ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন? সবচেয়ে ‘সস্তায়’ কী ভাবে MBBS হবেন? দেশে না বিদেশে? জানুন ‘সহজ’ উপায়! 

ডাক্তারি পড়ার স্বপ্ন? সবচেয়ে ‘সস্তায়’ কী ভাবে MBBS হবেন? দেশে না বিদেশে? জানুন ‘সহজ’ উপায়! 

ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আর শুধুই ধনীদের নয় — সঠিক পরিকল্পনা ও সঠিক দেশ বেছে নিলে, আজকের দিনে মাঝারি আয়ের পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষেও সেই স্বপ্ন পূরণ করা সম্পূর্ণ সম্ভব।

কোন দেশে এমবিবিএস পড়ার খরচ সবচেয়ে বেশি? আর কোথায় ভারতের চেয়ে কম খরচে ডাক্তার হওয়া যায়? ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন যাঁদের, তাঁদের জন্য রয়েছে সহজ পথ। না জেনে অনেকেই আজকাল বাইরে ডিগ্রি আনতে যান তার পর নাস্তানাবুদ হন। জেনে নিন কী করে সবচেয়ে কম খরচে ডাক্তারি পাশ করবেন।

ডাক্তার হওয়া সহজ নয়। দীর্ঘ প্রস্তুতি, কঠিন পরীক্ষা, আর অগাধ খরচ — সব মিলিয়ে মেডিকেল পড়াশোনা অনেকের স্বপ্ন, কিন্তু বাস্তবে তা পূরণ করতে পারেন না অনেকেই। ভারতে এমবিবিএস মানে প্রথমেই এনইইটি (NEET) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, তারপর বিশাল অঙ্কের ফি দিয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া। যদি বিকল্প পথ না জানেন, হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে স্বপ্ন।

কিন্তু পৃথিবীর সব দেশেই পরিস্থিতি এমন নয়। কোথাও মেডিকেল পড়াশোনা আকাশছোঁয়া দামে, আবার কোথাও ভারতের বেসরকারি কলেজের তুলনায় অনেক কম খরচে ডাক্তার হওয়া সম্ভব।

প্রতি বছর ভারতে লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসে। কিন্তু সরকারি কলেজে আসন সীমিত এবং প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায়, অধিকাংশ যোগ্য প্রার্থীই সেই সুযোগ পান না। বেসরকারি কলেজে ভর্তি হলে তাঁদের গুনতে হয় বিপুল অর্থ — এতটাই যে অনেক পরিবারকে ঋণ নিতে হয়, কারও কারও ক্ষেত্রে সম্পত্তি বিক্রি করতে পর্যন্ত বাধ্য হতে হয়।

তবে বিশ্বের কিছু দেশে পরিস্থিতি একেবারেই আলাদা। সেখানে মেডিকেল পড়াশোনা তুলনামূলকভাবে অনেক সস্তা, অথচ মানের দিক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। আবার কিছু দেশে ডাক্তার হতে খরচ হয় কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত।

একটি দেশের মেডিকেল শিক্ষার খরচ নির্ভর করে তার উচ্চশিক্ষা নীতি, জীবনযাত্রার মান এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত ফি-র ওপর।

যুক্তরাষ্ট্র (USA), কানাডা (Canada), অস্ট্রেলিয়া (Australia), যুক্তরাজ্য (UK) এবং সিঙ্গাপুর (Singapore)-এর মতো উন্নত দেশে এমবিবিএস পড়া বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল কোর্সগুলির একটি।

এই দেশগুলোতে মেডিকেল পড়তে গেলে প্রথমে ‘প্রি-মেড’ (Pre-Med) নামে আলাদা একটি স্নাতক কোর্স সম্পূর্ণ করতে হয়, তারপরই মেডিকেল স্কুলে ভর্তি হওয়া যায়। এই অতিরিক্ত ধাপের ফলে কোর্সের সময়সীমা যেমন বেড়ে যায়, তেমনি খরচও আকাশছোঁয়া হয়।

এই দেশগুলিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমবিবিএস পড়তে মোট খরচ পড়ে প্রায় ১.৫ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ একজন মধ্যবিত্ত ভারতীয় পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা কার্যত অসম্ভব।

অন্যদিকে, বিশ্বের কিছু মধ্য এশীয় ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশ ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এই দেশগুলিতে মেডিকেল শিক্ষার মান ভালো, ভাষা ইংরেজি, আর খরচ ভারতের বেসরকারি কলেজগুলির তুলনায় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কম।

উজবেকিস্তান (Uzbekistan)-এ বার্ষিক এমবিবিএস ফি পড়ে প্রায় ₹২.৫ লক্ষ থেকে ₹৪.৫ লক্ষ। কাজাখস্তান (Kazakhstan)-এ খরচ প্রায় ₹৩ থেকে ₹৫ লক্ষ, রাশিয়া (Russia)-তে প্রায় ₹৪ থেকে ₹৬ লক্ষ, ফিলিপাইনস (Philippines)-এ প্রায় ₹৫ থেকে ₹৭ লক্ষ, আর জর্জিয়া (Georgia) ও ইউক্রেন (Ukraine)-এও তুলনামূলকভাবে কম খরচে উচ্চমানের চিকিৎসা শিক্ষা পাওয়া যায়।

এই দেশগুলিতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এমবিবিএস পড়তে মোট খরচ পড়ে প্রায় ১.৫ কোটি থেকে ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ একজন মধ্যবিত্ত ভারতীয় পরিবারের পক্ষে এই খরচ বহন করা কার্যত অসম্ভব।

অন্যদিকে, বিশ্বের কিছু মধ্য এশীয় ও পূর্ব ইউরোপীয় দেশ ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এই দেশগুলিতে মেডিকেল শিক্ষার মান ভালো, ভাষা ইংরেজি, আর খরচ ভারতের বেসরকারি কলেজগুলির তুলনায় প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ কম।

উজবেকিস্তান (Uzbekistan)-এ বার্ষিক এমবিবিএস ফি পড়ে প্রায় ₹২.৫ লক্ষ থেকে ₹৪.৫ লক্ষ। কাজাখস্তান (Kazakhstan)-এ খরচ প্রায় ₹৩ থেকে ₹৫ লক্ষ, রাশিয়া (Russia)-তে প্রায় ₹৪ থেকে ₹৬ লক্ষ, ফিলিপাইনস (Philippines)-এ প্রায় ₹৫ থেকে ₹৭ লক্ষ, আর জর্জিয়া (Georgia) ও ইউক্রেন (Ukraine)-এও তুলনামূলকভাবে কম খরচে উচ্চমানের চিকিৎসা শিক্ষা পাওয়া যায়।

এই দেশগুলিতে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা হোস্টেল ও নিরাপদ পরিবেশ রয়েছে। কোর্সগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত, ফলে ভবিষ্যতে বিদেশে কাজেরও সুযোগ থাকে।

ভারতে মেডিকেল পড়াশোনার খরচ নির্ভর করে কলেজটি সরকারি নাকি বেসরকারি তার ওপর। সরকারি মেডিকেল কলেজগুলিতে ফি তুলনামূলকভাবে খুবই কম। বছরে ফি প্রায় ₹২০,০০০ থেকে ₹৭.৫ লক্ষ পর্যন্ত হতে পারে। তাই সরকারি আসন পাওয়া মানে কার্যত এক সোনার সুযোগ।

অন্যদিকে, বেসরকারি কলেজে এমবিবিএস পড়ার খরচ আকাশছোঁয়া। পুরো কোর্সের খরচ প্রায় ₹৬০ লক্ষ থেকে ₹১.৫ কোটি টাকা পর্যন্ত হয়। ম্যানেজমেন্ট কোটা বা এনআরআই সিট-এর মাধ্যমে ভর্তি নিলে খরচ কখনও কখনও ₹২ কোটি ছাড়িয়ে যায়।

ফলত, অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রী যারা সরকারি সিট পান না, তাঁরা রাশিয়া, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান বা ফিলিপাইনসের মতো দেশে পড়তে যান, যেখানে খরচ তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় ডাক্তার হতে প্রায় কোটি কোটি টাকা খরচ হয়, সেখানে উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান বা রাশিয়ার মতো দেশে একই মানের ডিগ্রি পাওয়া যায় ভারতের বেসরকারি কলেজের এক-চতুর্থাংশ খরচে।

ভারতের সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি পাওয়া এখনও ভাগ্যের বিষয়। কিন্তু যারা সরকারি সিট পান না, তাঁদের জন্য বিদেশে মেডিকেল পড়ার সুযোগ এখন অনেক সহজ, সাশ্রয়ী এবং নিরাপদ।

অর্থাৎ, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন আর শুধুই ধনীদের নয় — সঠিক পরিকল্পনা ও সঠিক দেশ বেছে নিলে, আজকের দিনে মাঝারি আয়ের পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের পক্ষেও সেই স্বপ্ন পূরণ করা সম্পূর্ণ সম্ভব।

(Feed Source: news18.com)