)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ওসামা বিন লাদেন (Osama bin Laden) নিয়ে বেরিয়ে এল এক চমকপ্রদ তথ্য। সিআইএ-এর (CIA) এক প্রাক্তন অফিসার দাবি করেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত সন্ত্রাসীদের একজন, ৯/১১ হামলার মাস্টারমাইন্ড ওসামা বিন লাদেন, মার্কিন বাহিনীর হাত থেকে বাঁচতে মহিলার ছদ্মবেশে (Laden escaped in woman’s disguise) আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে পালিয়েছিলেন। তাই নাকি? গল্পটা কী?
আল কায়দা দোভাষী
এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে, জন কিরিয়াকু (John Kiriakou), যিনি সিআইএ-তে (CIA) ১৫ বছর ধরে ছিলেন এবং পাকিস্তানে সিআইএ-এর সন্ত্রাস-দমন (counterterrorism) অভিযানের প্রধান ছিলেন, তিনি এই মন্তব্য করেছেন। তিনি আরও জানান যে, তাঁরা জানতেন না সেন্ট্রাল কমান্ডের কমান্ডারের দোভাষী আসলে একজন আল কায়দা অপারেটিভ যিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীতে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। কিরিয়াকু বলেন, আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, তোরা বোরা-তে আমরা ওসামা বিন লাদেন এবং আল কায়দা নেতৃত্বকে ঘিরে ফেলেছি!
অ্যাবোটাবাদে এক দশক
আমরা তাঁকে পাহাড় থেকে নেমে আসতে বলি। এবং তিনি দোভাষীর মাধ্যমে বলেন, ‘আপনারা কি আমাদের ভোর পর্যন্ত সময় দিতে পারেন? আমরা মহিলা ও শিশুদের সরিয়ে নিতে চাই, এবং তারপর আমরা নেমে এসে আত্মসমর্পণ করব।’ দোভাষী জেনারেল ফ্রাঙ্কসকে ওসামার এই আবেদনে সিলমোহর দিতে রাজি করান। ভোর হতেই, মার্কিন সেনারা আবিষ্কার করে যে, তাঁদের ধোঁকা দেওয়া হয়েছে! তোরা বোরার গুহাগুলি ছিল খালি। এরপর তাড়া শুরু হয় সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে, যেখানে বিন লাদেন ২০১১ সালে মার্কিন নেভি সীল অভিযানে অ্যাবোটাবাদে নিহত হওয়ার আগে প্রায় এক দশক লুকিয়ে ছিলেন। কিরিয়াকু রোমহর্ষক গল্পের শেষটাও বলেন। তিনি জানান, শেষ পর্যন্ত যা ঘটেছিল তা হল, বিন লাদেন এক নারীর ছদ্মবেশে আসেন এবং রাতের অন্ধকারে একটি পিকআপ ট্রাকের পেছনে চেপে পাকিস্তানে পালিয়ে যান।
এবং মুশাররফ
৯/১১ সন্ত্রাসী হামলায় ৩০০০ মানুষ নিহত হওয়ার পর আফগানিস্তানের তোরা বোরা পর্বতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আল-কায়দা সন্ত্রাসীদের কোণঠাসা করে ফেলেছিল। কিন্তু কীভাবে তারা পাকিস্তানে পালিয়ে যায় সেটা বলতে গিয়েই এই গল্প বেরিয়ে আসে। মার্কিন ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্নোত্তর ছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরে ২০১১ সালের মে মাসে উত্তর পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বের করে। ২ মে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস এক গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাকে হত্যা করে। প্রাক্তন সিআইএ কর্মকর্তা তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুশাররফের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা মূলত মুশাররফকে কিনে নিয়েছিলেন এবং তিনি আমাদের যা খুশি তাই করতে দিতেন! কিরিয়াকু বলেন, পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ছিল খুবই ভালো। তিনি আরও যোগ করেন, আমরা কোটি কোটি, কোটি কোটি ডলারের সাহায্য দিয়েছিলাম, তা সামরিক সাহায্যই হোক বা অর্থনৈতিক উন্নয়নে। এবং আমরা নিয়মিতভাবে মুশাররফের সঙ্গে সপ্তাহে বেশ কয়েকবার বৈঠক করতাম। তিনি আমাদের যা খুশি তাই করতে দিতেন।
(Feed Source: zeenews.com)
