ্ছে। খবর অনুযায়ী, কাবুল এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি দোহায় আলোচনা শেষ হওয়া পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। দুই পক্ষের আলোচনা শনিবার শুরু হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
