US Shutdown: ৭৫০০০০ সরকারি কর্মীকে মাইনেই দিতে পারেননি ট্রাম্প! দেউলিয়া হওয়ার পথে আমেরিকা? শাটডাউনের রহস্য…

US Shutdown: ৭৫০০০০ সরকারি কর্মীকে মাইনেই দিতে পারেননি ট্রাম্প! দেউলিয়া হওয়ার পথে আমেরিকা? শাটডাউনের রহস্য…

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শাটডাউনের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে (USA) পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই শাটডাউনের (America Shutdown) ফলে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলাররা (Air Traffic Controllers) বেতন ছাড়াই কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। আর্থিক দুরবস্থার কারণে, প্রায় ৭ লক্ষ ৫০ হাজার কর্মচারী তাদের সংসার চালানোর জন্য ক্যাব, ফুড ডেলিভারি এবং রেস্তোরাঁয় পার্ট-টাইম কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ATC (Air Traffic Controll)-এ কর্মী সংকটের কারণে, এই কর্মচারীদের সপ্তাহে ৬০ ঘণ্টা পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে।

১লা অক্টোবর থেকে বেতন পাননি

উল্লেখ্য যে, শাটডাউনের কারণে তহবিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীরা ১লা অক্টোবর থেকে বেতন পাননি। ন্যাশনাল এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারস অ্যাসোসিয়েশনের (NATCA) প্রেসিডেন্ট নিক ড্যানিয়েলসের মতে, ‘আমাদের বলা হচ্ছে যে আমরা একসময় আমাদের বেতন পাব, কিন্তু তাতে আমাদের খরচ কমবে না বা ঋণ শোধ হবে না। পরে টাকা পেলে বর্তমানের (প্রয়োজন) মিটবে না।’

শাটডাউনে কোন ক্ষেত্রটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?

শাটডাউনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বিমান চলাচল ক্ষেত্রে। বেতন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়, হাজার হাজার কন্ট্রোলার তাদের দৈনন্দিন চাহিদা মেটাতে অন্যান্য ছোটখাটো কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। কর্মচারীরা তাদের নিয়মিত শিফটের পরে পার্ট-টাইম কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

শাটডাউন কী এবং কেন এটি ঘটে?

জানিয়ে রাখি, ভারতে যেমন অর্থবর্ষ ১লা এপ্রিল থেকে শুরু হয়, তেমনই আমেরিকায় তা ১লা অক্টোবর থেকে শুরু হয়। এর অর্থ হলো, এই দিন থেকে সরকার তার অর্থনৈতিক বাজেট প্রস্তুত করে এবং কোন খাতে কত টাকা খরচ করতে হবে তার পরিকল্পনা করে। কিন্তু কোনও কারণে যদি এই তারিখের মধ্যে নতুন বাজেট পাস না হয়, তাহলে সরকারি কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যায়। আমেরিকায় একেই ‘শাটডাউন’ বলা হয়।

এবার আমেরিকায়, ‘ওবামা হেলথ কেয়ার সাবসিডি প্রোগ্রাম’ নিয়ে দুই প্রধান রাজনৈতিক দল, ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে উত্তেজনা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসেবা ভর্তুকি বাড়াতে চায়, যেখানে রিপাবলিকানরা মনে করে যে ভর্তুকি বাড়ালে সরকারের ওপর অতিরিক্ত বোঝা বাড়বে, যার ফলে অন্যান্য কাজের জন্য তহবিলের ঘাটতি দেখা দেবে।

কী কী বন্ধ, কী কী খোলা?

‘শাটডাউন’-এ মার্কিন সরকারের অধিকাংশ দফতরের কাজই বন্ধ হয়ে যাবে। চালু থাকবে কেবল আপৎকালীন পরিষেবাগুলি। কোন কোন দফতর চালু থাকবে, কত জন কর্মীকে নিয়ে চলবে, তা আলোচনার মাধ্যমে স্থির করা হয়। যাঁরা ‘শাটডাউন’ চলাকালীনও কাজ করবেন, তাঁদের অধিকাংশই বেতন পাবেন না। ‘শাটডাউন’ শেষ হলে আবার তাঁদের বেতন দেওয়া হবে।

ট্রাম্প কী বললেন-

কত দিন এই ‘শাটডাউন’ চলতে পারে, তা স্পষ্ট নয়। ২০১৮ সালে ট্রাম্পের প্রথম দফায় মার্কিন প্রশাসন ৩৫ দিনের জন্য অচল হয়ে পড়েছিল। এখনও পর্যন্ত আমেরিকার ইতিহাসে সেটাই সবচেয়ে বড় ‘শাটডাউন’। তহবিল সংক্রান্ত আলোচনায় অগ্রগতি না-হওয়ায় ডেমোক্র্যাটদেরই দোষারোপ করছেন ট্রাম্প। তিনি ইতিমধ্যে গণছাঁটাইয়ের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। বলেছেন, ‘শাটডাউনের অনেক ভাল দিকও রয়েছে। আমরা যেগুলো চাই না, তেমন অনেক জিনিস ফেলে দিতে পারি। অনেককে ছাঁটাই করা হবে। তাঁরা প্রত্যেকেই হবেন ডেমোক্র্যাট।’

(Feed Source: zeenews.com)