
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিরাট কোহলি (Virat Kohli) এক্স হ্যান্ডেলে লিখলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে আমাদের দলের কী অসাধারণ জয়! মেয়েরা দুর্দান্ত রান তাড়া করল এবং বড় ম্যাচে জেমিমার অসাধারণ পারফরম্যান্স। স্থিতিস্থাপকতা, বিশ্বাস এবং আবেগের সত্যিকারের প্রদর্শন। ওয়েল ডান, টিম ইন্ডিয়া।’ আধুনিক ক্রিকেটের আইকন কোহলি একা নন, আজ গোটা দেশের বিরাট বন্দনায় শুধুই জেমিমা রড্রিগস (Jemimah Rodrigues)।
আলোয় আলোয় জেমিমা
অসাধ্যসাধন করেছে ভারতের মেয়েরা। সাতবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার দর্পচূর্ণ করে মহিলাদের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে হরমনপ্রীত কৌররা। অস্ট্রেলিয়ার ৩৩৮ রান তাড়া করে ভারত ৫ উইকেটে জিতে খেতাব যুদ্ধের ফিনিশিং লাইনে চলে এসেছে। একদিনের ক্রিকেটে ভারতের সর্বাধিক রান তাড়া করে জয়ের কারিগর হরমনপ্রীত (৮৮ বলে ৮৯) ও জেমিমা। লাইমলাইটে ২৫ বছরের মারাঠি মিডল অর্ডার তারকা জেমিমা। তিনে ব্যাট করতে নেমে শেষ পর্যন্ত ১৯৩ মিনিট ক্রিজে থেকে ১৩৪ বলে ১২৭ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। হাঁকিয়েছিলেন ১৪ চার। কঠিন পরিস্থিতিতেও হিমশীতল মস্তিষ্কে খেলে মুম্বইয়ের ভূমিকন্যার ইতিহাস লিখেছেন তাঁর জন্মভিটায়। দেশকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার পর থেকেই পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান হয়ে সাংবাদিক বৈঠক। জেমিমা শিশুর মতো অঝোরে কেঁদেই গিয়েছেন শুধু।
কঠিন লড়াই করেই
আবেগঘন জেমিমার রিলস এখন ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকে ঘুরছে। তবে আজও অনেকেই জানেন না যে, এই জেমিমাই কিন্তু অ্যাংজাইটির ‘অঝোরে’ কান্নাকে বদলেছেন আগুনে। ভয়ংকর ক্যাঙারু মারা ‘শেরনি’ খেলার শেষে সাংবাদিকদের সামনেও ভেঙে পড়েছিলেন। ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে, তিনি স্বীকার করেন যে অ্যাংজাইটির মধ্যে দিয়ে গিয়েছেন এবং প্রতিদিন কেঁদেছেন। জেমিমা বলেন, ‘বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল আমার পঞ্চাশ বা একশোর বিষয় নয়। এটা ভারতের হয়ে জেতার কথা। আমি জানি আমাকে কয়েকবার বাদ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ঈশ্বর আমাকে সারা জীবন আগলে রেখেছেন। গত বছর আমি এই বিশ্বকাপ থেকেই বাদ পড়েছিলাম। আমি ফর্মেও ছিলাম তবে এসব ঘটতেই থাকে। তবে আমার চারপাশে অসাধারণ সব মানুষ আছে। আমি অ্যাংজাইটির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম, রোজ কেঁদেছি আমি। আমার কাছে চ্যালেঞ্জ ছিল। আমাকে প্রতিদিন নিজেকে প্রমাণ করতে হয়েছে এবং ঈশ্বরই আমাকে সামলে নিয়েছেন।
নিছকই ক্রিকেটার নন
ক্রিকেটে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করার আগে, জেমিমা জুনিয়র-স্তরের হকিতে মহারাষ্ট্রের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। তিনি বাস্কেটবল এবং ফুটবলও খেলেছেন। এই প্রসঙ্গে একবার বলেছেন, ‘একাধিক স্পোর্টস আমার অনেক সাহায্য হয়েছে। এর সঙ্গে ফিটনেসেরও একটা অংশ আছে। হকিতে প্রচুর দৌড়তে হয়, কব্জির প্রচুর পরিশ্রম জড়িয়ে। যা আমার ক্রিকেট খেলায় সাহায্য করেছে। কিন্তু মানসিক ভাবেও আমাকে বিভিন্ন পরিস্থিতি, বিভিন্ন অবস্থার সঙ্গে অভ্যস্ত করে দেয়। হয়তো ক্রিকেটের মতো নয়, তবে মনেরও প্রশিক্ষণ হয়। পরিস্থিতি ভিন্ন কিন্তু চাপ একই রকম। যা ক্রিকেট খেলায় থাকে।’October 30, 2025
জেমিমার বাবার অঝোরে কান্না
জেমিমা বান্দ্রার এমআইজি ক্রিকেট ক্লাবে ৪০০-৫০০ ছেলের মধ্যে একজনই মেয়ে ছিলেন, যিনি ক্রিকেট অনুশীলন করতেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে ছেলেদের দ্রুত গতির বোলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা এবং আত্মবিশ্বাস বিকাশে সাহায্য করেছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে জেমিমা ঘরোয়া ৫০ ওভারের ম্যাচে দ্বিশতরান করা মাত্র দ্বিতীয় ভারতীয় মহিলা ছিলেন। ২০১৭ সালে সৌরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিনি অপরাজিত ২০২ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। জেমিমার বাবা ইভান রড্রিগস, একজন জুনিয়র ক্রিকেট কোচ। জেমিমাকে চার বছর বয়স থেকে ক্রিকেট খেলা শুরু করান, তখন থেকে বাবাই মেয়ের প্রধান পরামর্শদাতা ছিলেন। এমনকী জেমিমার স্কুলে একটি মেয়েদের ক্রিকেট দলও তৈরি করেছিলেন ইভান, যাতে মেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ভাবে খেলতে পারে। ২০২৪ সালে জেমিমার বাবার দ্বারা আয়োজিত ধর্মীয় সমাবেশকে ঘিরে বিতর্কের কারণে মুম্বইয়ের খার জিমখানায় জেমিমার সম্মানসূচক সদস্যপদ বাতিল করা হয়। ২০২২ সালে ভারতের ওডিআই বিশ্বকাপ দল থেকেও তাঁকে বাদ দেওয়া হয়। ঝড়ের পর ঝড় সামলেই মেয়ে আজ নিজেই তুফান। দেশকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার পর জেমিমার বাবা মেয়েকে জড়িয়ে অঝোরে কেঁদেছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
