
শান্তিপুরের বামা কালীর নাচ দেখে শরীরে শিহরণ জাগে না, এমন মানুষ বিরল! বামা মা-র দর্শন মেলা সৌভাগ্যের ব্যাপার। প্রতি বছরের মতো এ বছরও ‘বামা কালীর নাচ’ দেখে পুন্য়লাভ করেছেন ভক্তরা। কালী পুজোর দিন কয়েক আগেই বামা মা-এর অবয়ব এক নারী শরীরে ফুটিয়ে তুলেছিলেন রূপটান শিল্পী মুক্তি রায়।
মুক্তি রায়ের হাতে জাদু আছে, এমনটাই বলেন পরিচতরা। তাঁর হাতে রং-তুলির টানে জীবন্ত হয়ে উঠেছিলেন বামা মা। এই প্রথম নয়, এর আগে নৈহাটীর বড় মা-কে মানবীর দেহে ফুটিয়ে তুলেছিলেন সোদপুরের মেয়ে মুক্তি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অক্লান্ত পরিশ্রম আর সাধনা করে বামা মা-কে মানবীর দেহে ফুটিয়ে তুলেছিলেন মুক্তি। সেই নিয়ে যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছেন মুক্তি, তেমন সমালোচনাও কম ধেয়ে আসেনি।
কটাক্ষ, বিদ্রুপ, হুমকি- সবই জুটেছে কপালে। নেটপাড়ার একটা বড় অংশ মুক্তির এই কাজে মনোক্ষুন্ন হয়েছে। এক নেটিজেন জানান, ‘শান্তিপুরের মানুষ একটু আবেগ প্রবন …আবেগ টাকে ভিউ পাওয়ার আশায় এখানে ওখানে আঁকবেন না … মা মায়ের মতোই থাকুক’।
সোশ্যাল মিডিয়াতেই পালটা জবাব দেন মুক্তি। তিনি বলেন, ‘কাল যখন মেয়েদের মদ খেয়ে কিছু লম্পট জামা টানাটানি করছিল ভিড়ের মধ্যে তখন আপনার আবেগ কোথায় রেখেছিলেন? আমাকে কিছু মানুষ যখন মারার ধমকি দিয়েছিল আপনার আবেগ কোথায় ছিল? আপনি কি করেছেন শান্তিপুরের হয়ে? নিজেকে শান্তিপুরবাসী বলেন কি করেছেন আজ অবধি শান্তিপুরের জন্য নিজেকে প্রশ্ন করুন। আমার মতো শিল্পীকে মৃত্যুর হুমকি দিয়েছে কিছু লম্পট তখন কি করছিলেন? আপনাদের মতো কিছু মানুষ শুধু নেট রিচার্জ করে আবেগের কমেন্ট করতে পারে এর বেশি কিছু করতে পারে না। শিল্পীকে আপনি দমাবার কেউ নয় , মা যদি চায় একমাত্র তখনই দমবো’।
অনলাইন হুমকি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থও হয়েছেন এই রূপটান শিল্পী। মুক্তি জানান, ‘শান্তিপুরের যে সব লম্পটগুলো আমায় থ্রেট করছে, থানায় জিডি (জেনারেল ডায়রি) করাতে সবকটা আমায় ব্লক করছে , তোমরা স্ক্রিন গুলো নিয়ে রাখো। এরা শান্তিপুরের বুকে কলঙ্ক’।
বামাকালীর পুজা কমিটির সভাপতি অবশ্য জানান, ‘রূপটান শিল্পী মুক্তির কাজ আমার ভালো লেগেছে।’ সেই ভিডিয়ো শেয়ার করে মুক্তি লেখেন, ‘মা নিজের প্রচার কিভাবে করবেন তা আমরা কেউ বলতে পারি না। জয় বামা কালীর জয়।অনেক ভালোবাসা যারা আমার কাজকে এতটা ভালোবাসা দিয়েছো।’
শান্তিপুরের বামা কালী ৫০০ বছরের পুরনো। যা স্থাপন করা হয় বাঁশের মাচায়। প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় অসংখ্য ভক্ত মাচাটি কাঁধে নিয়ে লাফাতে শুরু করেন। মনে হয় যেন ভক্তদের সঙ্গে মা-ও নাচছে। এই দৃশ্য দেখার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে শান্তিপুরে ছুটে আসেন ভক্তরা। এবারও তাঁর অন্যথা হয়নি।
(Feed Source: hindustantimes.com)
