
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মহারাষ্ট্রের (Maharastra) সাতারায় ২৮ বছরের চিকিৎসকের (Woman Doctor) মৃত্যুর তদন্তে নতুন মোড়। পুলিসের হাতে এসেছে এমন কিছু তথ্য, যা প্রমাণ করে মৃত্যুর আগেও তিনি অভিযুক্তদের মধ্যে এক জনের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলেন এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
জানা গেছে, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে ওই চিকিৎসক অভিযুক্ত প্রশান্ত ব্যাঙ্কারের বাড়িতে লক্ষ্মীপুজোয় (Laxmi Puja) যোগ দেন। সেখানেই দু’জনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে তিনি হোটেলে গিয়ে ওঠেন এবং সেখানেই তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
পরের দিন সকালে হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় চিকিৎসকের দেহ। তাঁর হাতের তালুতে লেখা বার্তায় ছিল – তিনি পুলিস সাব-ইন্সপেক্টর গোপাল বাদানেকে যৌন হেনস্তার অভিযোগে দায়ী করেছেন। একই সঙ্গে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ব্যাঙ্কারকেও মানসিক নির্যাতনের অভিযুক্ত করেন তিনি। দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সাতারা পুলিসের প্রধান তুষার দোশি জানিয়েছেন, মৃত চিকিৎসকের সঙ্গে অভিযুক্ত বাদানে ও ব্যাঙ্কারের মেসেজ আদান-প্রদানের প্রমাণ মিলেছে। মার্চ মাস পর্যন্ত বাদানের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল, তারপর বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু ব্যাঙ্কারের সঙ্গে যোগাযোগ চলছিল এবং মৃত্যুর আগের দিন তিনি ব্যাঙ্কারের বাড়িতেই ছিলেন। পরে হোটেলে গিয়ে ওঠেন। পুলিশ জানিয়েছে, বাদানের সঙ্গে তাঁর বিবাদ একটি বৈঠকের মাধ্যমে মিটিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
মহারাষ্ট্র মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রূপালি চাকণকর জানিয়েছেন, “লক্ষ্মীপুজোর দিন ওই চিকিৎসক ব্যাঙ্কারের বাড়িতে গিয়েছিলেন। ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে তর্ক (Photo Fight) হয়। রাগ করে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে ব্যাঙ্কারের বাবা তাঁকে ফিরিয়ে আনেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার তিনি বেরিয়ে গিয়ে এক লজে ওঠেন।”
তিনি আরও জানান, ‘ফোনের কলরেকর্ডে দেখা গেছে, চিকিৎসক মার্চ মাস পর্যন্ত বাদানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। তারপর আর কথা হয়নি। কিন্তু ব্যাঙ্কারের সঙ্গে মৃত্যুর আগের রাত পর্যন্ত মেসেজ আদান-প্রদান চলেছে। তিনি এমন বার্তাও পাঠিয়েছিলেন, যা থেকে বোঝা যায় তিনি চরম পদক্ষেপ নিতে চলেছেন।’ প্রাথমিক ময়নাতদন্তে আত্মহত্যা বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।
এও জানা গেছে, মৃত চিকিৎসক গত কয়েক মাস ধরে বাদানে এবং আরও কিছু পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ জানিয়েছিলেন, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চলতি বছরের ১৯ জুন তিনি ফলটনের ডেপুটি এসপি-র কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগ ছিল – কিছু পুলিশকর্মী তাঁকে জোর করে অপরাধীদের মিথ্যে ফিটনেস সার্টিফিকেট দিতে বাধ্য করছিলেন। এর পর পাল্টা অভিযোগে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধেই রিপোর্ট দায়ের করে, যাতে বলা হয় তিনি ‘মেডিক্যাল তদন্তে বাধা’ দিচ্ছেন।
তাঁর একাধিক অভিযোগে পরিষ্কার ছিল, তিনি প্রবল মানসিক চাপে ছিলেন। মৃত্যুর পর উত্তেজনা ছড়ায় সারা রাজ্যে। প্রতিবাদকারীরা অভিযোগ তুলেছেন, এটি একটি সুস্পষ্ট প্রশাসনিক ব্যর্থতা। তাঁদের মতে, বারবার অভিযোগ জানিয়েও তিনি ন্যায়বিচার পাননি, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে আত্মহত্যার পথে ঠেলে দিয়েছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী একে ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একজন ডাক্তারকে দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার শিকার হতে হল। যাদের জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার কথা, তাদেরই এক সদস্য তাঁকে চরম পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
অন্যদিকে, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ দাবি করেছেন, বিরোধীরা ‘রাজনীতি’ করছে। তিনি বলেন, “ঘটনার পরপরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রতিটি তথ্য প্রকাশ্যে আসছে। আমাদের ‘ছোট বোন’-এর জন্য ন্যায় না পাওয়া পর্যন্ত আমরা চুপ থাকব না।” এই ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন তরুণীর পরিবারের লোকজন। তাঁর বাবা দোষীদের ফাঁসি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
