
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আধুনিক দুনিয়ায় লড়াই এখন আর ফাইটার জেট, বোমা আর মিসাইলে সীমাবদ্ধ নেই। প্রথাগত লড়াইয়ের পরিবর্তে চলে এসেছে অত্যাধুনিক ড্রোন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে বড় ভূমিকা নিয়েছে বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন। তবে সবাইকে চমকে দিয়ে এবার বাজারে চলে এসেছে মাইক্রো ড্রোন। এই ড্রোন এতটাই ছোট যে তালুর মধ্যে থেকে যেতে পারে। তার পরও এটি বড় কোনও ড্রোনকে হার মানাতে পারে খুব সহজেই।
কতটা ছোট
এই ক্ষুদ্র আনম্যানড এরিয়েল ভেহিক্যালের(UAV) ওজন কয়েক শো গ্রাম থেকে ২ কিলোগ্রাম হতে পারে। এই ড্রোনের মধ্যে থাকে ক্যামেরা, সেন্সর ও ক্ষুদ্র মোটর। অনেক উচ্চতায় উড়ে এটি নজরদারি চালাতে পারে খুব সহজেই। গোয়ন্দাগিরি ও নজরদারির জন্যই তৈরি করা হয়েছে এই উন্নত ড্রোন। শত্রু সীমানায় ঢুকে এই ড্রোন কারও লোকেশন ট্র্যাক থেকে শুরু করে ছবি তোলা এমনকি শত্রু সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য আনতে পারে।
ড্রোন আর্মি
কয়েকশো ড্রোন একসঙ্গে কাজ করতে পারে। তখন ওইসব ড্রোনই হয়ে উঠতে পারে ড্রোন আর্মি। এরা একসঙ্গে শত্রুকে আক্রমণ করতে পারে বা শত্রু সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এনে দিতে পারে। বর্তমানে সার্ভেলেন্স সিস্টেমে বা রেডারে এই ড্রোনের ঝাঁককে খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে এই ধরনের ড্রোনকেই ভবিষ্যতের য়ুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র বলে মনে করা হচ্ছে।
ডেথ সোয়ার্ম
দুনিয়া অধিকাংশ উন্নত দেশে যেমন আমেরিকা, রাশিয়া, ইরান, চিন, তুর্কিয়ে, ইজরায়েল তাদের সেনাবাহিনীতে এই মাইক্রো ড্রোনকে অন্তর্ভূক্ত করেছে। সম্প্রতি এরকমই একটি ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের বিশাল এলাকায় বিদ্যুত্ সরবারহ বিকল করে দিয়েছিল। মাইক্রো ড্রোনের এরকম হামলাকে বলা হয় ডেথ সোয়ার্ম।
কীভাবে কাজ করে
পুরোপুরি এআই দ্বারা পরিচালিত হয় এইসব ড্রোন। প্রতিটি ড্রোন কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত থাকে। প্রতিটি ড্রোন স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষমতা রাখলেও তারা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে। আগে ঠিক করে নেওয়া হয় মিশন প্ল্যান। তারপর ঝাঁকে ঝাঁকে ওইসব ড্রোনকে শত্রু সীমানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। শত্রুর আকাশসীমার ছেড়ে দেওয়ার পরপরই এটি নিজে নিজে টার্গেট চিহ্নিত করে, তাদের উপরে হামলা চালায় কিংবা শত্রু সম্পর্কে খবর পাঠায়। মিশনে একটি ড্রোন ধ্বংস হলেও কোনও সমস্যা হয় না। অন্য ড্রোনগুলি কাজ করে যায়। এই সোয়ার্ম টেকনোলজি দুনিয়ার যুদ্ধের চিত্রটাই বদলে দিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
